এমন সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন সাইফ

দারুণ ইনিংস খেললেন সাইফ, কিন্তু বৃথা গেলোচোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারেননি বলে কত কথাই না শুনতে হয়েছিল মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে! অজিদের মোকাবিলার সাহস নাকি ছিল না তার মনে। এই সমালোচকদের জবাব দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের এই বোলিং অলরাউন্ডারের সামনে। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে সেটা লুফে নিতে পারলেন না তিনি।

৪৮তম ওভারের শেষ বলে মোস্তাফিজুর রহমান বোল্ড হতেই বিষণ্ন হয়ে স্কোরবোর্ডের দিকে তাকালেন সাইফউদ্দিন। আর ২৮টি রান! আনমনে কী যেন ভাবছিলেন। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক বিরাট কোহলি এসে বাহবা দিলেন। তবুও সেদিকে নজর নেই। এদিক-ওদিক আবারও তাকালেন। ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলানোর সৌজন্যতাও ভুলে গেলেন। পেছন থেকে রোহিত শর্মা কাঁধে হাত রাখলেন, হয়তো বলছিলেন- ‘ভালো খেলেছ, চালিয়ে যাও।’

ভালোই খেলেছেন সাইফ। সাকিব আল হাসান আউট হওয়ার পর তার ব্যাটেই কিছুক্ষণ লড়াই করেছিল বাংলাদেশ। এমনকি জয়ের ফিঁকে আশাটুকু আবার জ্বলতে শুরু করেছিল। দলীয় ১৭৯ রানে সাকিবের আউটের পর আট নম্বরে ব্যাট করতে নামেন সাইফ। সপ্তম উইকেটে সাব্বির রহমানের সঙ্গে তার ৬৬ রানের জুটি আশা জাগায়। মাশরাফি মুর্তজার সঙ্গে ১২ রানের ছোট জুটির পর রুবেল হোসেনের সঙ্গে ২৯ রানের জুটি ছিল দারুণ। কিন্তু জসপ্রিৎ বুমরাহর শেষ ওভারে পরপর রুবেল ও মোস্তাফিজ ফিরে যেতেই বিফলে যায় তার ৩৮ বলে ৯ চারে সাজানো ৫১ রানের লড়াকু ইনিংস।

লড়াই করেও দলকে জেতাতে না পারার হতাশা সাইফের কণ্ঠে, ‘দিনটা খারাপ গেলো। আমরা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছি। ম্যাচ জেতানোর চেষ্টা ছিল। এরকম একটা সুযোগের জন্য সব সময় অপেক্ষায় ছিলাম। ইচ্ছা ছিল হিরো হওয়ার। আমার ব্যাটে-বলে হচ্ছিল। আমার আত্মবিশ্বাস ছিল যে আমি আজ পারবো। দুর্ভাগ্যবশত হয়নি। খারাপ দিন ছাড়া কিছু না।’

বুমরাহকে চার মেরে ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে বুক চাপড়ে হাফসেঞ্চুরি উদযাপন করেন সাইফ। এমন উদযাপনের কারণ জানালেন তিনি কোনও রাখঢাক না রেখে, ‘কিছুদিন আগে আমাকে নিয়ে একটা বাজে নিউজ হয়েছিল, আমি বড় ম্যাচের আগে নাকি ভয় পেয়ে ইনজুরির অজুহাতে সরে গিয়েছি। আমার খুব খারাপ লেগেছিল। তখন থেকে আমার পরিকল্পনা ছিল আমি বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ জিতিয়ে হিরো হবো। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম বল থেকে শেষ পর্যন্ত আমার ইচ্ছা ছিল ম্যাচ জেতানোর। আমি চেষ্টা করেছি আমার নামে যেসব কথা উঠেছিল সেগুলো ভুল প্রমাণ করার।’