চাহিদা অনুযায়ী উইকেট না পাওয়ার হতাশা সাকিবের

সাকিব-১আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে প্রত্যাশামতো উইকেট না পাওয়ার ‘অভিযোগ’ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের। উইকেটের আচরণে রীতিমত বিস্মিত তিনি। সাকিব চেয়েছিলেন টার্নিং উইকেট, যাতে বাংলাদেশের ফিঙ্গার স্পিনাররা সাফল্য পান। কিন্তু হয়েছে উল্টো। অনেকটা ফ্লাট উইকেটে আফগানিস্তানের বৈচিত্র্যময় রিস্ট স্পিনাররা উইকেট থেকে সুবিধা তুলে নিয়ে পেয়েছেন সাফল্য।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে পরোক্ষভাবে উইকেটরই ‘দোষ’ দিলেন সাকিব। শুক্রবার দিনশেষে ১৯২ রান তুলতেই বাংলাদেশ হারিয়েছে ৮ উইকেট। যার বেশিরভাগ উইকেটই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ‘কল্যাণে’ পেয়েছেন আফগান বোলাররা। প্রথম দিন যেখানে বাংলাদেশের স্পিনারদের অবলীলায় খেলেছেন আফগান ব্যাটসম্যানরা, সেখানে একই উইকেটে একদিন পর পুরোপুরি ব্যর্থ সাকিব-মুশফিকরা!

তাহলে কি উইকেটের কারণেই এমন অবস্থা? সাকিবের উত্তর, ‘আমরা আসলে সবাই বেশ অবাক হয়েছি। কারণ আমরা এমন উইকেট আশা করিনি। আমরা যা আশা করেছিলাম, তার উল্টো হয়েছে। তার মানে এই নয় যে, আমরা ভালো কিছু করতে পারব না। অনেক সময় পরিকল্পনা ঠিকভাবে নাও হতে পারে। বড় দলগুলোর এখানেই নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ থাকে। চেষ্টা করব সেই উত্তরগুলো আমরা যেন দিতে পারি। তবে অবশ্যই উইকেট আমাদের প্রত্যাশার বাইরে ছিল।’

যদিও সাকিব সরাসরি উইকেট নিয়ে নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার কথা জানাতে চাইলেন না, ‘আসলে আমি চাওয়া-পাওয়াগুলো কখনোই চাই না যে ডিসক্লোজ হোক। গোপনীয়তার সঙ্গে মিটিং ও প্ল্যানিংগুলো হয়। আমি কখনোই চাইব না যে এই প্ল্যানিংগুলো জানাজানি হোক। তবে আমি যেটি বললাম, উইকেট নিয়ে যে প্রত্যাশা করেছিলাম, সেটা আমরা পাইনি।’

পুরোপুরি টার্নিং না হলেও এই উইকেট থেকে সাফল্য পেয়েছেন আফগান স্পিনাররা। সেই অর্থে বাংলাদেশের স্পিনাররা ছিলেন অনেকটাই অসহায়। দুই দলের স্পিনারদের পার্থক্য নির্ণয় করতে গিয়ে সাকিব বলেছেন, ‘আমাদের ফিঙ্গার স্পিনার আর ওদের রিস্ট স্পিনার- এটাই পার্থক্য। এছাড়া আর কোনও পার্থক্য দেখি না। নবী ভাই বোলিং করেছে, দুটি উইকেট পেয়েছে। আমাদের কিন্তু ফিঙ্গার স্পিনাররাই ১০ উইকেট পেয়েছে। আর ওদের রিস্ট স্পিনাররাই বেশি কার্যকরী ছিল। যেহেতু আমাদের রিস্ট স্পিনার নেই, এমন ফ্লাট উইকেটে রিস্ট স্পিনার না থাকলে কঠিন হয়ে যায়। আর যেহেতু আমরা এই ধরনের উইকেট আশা করিনি, তাই আমাদের ফিঙ্গার স্পিনারদের জন্য কাজটা কঠিন।’

দুই দিন শেষে দলের পারফরম্যান্সে হতাশ কিনা, এমন প্রশ্নে সাকিবের উত্তর, ‘হতাশ তো অবশ্যই। তবে এখন আসলে এসব নিয়ে আলোচনা করে কিংবা চিন্তা করে লাভ নেই। আমরা যে চিন্তা নিয়ে দল গড়েছিলাম, তেমন উইকেট পাইনি। কিছু জিনিস আপনি চাইতেই পারেন, কিন্তু সেটা যে পাবেন, এটা প্রত্যাশা করা ভুল।’

সঙ্গে যোগ করলেন, ‘এই উইকেটের আচরণ ফিঙ্গার স্পিনারদের জন্য খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। রিস্ট স্পিনাররা সবসময় হেল্প পাবে। যেহেতু ওদের (আফগানিস্তান) ভ্যারাইটি আছে, তাই তাদের একটু সুবিধা অবশ্যই থাকবে।’ 

১৮ ওভার বল করে ৪৭ রান খরচায় লেগ স্পিনার রশিদ খান পেয়েছেন ৪ উইকেট। রশিদের বোলিং মূল্যায়ণ করলেন সাকিব এভাবে, ‘উইকেটের কারণে সে (রশিদ) একটু বেশি কার্যকর ছিল। এর বড় কারণ হচ্ছে, ওর বোলিং একটু নিচু ছিল এবং সে একটু জোরে বোলিং করলে ব্যাটসম্যানরা খেলতে সমস্যায় পড়েছে। যেটা রিয়াদ ভাই ও লিটনের ক্ষেত্রে হয়েছে।’