বাংলাদেশ প্রথমবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির স্বাদ পেয়েছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলে। শুক্রবার এই আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে দশমবার মাঠে নামবে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ানদের বিপক্ষে এর আগে প্রত্যেকবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছিল তারা, এবার প্রথম ত্রিদেশীয় সিরিজে দুই দল যেখানে আরেক প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটীয় দ্বৈরথে দুই দলের মধ্যে খুব বেশি তফাত নেই, ৯ ম্যাচে ৫-৪ এ এগিয়ে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে তাদের আগের মুখোমুখি লড়াই ফিরে দেখা যাক-
একমাত্র টি-টোয়েন্টি: ১-০ তে বাংলাদেশ জয়ী
খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। প্রসপার উতসেয়া ও গ্যারি ব্রেন্টের বোলিংয়ে ১৯.৫ ওভারে ১৬৬ রানে অলআউট হয় তারা। এরপর আব্দুর রাজ্জাকের দুর্দান্ত ঘূর্ণিতে জিম্বাবুয়ানদের ৯ উইকেটে ১২৩ রানে থামায় স্বাগতিকরা।
অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস (২৫) ও আফতাব আহমেদের (২৮) দ্বিতীয় উইকেটের ৫৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেয়। তবে মিডল অর্ডারের ধসের পর মাশরাফি মুর্তজার ২৬ বলে ৩৬ রানের ঝড় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সাকিব আল হাসান করেন ২৬ রান।
জিম্বাবুয়ের পক্ষে উতসেয়া ৩টি ও ব্রেন্ট দুটি উইকেট নেন।
লক্ষ্যে নেমে কেবল হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও শন উইলিয়ামসের ৫৪ রানের জুটি কেবল প্রতিরোধ গড়েছিল। উইলিয়ামস ৩৮ ও মাসাকাদজা ৩৫ রান করেন। রাজ্জাক সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। শাহাদাত হোসেন পান দুটি। ম্যাচসেরা হন মাশরাফি।
দুই ম্যাচের সিরিজ: ১-১ এ সমতা
বুলাওয়েতে শামসুর রহমান ও সাকিব আল হাসানের হাফসেঞ্চুরির পর মুশফিকুর রহিমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পরও বাংলাদেশ জিততে পারেনি। ৬ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পায় জিম্বাবুয়ে।
স্বাগতিকরা টস জিতে ব্যাট করতে নেমে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ৪৮ বলে ৫৯ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৬৮ রান করে। এছাড়া ব্রেন্ডন টেলরের ২৫ বলে ৪০ রান ও ম্যালকম ওয়েলারের ১৪ বলে অপরাজিত ২৬ রান উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
সাকিব সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেওয়ার পর ১১৮ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন শামসুরকে নিয়ে। উতসেয়ার জোড়া আঘাতে সাকিব ৬৫ ও শামসুর ৫৩ রানে ফিরে গেলে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন মুশফিক। শেষ ওভারে ১০ রানের প্রয়োজন থাকতে প্রথম বলে তিনি আউট হন। আর পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ। ১৪ বলে ২৮ রান করেন মুশফিক। ৮ উইকেটে ১৬২ রানে থামে বাংলাদেশ।
তিনাশে পানিয়াঙ্গারা ৩টি ও উতসেয়া দুটি উইকেট পান। ম্যাচসেরা হন মাসাকাদজা।
তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের দারুণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১৬৮ রান করে। তামিম ৩০ বলে ৪৩ এবং সাকিব ২৮ বলে করেন ৪০ রান। এছাড়া নাসির হোসেনের ২৭ রান অবদান রাখে।
লক্ষ্যে নেমে ভুসি সিবান্দা ((৩২) ও সিকান্দার রাজা (৩১) ছাড়া আর কোনও ব্যাটসম্যান ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সাকিব ও আব্দুর রাজ্জাকের ঘূর্ণিতে টালমাটাল হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। ৯ উইকেটে ১৩৪ রানে থামে স্বাগতিকরা। চারটি নেন সাকিব, দুটি করে পান রাজ্জাক ও শফিউল ইসলাম। ম্যাচসেরা হন সাকিব।
দুই ম্যাচের সিরিজ: ১-১ এ সমতা
মিরপুরে আগে ব্যাট করতে নেমে পেসারদের তোপে পড়ে জিম্বাবুয়ে ১৯.৩ ওভারে গুটিয়ে যায় ১৩১ রানে। ম্যালকম ওয়েলার সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন ৩১ বলে চারটি চার ও ছয়টি ছয়ে। মাশরাফি মুর্তজা, মোস্তাফিজুর রহমান, আল আমিন হোসেন ও যুবায়ের হোসেন নেন দুটি করে উইকেট।
লক্ষ্যে নেমে ৮০ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ জিতে যায় ১৪ বল হাতে রেখে। তামিম ইকবাল ইনিংস সেরা ৩১ রান করেন। মাহমুদউল্লাহ ২২ ও মাশরাফি মুর্তজা ১৫ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জেতান। ১৭.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৬ রান করে বাংলাদেশ। গ্রায়েম ক্রেমার তিনটি ও তেন্দাই চিসোরো দুটি উইকেট পান। জিম্বাবুয়ে হারলেও ম্যাচসেরা হন তাদের ওয়েলার।
দুই ম্যাচের সিরিজের শেষটিতে জিম্বাবুয়ে পাল্টা জবাব দেয়। বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে ১৩৫ রানে থামানোর পর ১ বল বাকি থাকতে জিতে যায় তারা। ৩৯ রানে ৫ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ানদের জয় এনে দেন ওয়েলার (৪০) ও লুক জংবে (৩৪)। ১৯.৫ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩৬ রান করে তারা।
মিরপুরে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে ৫১ বলে ৪৭ রানের সেরা ইনিংস খেলেন এনামুল হক বিজয়। এছাড়া তামিম ইকবাল করেন ২১ রান। জিম্বাবুয়ের পক্ষে তিন উইকেট নেন তিনাশে পানিয়াঙ্গারা। দুটি করে পান নেভিল মাদজিভা ও গ্রায়েম ক্রেমার।
লক্ষ্যে নেমে আল আমিন হোসেনের তোপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত জংবে ও ওয়েলারের দারুণ ব্যাটিংয়ের পর মাদজিভার ১৯ বলে ২৮ রানের ঝড়ে জিতে যায় তারা। ম্যাচসেরা হন তিনি। বাংলাদেশের পক্ষে তিন উইকেট নেন মাদজিভা।
চার ম্যাচের সিরিজ: ২-২ এ সমতা
খুলনায় হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ভুসি সিবান্দার ১০১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বড় স্কোরের আভাস দেয় জিম্বাবুয়ে। কিন্তু অন্যদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৭ উইকেটে ১৬৩ রানে থামে তারা। মাসাকাদজা ৭৯ ও সিবান্দা ৪৬ রান করেন। আল আমিন হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন।
বড় লক্ষ্যে নেমে সাব্বির রহমানের ৩৬ বলে ৪৬ রানের ইনিংস কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তামিম ইকবালের ২৯, মুশফিকুর রহিমের ২৬ ও সাকিব আল হাসানের অপরাজিত ২০ রান দলকে এনে দেয় সহজ জয়। ১৮.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান করে বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা হন মাসাকাদজা।
খুলনায় তামিম ইকবাল (২৩) আবারও ব্যর্থ হলে সাব্বির রহমান ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে লড়াই করার স্কোর জমা হয় বোর্ডে। সাব্বির ৩০ বলে ১ চার ও ৩ ছয়ে ৪৩ রান করেন। ৩৩ বলে চারটি চার ও তিনটি ছয়ে ৪৩ রান করেন সৌম্য। শেষ দিকে মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের ২৪ ও ২৭ রান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে বাংলাদেশকে ৩ উইকেটে ১৬৭ রান এনে দিতে।
ব্যাটিংয়ে যৌথ সেরা রান করে সাব্বির বল হাতেও দুর্দান্ত। মাত্র ২.১ ওভারে ৩ উইকেট নেন তিনি। তাতে ৮ উইকেটে ১২৫ রানে থামতে হয় জিম্বাবুয়েকে। তাদের মাসাকাদজা ৩০ ও ওয়েলার ২৯ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে দুই উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান। ম্যাচসেরা হন সাব্বির।
ম্যালকম ওয়েলার আবার জ্বলে ওঠেন। খুলনায় তার ২৩ বলে ৪৯ রানের ইনিংস জিম্বাবুয়েকে এনে দেয় বিশাল সংগ্রহ। ৬ উইকেটে তারা করে ১৮৭ রান। এছাড়া ভুসি সিবান্দা ৩৩ বলে ৪৪ রান করেন। শন উইলিয়ামসের ৩২ রানও দারুণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন সাকিব, দুটি পান আবু হায়দার।
এবারও সাব্বির ইনিংস সেরা পারফর্ম করেন। কিন্তু তার ৩২ বলে ৫০ রানের ইনিংস জেতাতে পারেনি বাংলাদেশকে। শেষ দিকে নুরুল হাসান ১৭ বলে ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন। জিম্বাবুয়ের ক্রেমার সর্বোচ্চ ৩টি এবং সিকান্দারা রাজা নেন দুটি উইকেট। ম্যাচসেরা হন ওয়েলার।
হ্যামিল্টন মাসাকাদজার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটে ১৮০ রান করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ১৯ ওভারে ১৬২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
৫৮ বলে ৮ চার ও ৫ ছয়ে ৯৩ রানে অপরাজিত ছিলেন মাসাকাদজা। এছাড়া রিচমন্ড মুতুম্বামি ৩২ ও ম্যালকম ওয়েলার ৩৬ রান করেন। বড় লক্ষ্যে নেমে মাত্র ৫৩ রানে ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। মাহমুদউল্লাহ ৫৪ রান করে প্রতিরোধ গড়েছিলেন। কিন্তু নেভিল মাদজিভা ও তেন্দাই চিসোরোর তোপ সামলে জিততে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। চারটি উইকেট পান মাদজিভা ও তিনটি নেন চিসোরো। ম্যাচসেরা হন মাসাকাদজা।