সোমবার বেলা আড়াইটায় ক্রিকেটাররা জড়ো হতে থাকেন মিরপুর স্টেডিয়ামের ইনডোরে। প্রায় ৫০ জনের একটি দল স্টেডিয়াম সংলগ্ন ক্রিকেট একাডেমিতে আসেন তিনটার পরে। এরপরই ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হিসেবে ধর্মঘটের ঘোষণা দেন সাকিব আল হাসান। এরপর একে একে নিজেদের দাবিগুলো তুলে ধরেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাঈম ইসলাম, এনামুল হক জুনিয়র, এনামুল হক বিজয়, তাসকিন আহমেদ, জুনায়েদ সিদ্দিক ও ফরহাদ রেজা।
ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়ে সাকিব বলেন, ‘আমাদের ১১ দফা দাবি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্রিকেট থেকে দূরে থাকবো। জাতীয় দল, প্রথম শ্রেণি সহ সব ক্রিকেটার এই ধর্মঘটের অন্তর্ভুক্ত।’
এরই মধ্যে বিসিবির পরিচালক সহ বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগযোগ করতে ব্যর্থ হয় বিসিবি। আন্দোলনের সঙ্গে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকা এক ক্রিকেটার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার পরই ফোন বন্ধ রেখেছিলাম। এটা আমাদের পরিকল্পনার অংশ ছিল।’
ক্রিকেটারদের আন্দোলনের ঘোষণার পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরে জরুরি বোর্ড সভায় বসেন বিসিবি কর্মকর্তারা। সভা শেষে সংবাদ মাধ্যমকে বোর্ড প্রধান বলেন, ‘খেলোয়াড়রা আমাদের না জানিয়ে তাদের দাবির কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছে। এতে আমি বিস্মিত। আমি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। খুব দ্রুত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করা হবে।’ শুধু তাই নয়, ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও কথা বলেন নাজমুল হাসান। সংবাদ সম্মেলনে বোর্ড প্রধানের শরীরী ভাষায় মনে হচ্ছিল, তারা যেন যুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন! বোর্ড প্রধানের আক্রমণাত্মক কথার কারণে ঘোলাটে হয়ে পড়ে পরিস্থিতি।
‘আজ কী হবে?’ এমন শঙ্কা নিয়ে বুধবার সকালে ঘুম ভাঙ্গে ক্রিকেটপ্রেমীদের। সকাল ১১টায় বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন ক্রিকেটারদের আলোচনার আহ্বান জানানোর পর মিরপুরের আকাশের মেঘ কিছুটা হলেও কাটতে শুরু করে। বেলা ১২টার দিকে নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যান বোর্ড প্রধান। গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদ মাধ্যমকে দাবিগুলো মেনে নেওয়ার কথা জানান নাজমুল হাসান। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের আলোচনায় বসায় আহ্বান জানিয়ে ফিরে আসেন মিরপুরে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নিজেদের মধ্যে কিছুক্ষণ আলোচনার পর মিরপুরে ক্রিকেট বোর্ডে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সাকিবরা। গুলশান থেকে ক্রিকেটাররা রাত ৯টার দিকে পৌঁছান মিরপুরে, আর মিটিং শুরু হয় সাড়ে ৯টায়। প্রায় দুই ঘন্টা মিটিংয়ের পর সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ।
৬০ ঘণ্টার ধর্মঘট শেষে ক্রিকেটাররা বৈঠকে বসেছেন আবার। যেখানে নিজেদের ঐক্য বজায় রাখার প্রতিজ্ঞা জানিয়ে ঘরে ফিরেছেন সাকিব-তামিমরা।