ইমরুলের হাফসেঞ্চুরিতে জয়ে ফিরলো চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের উইকেট উদযাপন। বোলারদের পর ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সে জয় পেয়েছে তারাঘরের মাঠের শেষ ম্যাচে হারতে হয়েছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে। চট্টগ্রাম পর্ব শেষে বঙ্গবন্ধু বিপিএল ঢাকা ফিরতেই অবশ্য জয়ে ফিরেছেন ইমরুল কায়েসরা। তার অপরাজিত হাফসেঞ্চুরিতেই ঢাকা প্লাটুনকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রাম। ঢাকার ৯ উইকেটে করা ১২৪ রান মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে টপকে গেছে বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটি।

আগের ম্যাচে রংপুর রেঞ্জার্সের কাছে হারতে হয়েছিল চট্টগ্রামকে। অন্যদিকে সিলেটকে হারিয়ে টানা দুই ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নেমেছিল ঢাকা। তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ে জয় হয়েছে চট্টগ্রামের। বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ইমরুলের কার্যকরী ব্যাটিংয়ে সহজ জয় নিশ্চিত করেছে তারা।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকা ওপেনিং জুটিতে ৩২ রান যোগ করে ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু পরের ৩৬ রান তুলতেই তারা হারায় ৭ উইকেট! ওপেনার এনামুল হককে (১৪) দিয়ে শুরু, এরপর রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন তিন ব্যাটসম্যান- মেহেদী হাসান, শহীদ আফ্রিদি ও শাদাব খান। জাকের আলী (৩) ও থিসারা পেরেরাও (৬) যেতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘরে।

তামিম ইকবাল চেষ্টা করেও ব্যর্থ, ২৭ বলে ২১ রান করেছেন এই ওপেনার। সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝে দলীয় সর্বোচ্চ ৩২ রান আসে মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে। চার নম্বরে নেমে ৩৪ বলের ইনিংসটি সাজান ৩ বাউন্ডারিতে। তবে ঢাকার রান ১২৪ পর্যন্ত নিয়ে যেতে বড় অবদান ওয়াহাব রিয়াজ ও মাশরাফি মুর্তজার। ওয়াহাব ১৫ বলে ২ ছক্কায় করেন ২৩, আর মাশরাফি ১২ বলে ৩ বাউন্ডারিতে অপরাজিত থাকেন ১৭ রানে।

ঢাকাকে অল্পতে আটকে রাখার পথে রায়ান বার্ল ছিলেন দুর্দান্ত। ১ ওভারে মাত্র ১ রান দিয়ে জিম্বাবুইয়ান স্পিনারের শিকার ২ উইকেট। মুক্তার আলী ৪ ওভারে ১৮ রান খরচায় পেয়েছেন ২ উইকেট।

সহজ লক্ষ্যে ২৫ রানে দুই ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী (৮) ও লেন্ডল সিমন্সকে (১৫) হারালে শঙ্কা জন্মে চট্টগ্রামের। যদিও ইমরুলের চমৎকার ব্যাটিংয়ে কেটে যায় সব শঙ্কা। চ্যাডউইক ওয়ালটন ২৫ ও বার্ল ১৩ রান করে আউট হলেও দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন ইমরুল। মাহমুদউল্লাহর চোটের কারণে পাওয়া অধিনায়কের দায়িত্ব দারুণভাবে সামলে ৫৩ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ে অপরাজিত তিনি ৫৪ রানে। ৮ বল আগে জয় নিশ্চিতের সময় নুরুল হাসান অপরাজিত থাকেন ৫ রানে।

অল্প পুঁজি নিয়েও দারুণ বোলিং করেছেন মাশরাফি। ঢাকার অধিনায়ক ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচায় পেয়েছেন একটি উইকেটও। ওয়াহাবও ছিলেন কার্যকরী, ৩.৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে তার শিকার ২ উইকেট। এরপরও ঢাকার হার ঠেকাতে পারেননি তারা।