কোচের দাবি অনুযায়ী সিলেট দলটির স্থানীয় ক্রিকেটাররা কেউই ইংরেজি বুঝতে পারেন না, কথা শুনে তারা শুধু মাথা নাড়েন! কিন্তু তিনি কী বলতে চাইছেন সেটি বুঝতে পারেন না। এ কারণেই দলের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনতে পারছেন না। এসব নিয়ে কিছুটা বিরক্ত গিবস। এমনকি এও বলেছেন, পরের বছর বাংলাদেশে এলে বাংলা শিখে আসবেন।
এবার এই বঙ্গবন্ধু বিপিএলে সবচেয়ে হতশ্রী পারফরম্যান্স সিলেট থান্ডারের। আট ম্যাচের সাতটিতেই তারা হেরেছে। দলের এমন বিপর্যয় প্রসঙ্গে গিবস বুধবার সামনে এনেছেন ভাষাগত দূরত্বকে, ‘স্থানীয় ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হলো, তাদের অনেকেই ইংরেজি বোঝে না। তাদের অনেক কিছুই বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে। খুবই হতাশাজনক। আমি যখন কথা বলি, তারা শোনে। কিন্তু দেখেই বুঝতে পারছি যে এসব তাদের মাথায় ঢুকছে না। বুঝতে পারছে না। খেলাটা নিয়ে তাদের সার্বিক বোঝাপড়াটা আরও বাড়াতে হবে। একটা বড় ব্যাপার, তারা খুবই টেম্পারামেন্টাল। ওদের কাছে কিছু ব্যাখ্যা করাই কঠিন। কারন তারা বুঝতেই পারে না।’
রুবেল মিয়ার উদহারণ টেনে গিবস বলেন, ‘সেদিন রুবেল মিয়া ব্যাটিং ওপেন করেছে। এক পর্যায়ে তার রান ছিল ২৮ বলে ১৪। টাইম আউটের সময় আমি মাঠে গিয়ে তাকে বললাম, ‘হচ্ছেটা কি? ২৮ বলে ১৪ রান!’ সে শুনে শুধু মাথা নাড়ল। আমি বুঝতে পারলাম, আমি ওকে যা বোঝাতে চেয়েছি তার কিছুই বুঝতে পারেনি। এটা তার দোষ নয়, কিন্তু বাস্তবতা। এমন ভাষাগত সমস্যার কারণেই আমরা পারছি না।’
সিলেট দলের স্থানীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে গিবস নিজের হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারেননি, ‘২৮ বা ২৫ বলে ১৪ রান করলে আমাকে সেখান থেকে চালিয়ে যেতে হবে, পুষিয়ে দিতে হবে, এটাও যদি না বোঝে, তাহলে সত্যিই ভীষণ হতাশার। আমি হয়তো বেশি প্রত্যাশা নিয়ে এখানে এসেছিলাম। স্থানীয় ক্রিকেটারদের মানসিকতা নিয়ে একটু বেশিই আশা ছিল আমার। তবে আমি চেষ্টা করতে পারি কথা বলতে, বোঝাতে। কিন্তু তারা যদি বুঝতেই না পারে, আমার কিছু করার নেই।’
গিবসের সাবেক সতীর্থ নিল ম্যাকেঞ্জি বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করছেন। কীভাবে ম্যাকেঞ্জি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে কাজ করছেন গিবসের সন্দেহ সেটি নিয়ে, ‘আমি ঠিক নিশ্চিত নই, নিল ম্যাকেঞ্জি যখন কথা বলে, ওরা কতজন ঠিকভাবে বুঝতে পারে। আমি তো তার মতোই দক্ষিণ আফ্রিকান। আমি ঠিক জানি না, সে যা বলতে চায়, তার সবটুকু ওদের বোঝাতে পারে কি না। আমি জানি সে দারুণ ব্যাটিং কোচ, ওর কথামতো কাজ করলে ছেলেরা অনেক শিখতে পারবে। পরের বছর এখানে এলে হয়তো নতুন ভাষা শিখে আসতে হবে আমাকে (হাসি)।’ বলাইবাহুল্য, নতুন ভাষা বলতে বাংলা ভাষাই বুঝিয়েছেন গিবস। যেহেতু স্থানীয় ক্রিকেটাররা বাংলা ছাড়া কিছু বোঝেন না!