ধারণা করা হচ্ছে, দেশের মাটিতে ম্যাচ আয়োজন করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলেই চারদিনের টেস্টের বিরুদ্ধে পাকিস্তান। তাদের ক্রিকেট মৌসুমে একটু আগেই দিনের আলো কমতে থাকে। ২০০৯ সালে দেশটি থেকে ক্রিকেট নির্বাসিত হওয়ার আগের অভিজ্ঞতা সেটাই বলে। পাকিস্তানে টেস্ট ম্যাচে এক দিনে নির্ধারিত ৯০ ওভার শেষ করতেই কষ্ট হয়ে যায়। তাতে তৎকালীন পিসিবি প্রেসিডেন্ট শাহরিয়ার খান আইসিসির কাছে ছয়দিনের টেস্ট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সাবেক আইসিসি প্রধান নির্বাহী ম্যালকম স্পিডও বলেছিলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হবে।
মিসবাহকেও ভাবাচ্ছে এ বিষয়টি, ‘চারদিনের টেস্ট কীভাবে হবে, এ মুহূর্তে এটা নিয়ে স্পষ্ট কোনও ধারণা কেউ দেয়নি। এক দিনে কী ৯০ ওভার খেলা হবে নাকি ৯৬ ওভারের? পঞ্চম দিনের খেলা পুষিয়ে নিতে হয়তো ১১০ ওভারও হতে পারে। এশিয়ার কন্ডিশনের দিকে তাকান, বিশেষ করে পাকিস্তানে। আমরা কদাচিৎ একদিনে ৯০ ওভার বল করতে পারি।’
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়কের ব্যাখ্যা, ‘এখানে ক্রিকেট মৌসুম শুরু হয় শীতকালে। ওই সময় দিন ছোট থাকে, ৯০ ওভার বল করার জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যায় না। প্রায় সময়ই আমরা দিনে ১০ থেকে ১৫ ওভার হারাই। ৩৬০ ওভারের হিসেবে চারদিনের টেস্টেও যদি একই অবস্থা হয়, তাহলে ম্যাচ হবে সাড়ে তিনদিনের।’
চারদিনের টেস্ট খেলোয়াড়দের চাপ কমালেও মিসবাহর দৃষ্টিতে ফাস্ট বোলারদের চোটের ঝুঁকি কমবে না, ‘আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, পাঁচদিনের টেস্ট পুষিয়ে নিতে চারদিনের ম্যাচে যদি ওভার বাড়ানো হয়, তাহলে সেটা খুব কঠিন হয়ে পড়বে। দলে ১১ জন খেলোয়াড়কেই পাবেন আপনি। বেশিরভাগ দলই চারজন বোলারকে নিয়ে খেলে। কিন্তু পাঁচজনও যদি নেয়, তাও তো একদিনে ফাস্ট বোলারকে ১৬ থেকে ১৭ ওভার বল করতে হবে, সর্বোচ্চ ২০ ওভার কিংবা তারও বেশি! তখন চোটের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে এবং বোলিংয়ের মান নিচে নামবে।’
টেস্ট যেমন আছে, তেমনই থাকা উচিত মনে করেন ওয়াকার, ‘এই ফরম্যাটের দৈর্ঘ্যে কোনও বদল দেখতে চাই না আমি। একে যদি চারদিনে আনা হয়, তাহলে এর মান কমে যাবে। পাঁচদিনের টেস্টের প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ। আর পঞ্চম দিনেই সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চ ছড়ায় টেস্ট। অনেক ম্যাচ তিন বা চারদিনে শেষ হয়, সেটা পিচের কারণে। পাঁচদিনের টেস্ট বিশেষ কিছু এবং এভাবেই রাখা উচিত। ওয়ানডে ক্রিকেট নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটকে তার মতো করে থাকতে দেওয়া উচিত।’