ম্যাচ জেতানো রাকিবুলের অন্যরকম রাত

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে নিয়ে গেছেন রাকিবুল হাসানযে ক্রিকেটের কারণে বাবা-মায়ের বকুনি খেয়েছেন, সেই ক্রিকেটই রাকিবুল হাসানকে দুই হাত ভরে দিচ্ছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে একের পর এক কীর্তি গড়ে চলছেন রাকিবুল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিতে বল হাতে যেন ছিলেন এক জাদুকর। নিয়েছেন ৫ উইকেট। ১৭ বছর বয়সী বাঁহাতি এই স্পিনারের বোলিংই সেমিফাইনালে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। বৃহস্পতিবার রাতটা রাকিবুলের কাছে ছিল অন্যরকম আনন্দের।

ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমের সামনে রাকিবুলকে নিয়ে জয়োৎসব করেন সতীর্থরা। জয়ের আনন্দ নিয়েই রাতে ঘুমাতে যান। আগের কোনও অর্জনের সঙ্গেই গত রাতের আনন্দের তুলনা চলে না। কিন্তু রাকিবুল তাকাচ্ছেন সামনে। ৯.৩ ওভারে ১৯ রান খরচায় ৫ উইকেট নেওয়া রাকিবুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘বড় একটি ম্যাচ জিতেছি, অনুভূতি অসাধারণ। কৃতিত্ব কেবল আমার নয়, সম্মিলিত পারফরম্যান্সের কারনেই এমন জয়। এমন জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই সবার মধ্যে অন্যরকম অনূভূতি ছিল। সবাই অনেক আনন্দ নিয়েই রাতটা কাটাতে পেরেছি।’

লেখাপড়ায় বিন্দুমাত্র মনোযোগ ছিল না রাকিবুলের। বই-খাতা মেলে বসে থাকলেও তার মন পড়ে থাকতো ক্রিকেটে। কিন্তু বাবা-মায়ের কাছে তা বলার সাহস ছিল না। তাদের কাছে স্বপ্নের কথা গোপন রেখেই ২২ গজে স্বপ্নপূরণের পথে হাঁটতে থাকেন। গৃহশিক্ষকের এক মাসের টাকা ‘মেরে’ ভর্তি হন একটি ক্রিকেট একাডেমিতে। সেই থেকেই ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নটা ডানা মেলে। ম্যাচ শেষে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা হয় বাঁহাতি এই স্পিনারের। কী সেই কথা? ‘বাব-মা খোঁজখবর নিয়েছেন। তারা অনেক খুশি। আমাদের পরের ম্যাচের জন্য দোয়া করেছেন।’

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল জেতার পর শুক্রবার ছুটি পেয়েছেন ক্রিকেটাররা। শনিবার থেকে ফাইনাল-অভিযাত্রায় অনুশীলনে নামবে বাংলাদেশ দল। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল। আকবরদের মাথায় অবশ্য ঢুকে গেছে ফাইনাল, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিও আমাদের জন্য সহজ হবে না। ভালো পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। আশা করি সবাই মিলে ভালো একটি ম্যাচ উপহার দিতে পারবো। কোনভাবেই ফাইনালে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিং করা মোটেও সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। তারপরও ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় তিন হাফসেঞ্চুরিতে ২৬১ রান দাঁড় করায় বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই রাকিবুলের ঘূর্ণির কবলে পড়ে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। ঠিক কী পরিকাল্পনা ছিল রাকিবুলের? ‘আমার পরিকল্পনা ছিল উইকেট টু উইকেট বোলিং করা। ব্যাটসম্যানকে বুঝে করে গতির হেরফের করে বোলিং করে সফল হয়েছি। বিশেষ করে বেশ কিছু ম্যাচ খেলার কারণে  উইকেট সম্পর্কে আমাদের ধারণা স্পষ্ট ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে এখানে স্লো বোলিং করলে ম্যাচ জেতা সম্ভব হয়- সেই পরিকল্পামাফিক বোলিং করেছি’ – বলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অন্যতম নায়ক।