ছোটদের বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের আগুন

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীই টুর্নামেন্টে অপরাজিতবছরের প্রথম ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের সামনে ক্রিকেটবিশ্ব। তবে বড়দের নয়, ছোটদের। মঙ্গলবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল।

হোক তরুণদের লড়াই, পচেফস্ট্রুমের ম্যাচ নিয়ে উপমহাদেশের ক্রিকেটভক্তরা রোমাঞ্চিত। ভারতের সাবেক পেসার জহির খানের কণ্ঠেও উত্তেজনার আঁচ, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ পুরো টুর্নামেন্টে বাড়তি আমেজ নিয়ে আসে। আমি নিশ্চিত, ছেলেরা বিশাল উপলক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে উজ্জীবিত।’

দু’দলই টুর্নামেন্টে অপরাজিত। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা, জাপান আর নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দেওয়ার পর কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৭৪ রানে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। অন্যদিকে পাকিস্তান গ্রুপে স্কটল্যান্ড-জিম্বাবুয়েকে হারানোর পর বাংলাদেশের ১০৬ রানে ৯ উইকেট ফেলে দিয়েও জিততে পারেনি বৃষ্টির কারণে। শেষ আটে তারা ৬ উইকেটে জিতেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচটির আগে নির্ভার থাকার চেষ্টা করছেন কার্তিক ত্যাগী। ভারতের পেসারের দার্শনিকসুলভ মন্তব্য, ‘এই বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে খুব ভালো বল করে উইকেট পাইনি। পরের দুই ম্যাচে বাজে বল করে উইকেট পেয়েছি। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো বল করে তার পুরস্কার পেয়েছি। আসলে জীবনের বাস্তবতাই হলো উত্থান-পতন। আমি তাই উইকেটের চিন্তা বাদ দিয়ে বোলিংয়ে মনোযোগ দিচ্ছি।’

পাকিস্তানের ওপেনার মোহাম্মদ হুরাইরাও স্বাভাবিক থাকতে চান, ‘এটা ভীষণ উত্তেজনায় ভরা ম্যাচ। বিশ্ব জুড়ে ম্যাচটা নিয়ে আলোচনা চলে। তবে আমরা স্বাভাবিকভাবে খেলবো। আশা করি ভালোই খেলবো।’

তরুণদের মুখোমুখি লড়াইয়ে গত কয়েক বছরে ভারত এগিয়ে। গত সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে জিতেছিল ৬০ রানে, তার আগের বছর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছিল ২০৩ রানে।

আরেকটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালেও ভারত ফেবারিট। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা বোকামি। এ এমনই এক লড়াই, যে কোনও মুহূর্তে পাশার দান উল্টে যেতে পারে।