কী আছে মাহমুদউল্লাহর ভাগ্যে?

দেশে ফিরেছেন মাহমুদউল্লাহপাকিস্তানে যাওয়া টেস্ট স্কোয়াডে ম্যাচ সংখ্যা কিংবা সময়ের হিসাবে সবচেয়ে অভিজ্ঞ তামিম ইকবাল। তার পরেই মাহমুদউল্লাহ। তবে বয়সের হিসাবে দলের সবচেয়ে ‘সিনিয়র’ মাহমুদউল্লাহ। টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাও আছে তার। স্বাভাবিকভাবেই ৩৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডারের কাছে ভালো কিছুর প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ব্যর্থ তিনি, বাড়িয়েছেন দলের হতাশা।

রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের প্রথম ইনিংসে তবু কিছুটা হলেও প্রতিরোধ গড়েছিলেন। ভালো ইনিংসের সম্ভাবনা জাগিয়েও আউট ২৫ রানে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে যা করেছেন, তার মতো পরিণত এক ক্রিকেটারের কাছ থেকে সেটি আশা করেনি দল। পাকিস্তানি পেসার নাসিম শাহ টানা দুই বলে ২ উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সামনে। বিপর্যস্ত বাংলাদেশের ঢাল হয়ে মাহমুদউল্লাহ ক্রিজে গিয়ে সেটি রোধ করে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাবেন, সেটিই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু না, বাইরের বল তাড়া করে নাসিমকে ‘উপহার’ দিলেন হ্যাটট্রিক। সমান্তরালে বাড়ে বাংলাদেশের বিপদ।

আফগানিস্তান সিরিজ থেকে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিক ব্যর্থ মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে ভাবার সময় এসেছে বিসিবির— প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের ইঙ্গিত তেমনই। আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরেছে টেস্ট দল। বৃহস্পতিবার টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। সেখানেই মাহমুদউল্লাহর ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে। মিনহাজুল জানালেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট আসার পর বৃহস্পতিবার আমাদের মিটিং আছে। আমরা বসব এটা নিয়ে। দলের জন্য যেটা ভালো, সেটা করা হবে।’

‘ভালো’ শব্দটি মাহমুদউল্লাহর জন্য ‘মন্দ’ হয়েই সম্ভবত আসছে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে দলের ‘বোঝা’ হয়ে উঠেছেন এই ক্রিকেটার। গত বছরের মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরে শেষবার খেলেছেন ৫০ ছাড়ানো ইনিংস। এরপর খেলা আট ইনিংসে তার সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ৩৯। যা করেছিলেন ভারতের বিপক্ষে কলকাতা টেস্টে আহত হয়ে অবসরে যাওয়ার আগে।

বাংলাদেশ টানা ছয় টেস্টে হেরেছে, যার পাঁচটিতেই ইনিংস ব্যবধানে। আফগানিস্তানের কাছেও হারটা ২২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে। চট্টগ্রামের এই ম্যাচ থেকেই ব্যর্থতার যাত্রা শুরু মাহমুদউল্লাহর। দুই ইনিংসেই আউট হন ৭ রানে। ভারত সফরের আগে সাকিবের নিষেধাজ্ঞায় সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে ওঠে তার। কিন্তু পারেননি। ইন্দোর টেস্টে দুই ইনিংসে রান ১০ ও ১৫। কলকাতার দিবা-রাত্রির টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো কিছু্র ইঙ্গিত দিয়ে আহত হয়ে অবসরে যান ৩৯ রানে। ব্যর্থতার চেনা গল্প পাকিস্তান সফরেও।

রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে প্রাপ্তির খাতায় কোনও অর্জন নেই। মাহমুদউল্লাহর মতো ব্যর্থ হয়েছেন বেশিরভাগ খেলোয়াড়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী? মিনহাজুল বলছেন, ‘চাইলে তো সব খেলোয়াড়কে বদলে দিতে পারবেন না। খেলোয়াড়দের দরকারও আছে।’

তা আছে বৈকি। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর প্রতি আস্থার জায়গাটা সম্ভবত চটে গেছে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে তার কাছে যে প্রত্যাশা ছিল দলের, সাকিব-মুশফিকের অনুপস্থিতিতে তিনি তা মোটেও মেটাতে পারেননি। দেখা যাক জিম্বাবুয়ের সিরিজের দল কী বলে!