২০০৬ সালে অভিষেকের পর দ্রুতই বিশ্ব ক্রিকেটেরই তারকা হয়ে ওঠেন সাকিব। মাঠে ও মাঠের বাইরে এই দুই তারকা ক্রিকেটারের বহু স্মৃতি আছে। দুইজন বহু আন্তর্জাতিক ম্যাচ জয়ের কান্ডারি হয়েছেন। দুইজনই পরস্পরের নেতৃত্বে বহু ম্যাচ খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের নেতৃত্বে মাশরাফি ১২টি ম্যাচ (১০ ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টি) খেললেও সাকিব খেলেছেন ১০১টি ম্যাচ (টেস্ট ১, ওয়ানডে ৭৪ ও টি-টোয়েন্টি ২৬টি)। এর বাইরেও হাবিবুল বাশার, আশরাফুল, মুশফিকের নেতৃত্বে দুইজন আরও ম্যাচ খেলেছেন। অথচ অধিনায়ক মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে মাঠে থাকতে পারেননি সাকিব। নিষেধাজ্ঞা মাথায় আপাতত মাঠের বাইরে সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি খেলে মাশরাফি হয়ে গেছেন সাবেক অধিনায়ক। সতীর্থরা ম্যাচ শেষে চমক জাগানো বিদায় সংবর্ধনা জানিয়েছেন। এমন পাওয়ার দিনেও সাকিব মাঠে ছিলেন না বলে একটু অপূর্ণতার অনুভব ছিল মাশরাফির মনে, ‘আমাকে এত সম্মান দেওয়ার জন্য আমার সকল সতীর্থকে জানাই ধন্যবাদ। তবে আমি বলতে চাই, আমি মাঠে আজ সাকিবকে মিস করছি। সে আমার সঙ্গে সব সময় ছিল। আই মিস ইউ বয়।’
রবিবার লন্ডনের এক অনুষ্ঠানে প্রিয় বড় ভাই মাশরাফিকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন সাকিব, ‘আমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু হওয়ার বহু আগে থেকেই মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত আমরা সব সময়ই একই সঙ্গে থাকতাম। সমস্যা হয়েছে বিয়ের পরে রুমে বেশিক্ষণ থাকার সুযোগ ছিল না। ওনার পরিবার আছে, আমার পরিবার হয়েছে। আমরা এত বেশি ঘনিষ্ঠভাবে মিশতাম যে খাওয়া থেকে শুরু করে আড্ডা সবকিছুই একসঙ্গে করতাম। বিশেষ করে বিদেশ সফরে আমরা একসঙ্গে সব করতাম, কখনও কখনও পুরো দলকে নিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই অন্যরকম বন্ধন ছিল আমাদের।’
সাকিব-মাশরাফির এ রসায়ন চলছে বহু আগে থেকে। যখন ফয়সাল থেকে সাকিব হওয়ার মিশনে নামেন বাংলাদেশের সেরা অল রাউন্ডার। ২০১০ সালে টেস্ট, ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর চোটে পড়ে যখন দলের বাইরে চলে যান মাশরাফি, তখন দায়িত্ব পড়ে সাকিবের কাঁধে। সুতরাং মাঠে এই সাকিবের অভাববোধ তো করবেনই মাশরাফি! বিষয়টি মনে করিয়ে দিতেই সাকিব বলেন, ‘আমাদের পুরো ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অনেক স্মৃতি আছে। ক্রিকেট শুরু হওয়ার আগে থেকেই উনার সঙ্গে আমার অন্যরকম সম্পর্ক। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৩ বছরের সঙ্গে আগের ৫ বছর, মোট ১৮ বছর আমি উনাকে চিনি। স্বাভাবিকভাবেই উনার সঙ্গে অনেক বড় সম্পর্ক আমার। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সেটা পরিবারের চেয়েও বড়। আমিও উনাকে অনেক বেশি মিস করবো।’
অধিনায়ক মাশরাফির বিদায় হলেও পেসার মাশরাফি এখনও বিদায় নেননি। সাধারণ একজন ক্রিকেটার হয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন মাশরাফি। সাকিবেরও আশা মাশরাফির সঙ্গে আরও কিছুদিন ক্রিকেট খেলতে পারবেন, ‘যেহেতু মাত্রই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছেন, স্বাভাবিকভাবে আরও কিছু সময় হয়তো আছেন। আরও কিছুদিন হয়তো আমরা একসঙ্গে খেলতে পারবো।’