আমিনুল ইসলামের ঘূর্ণিতে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। মিরপুরের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের ৭ উইকেট তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা। পরপর ২ বলে ২ উইকেট পাওয়া আমিনুল পেয়েছেন আরেকটি। তাতে ১০০ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা।
আফিফ হোসেন ফিরিয়েছেন সিকান্দার রাজাকে (১০)। আর আমিনুল আউট করেছেন ২ রান করা টিনোটেন্ডা মুটোমবোজিকে।
আমিনুলের জোড়া আঘাত
চাপে পড়া জিম্বাবুয়েকে আরও চেপে ধরলো বাংলাদেশ আমিনুল ইসলামের সৌজন্যে। পরপর্ দুই বলে এই লেগ স্পিনার তুলে নিয়েছেন জোড়া উইকেট। টিনাশে কুমুনুকাম্বের পর শন উইলিয়ামসকে আউট করে তিনি হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগালেও সেটি হয়নি।
অন্যপ্রান্তে উইকেট পড়লেও ওপেনিংয়ে নেমে নিজের প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন কুমুনুকাম্বে। অবশেষে তার প্রতিরোধ ভাঙলেন আমিনুল। রান তাড়া করতে নেমে আস্কিং রেট বেড়ে যাওয়ায় আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিলেন কুমুনুকাম্বে। সেটিই কাল হলো তার। আমিনুলের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে তিনি লং অফে ধরা পড়েন লিটন দাসের হাতে। ২০ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় জিম্বাবুইয়ান ওপেনার করেন ২৮ রান।
পরের বলে আবারও উইকেট উদযাপন আমিনুলের। এবার তিনি ফেরান অধিনায়ক উইলিয়ামসকে। তার ফুলটস ডেলিভারিতে সফরকারী অধিনায়ক ২০ রান করে ধরা পড়েন সৌম্যর হাতে।
আর্ভিনকে ফেরালেন মোস্তাফিজ
দ্বিতীয় উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না বাংলাদেশকে। মোস্তাফিজুর রহমান উইকেট এনে দিয়েছেন ক্রেগ আর্ভিনকে ফিরিয়ে। বাঁহাতি পেসার এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেছেন জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যানকে। ৮ রান করা আর্ভিনের বিদায়ের পরপরই আবার ধাক্কা খায় সফরকারীরা।
রান আউট হয়ে ফিরে গেছেন ওয়েসলি মাদেভেরে। আফিফ হোসেনের দুর্দান্ত থ্রো ধরে স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম। ৪ রান করে মাদেভেরের প্যাভিলিয়নে ফেরার সময় জিম্বাবুয়ের ৩৭ রান তুলতে নেই ৩ উইকেট।
শফিউল এনে দিলেন প্রথম উইকেট
বাংলাদেশ সফর ভুলে যেতে চাইবেন ব্রেন্ডন টেলর। ওয়ানডে সিরিজে ধারাবাহিক ব্যর্থ হওয়া অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও হতাশায় ডুবলেন। তাকে আউট করে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দিয়েছেন শফিউল ইসলাম।
১ রানে আউট হওয়া টেলরের উইকেটটিতে সৌম্য সরকারের অবদানও কম নয়। মিডউইকেটে নিচু হয়ে আসা বলটি দারুণ দক্ষতায় তালুবন্দী করেন তিনি। তাতে ১১ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
লিটন-সৌম্যর ফিফটিতে বাংলাদেশের ২০০
ইনিংসের শেষ দুই বলে সৌম্যর দুই ছক্কায় কাঁটায় কাঁটায় ২০০ রান করেছে বাংলাদেশ। সৌম্য মাত্র ৩২ বলে খেলেছেন হার না মানা ৬২ রানের ইনিংস। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ছিলেন ৯ বলে ১৪ রানে। তাতে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান করে স্বাগতিকরা।
বিয়ের পর প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছেন সৌম্য। তামিম ইকবালের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে শাসন করেছেন জিম্বাবুইয়ান বোলারদের। ৩০ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় সৌম্য অপরাজিত থাকেন ৬২ রানে।
তার আগে লিটন ৩৯ বলে করে যান ৫৯ রান। আর তামিম ৩৩ বলে ৪১ রানে আউট হওয়ার আগে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৯২ রান। এরপর মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ৮ বলে ১৭ রানের ছোট তবে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস আসে।
জিম্বাবুয়ের তিন বোলার সিকান্দার রাজা, ক্রিস পোফু ও ওয়েসলি মাদেভেরে প্রত্যেকে নেন একটি করে উইকেট।