জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে টি-টোয়েন্টি শুরু বাংলাদেশের

ব্যাটিংয়ে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন সৌম্য সরকারওয়ানডে সিরিজের বাংলাদেশই ধরা দিলো টি-টোয়েন্টিতে। লিটন দাস ও তামিম ইকবাল যেমন ছন্দটা ধরে রাখলেন ব্যাটিংয়ে, ঠিক তেমনি ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে নিজের কার্যকারিতার ছাপ রাখলেন আমিনুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান। তাদের সঙ্গে সৌম্যর দুর্ধর্ষ ব্যাটিং-ফিল্ডিং মিলিয়ে টি-টোয়েন্টির ‘পারফেক্ট প্যাকেজ’ হয়ে উঠলো বাংলাদেশ। মিরপুরের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দাঁড়াতেই দেয়নি জিম্বাবুয়েকে। আধিপত্য বিস্তার করা ম্যাচটি স্বাগতিকরা জিতেছে ৪৮ রানে।

এবারের বিপিএল দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেখা দিলেন তিনি ভয়ঙ্কর রূপে। বাঁহাতি পেসার পেয়েছেন ৩ উইকেট। তবে বোলিংয়ে তাকেও ছাড়িয়ে গেছেন আমিনুল। তরুণ লেগ স্পিনার ফিরিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ তিন ব্যাটসম্যান- টিনাশে কুমুনুকাম্বে, শন উইলিয়ামস ও টিনোটেন্ডা মুটোমবোজিকে। ফলে বাংলাদেশের ৩ উইকেটে করা ২০০ রানের জবাবে জিম্বাবুয়ে ১৯ ওভারে গুটিয়ে যায় ১৫২ রানে।

বাংলাদেশ সফর ভুলে যেতে চাইবেন ব্রেন্ডন টেলর। ওয়ানডে সিরিজে ধারাবাহিক ব্যর্থ হওয়া অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও হতাশায় ডুবলেন। তাকে আউট করে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দেন শফিউল ইসলাম। ১ রানে আউট হওয়া টেলরের উইকেটটিতে সৌম্য সরকারের অবদানও কম নয়। মিডউইকেটে নিচু হয়ে আসা বলটি দারুণ দক্ষতায় তালুবন্দী করেন তিনি।

দ্বিতীয় উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশের। মোস্তাফিজ উইকেট এনে দেন ক্রেগ আর্ভিনকে ফিরিয়ে। বাঁহাতি পেসার এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যানকে। ৮ রান করা আর্ভিনের বিদায়ের পরপরই আবার ধাক্কা খায় সফরকারীরা। রান আউট হয়ে ফিরে যান ওয়েসলি মাদেভেরে। আফিফ হোসেনের দুর্দান্ত থ্রো ধরে স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম। ৪ রান করে মাদেভেরের প্যাভিলিয়নে ফেরার সময় জিম্বাবুয়ের ৩৭ রান তুলতে নেই ৩ উইকেট।

চাপে পড়া জিম্বাবুয়েকে আরও চেপে ধরে বাংলাদেশ আমিনুলের সৌজন্যে। পরপর্ দুই বলে এই লেগ স্পিনার তুলে নেন জোড়া উইকেট। কুমুনুকাম্বের পর উইলিয়ামসকে আউট করে তিনি হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। অন্যপ্রান্তে উইকেট পড়লেও ওপেনিংয়ে নেমে নিজের প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন কুমুনুকাম্বে। অবশেষে তার প্রতিরোধ ভাঙলেন আমিনুল। রান তাড়া করতে নেমে আস্কিং রেট বেড়ে যাওয়ায় আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিলেন কুমুনুকাম্বে। সেটিই কাল হলো তার। আমিনুলের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে তিনি লং অফে ধরা পড়েন লিটন দাসের হাতে। ২০ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় জিম্বাবুইয়ান ওপেনার করেন ২৮ রান।

পরের বলে আবারও উইকেট উদযাপন আমিনুলের। এবার তিনি ফেরান অধিনায়ক উইলিয়ামসকে। তার ফুলটস ডেলিভারিতে সফরকারী অধিনায়ক ২০ রান করে ধরা পড়েন সৌম্যর হাতে।

আমিনুলের ঘূর্ণিতে থামেনি। পরে তিনি নিয়েছেন টিনোটেন্ডা মুটোমবোজির (২) উইকেটও। এর আগে আফিফ হোসেন ফেরান সিকান্দার রাজাকে (১০)। খানিক পর মোস্তাফিজ দ্বিতীয় শিকার হিসেবে রিচমন্ড মুটুম্বামিকে আউট করলে বাংলাদেশের জয়টা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে কার্ল মুম্বাকে (২৫) আউট করে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন ওই মোস্তাফিজই। ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে বাঁহাতি পেসারের শিকার ৩ উইকেট। আমিনুল ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। আর একটি করে উইকেট পেয়েছেন শফিউল, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও আফিফ।

এর আগে ইনিংসের শেষ দুই বলে সৌম্যর দুই ছক্কায় কাঁটায় কাঁটায় ২০০ রান করেছে বাংলাদেশ। সৌম্য মাত্র ৩২ বলে খেলেছেন হার না মানা ৬২ রানের ইনিংস। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ছিলেন ৯ বলে ১৪ রানে। তাতে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান করে স্বাগতিকরা।

বিয়ের পর প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছেন সৌম্য। তামিম ইকবালের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে শাসন করেছেন জিম্বাবুইয়ান বোলারদের। ৩০ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৩২ ‍বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় সৌম্য অপরাজিত থাকেন ৬২ রানে।

তার আগে লিটন ৩৯ বলে করে যান ৫৯ রান। আর তামিম ৩৩ বলে ৪১ রানে আউট হওয়ার আগে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৯২ রান। এরপর মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ৮ বলে ১৭ রানের ছোট তবে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস আসে।

জিম্বাবুয়ের তিন বোলার সিকান্দার রাজা, ক্রিস পোফু ও ওয়েসলি মাদেভেরে প্রত্যেকে নেন একটি করে উইকেট।