তামিমদের হারিয়ে পিএসএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন করাচি

করাচি কিংসের শিরোপা উদযাপনলাহোর কালান্দার্সের সর্বোচ্চ ইনিংসটা এলো তামিম ইকবালের ব্যাট থেকে। লাহোরের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদেরও খুশির হওয়ার মতো ব্যাপার। ফাইনালে বাংলাদেশি ওপেনারের কাছে হয়তো এমনটাই আশা করেছিল তারা। কিন্তু মোটে ৩৫ রান হবে সর্বোচ্চ ইনিংস, সেটি কোনোভাবেই চাওয়ার কথা নয়। হলো তা-ই! ব্যাটিং ব্যর্থতায় করাচি কিংসকে তো সেভাবে চ্যালেঞ্জই জানাতে পারলো না তামিমরা। বিপরীতে বাবর আজম দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাকে নিয়ে এত মাতামাতি। এই ব্যাটসম্যানের অপরাজিত হাফসেঞ্চুরি ও বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তামিমদের হারিয়ে করাচি ঘরে তুললো পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রথম শিরোপা।

মঙ্গলবার রাতে পিএসএল ফাইনালে লাহোরকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা উদযাপন করেছে করাচি। ব্যাটিং ব্যর্থতায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে লাহোর স্কোরে জমা করে ১৩৪ রান। সহজ এই লক্ষ্য ৮ বল আগে ৫ উইকেট হারিয়ে টপকে যায় করাচি।

ফাইনাল মঞ্চে টস জেতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে লাহোর সেটি জিতে যাওয়ায় ব্যাটিং নিতে দ্বিতীয়বার ভাবেনি। কিন্তু করাচিকে রানতাড়া করার চ্যালেঞ্জটাই দিতে পারেনি তারা। ব্যাটিংয়ে তাদের শুরুটা হয়েছিল ‍মন্থর। করাচি কিংসের বোলারদের সামনে পরীক্ষা দিতে হয়েছে তামিম ইকবাল ও ফখর জামানকে। তবে ফাইনালের চাপ সামলে উইকেটে হিতু হওয়ার চেষ্টা করেছেন দুই ওপেনার। বিসিবি প্রেসিডেন্ট’স কাপে মোটেও সুবিধা করতে না পারা তামিম পিএসএলের প্লে অফের দুই ম্যাচেও তেমন কিছু করতে পারেননি। ফাইনালে দলের তো বটেই, নিজেকেও অনেক কিছু দেওয়ার ছিল তার।

যদিও সেই প্রত্যাশার পুরোটা পূরণ হয়নি তার। অবশ্য ফাইনালে লাহোরের সর্বোচ্চ স্কোরার তিনিই, ৩৮ বলে করেছেন ৩৫ রান। সংগ্রামময় ইনিংসটি তিনি সাজান ৪ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়। গোটা ইনিংসে তার ওভার বাউন্ডারির পর শেষ দিকে শাহীন আফ্রিদির মেরেছেন আরেকটি ছক্কা।

লাহোরের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ফখরের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে শক্ত ভিত গড়ে যান তামিম। উমাইদ আসিফের বলে বাংলাদেশি ওপেনার প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে লাহোরের স্কোরে জমা হয় ৬৮ রান। তামিমের আউটের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লাহোরের ব্যাটিং লাইনআপ। ২ বল পরই ফিরে যান ২৪ বলে ২৭ রান করা ফখর।

এরপর একে একে ব্যর্থতার খাতায় নাম তুলেছেন মোহাম্মদ হাফিজ (২), সামিত প্যাটেল (৫), বেন ডাঙ্ক (১১) ও অধিনায়ক সোহেল আখতার (১৪)। এরপরও লাহোরের রান ১৩৪ পর্যন্ত গিয়েছে শাহীনের ৪ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় করা অপরাজিত ১২ রানে। তার সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন ১৪ রান করা ডেভিড ওয়াইস।

করাচির সবচেয়ে সফল বোলার উমাইদ আসিফ ও ওয়াকাস মাকসুদ। দুজনই ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে পেয়েছেন ২ উইকেট। আরশাদ ইকবালও ২ উইকেট নিয়েছেন ২৬ রান খরচায়।

১৩৫ রানের লক্ষ্যে অবিচল থেকে করাচির শিরোপা নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছেন ফাইনাল সেরার পুরস্কার জেতা বাবর। দিনকয়েক আগে টেস্টের অধিনায়কত্ব পেয়ে এখন পাকিস্তানের তিন সংস্করণের নেতৃত্ব কাঁধে তোলা এই ব্যাটসম্যান খেললেন অসাধারণ এক ইনিংস। অন্যপ্রান্তে উইকেট হারালেও ওপেনিংয়ে নেমে নিজের কাজটা করে গেছেন তিনি। বল বুঝে দারুণ সব শটে ৪৯ বলে খেলেছেন ৬৩* রানের ম্যাচজেতানো ইনিংস। ৭ বাউন্ডারিতে সাজানো তার ইনিংসটির কল্যাণে একবারের জন্যও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি করাচি।

তাই ১৩ রান করে ওপেনার শারজিল খানের বিদায়ের পর ওয়ান ডাউনে নেমে ১১ রান করে অ্যালেক্স হেলস সাজঘরে ফিরলেও চাপে পড়েনি পিএসএলের নতুন চ্যাম্পিয়নরা। চ্যাডউইক ওয়াল্টন করেছেন ২২। অবশ্য পরপর দুই বলে ইফতিখার আহমেদ (৪) ও শেরফান রাদারফোর্ডের (০) আউটে খানিক সময়ের জন্য লাহোরের আশা জাগলেও অধিনায়ক ইমাদ ওয়াসিমের ৭ বলে অরপাজিত ১০ রানে সেটি দূর দিগন্তে মিলিয়ে যায়। তাই পাকিস্তান থেকে হতাশাই নিয়ে ফিরতে হচ্ছে তামিমকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

লাহোর কালান্দার্স: ২০ ওভারে ১৩৪/৭ (তামিম ৩৫, ফখর ২৭, সোহেল ১৪, ওয়াইস ১৪; উমাইদ ২/১৮, মাকসুদ ২/১৮, আরশাদ ২/২৬)।

করাচি কিংস: ১৮.৪ ওভারে ১৩৫/৫ (বাবর ৬৩*, ওয়াল্টন ২২, শারজিল ১৩, হেলস ১১, ইমাদ ১০*; দিলবার হোসেন ২/২৮, হারিস রউফ ২/৩০)।

ফল: করাচি কিংস ৫ উইকেটে জয়ী ও চ্যাম্পিয়ন।

ম্যাচসেরা: বাবর আজম।

টুর্নামেন্টসেরা: বাবর আজম।