সেঞ্চুরিয়ানের মতো জোহানেসবার্গেও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। রবিবার জোহানেসবার্গ টেস্টের প্রথম দিন শেষে ব্যাকফুটে সফরকারীরা। প্রোটিয়া পেসার আনরিক নরকিয়ার বোলিং তোপে ১৫৭ রানে অলআউট হয় লঙ্কানরা। জবাবে ১ উইকেট হারিয়ে দিনশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৮ রান। মাত্র ৯ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করবে স্বাগতিকরা।
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া শ্রীলঙ্কাকে শুরু থেকেই চাপে রাখেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই স্ট্রাইক বোলার লুঙ্গি এনগিডি ও আনরিক নরকিয়া। ইনিংসের দশম ওভারে লঙ্কান ওপেনার দিমুথ করুণারত্নেকে (২) বিদায় করে উৎসব শুরু করেন নরকিয়া। সেই উৎসব চলতে থাকে পুরো ইনিংস জুড়েই। সবমিলিয়ে ৫৬ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন ২৭ বছর বয়সী এই পেসার।
১৯ রানে প্রথম উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে কুশল পেরেরা ও লেহেরু থিরিমান্নে ৫২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। কিন্তু ব্যক্তিগত ৬০ রানের মাথায় পেসার ভিয়ান মুল্ডারের লেন্থ বল খেলতে গিয়ে কুইন্টাল ডি ককের তালুবন্দি হন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। কুশলে পেরেরা ৬৭ বলে ৬০ রান করে ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। তার বিদায়ের পর আবারও ধস নামে লঙ্কান ব্যাটিং অর্ডারে। অষ্টম উইকেটে হাসারাঙ্গা ডি সিলভা (২৯) ও দুশমান্তা চামিরার (২২) রানে ৩৯ রানের ছোট জুটিতে কোনও রকমে দেড়শ রান টপকায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ৪০.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রানে থামে লঙ্কান ইনিংস।
প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন আনরিক নরকিয়া। এই পেসার ৫৬ রানে নেন ৬টি উইকেট। এছাড়া ভিয়ান মুল্ডার ২৫ রানে তিনটি উইকেট নেন।
চা বিরতির আগে ব্যাটিংয়ে সুযোগ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। বিনা উইকেটে ২২ রান তোলে চা বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। চা বিরতি থেকে ফিরেই উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ওপেনার এইডেন মারক্রাম (৫) ফেরান পেসার আসিথা ফার্নান্দো। দিনের বাকি সময়টুকু অবশ্য নিরবিচ্ছিন্ন ভাবেই পার করেন স্বাগতিকরা। ডিন এলগার ৯২ রান নিয়ে করে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় আছেন। অন্যদিকে রাসি ফন ডার ডাসেন ৪০ রানে অপরাজিত আছেন। এই দুইজনের ১১৪ রানের অপরাজিত জুটির কল্যানে দিনশেষে ১ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান সংগ্রহ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
লঙ্কান বোলারদের মধ্যে কেউই চাপে ফেলতে পারেনি প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের। একমাত্র উইকেটটি নেন ফার্নান্দো।