তাইজুল-রাহীর ছোবলের পরও ৪০০ ছাড়িয়ে ক্যারিবিয়ানরা

তাইজুল ইসলাম ও আবু জায়েদ রাহী দুজনই নিলেন ৪টি করে উইকেট। কিন্তু তাদের জ্বলে ওঠাটা একটু দেরিতে হয়ে গেছে! তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে গড়ে ফেলেছে বড় স্কোর। সেঞ্চুরির কাছাকাছি যাওয়া তিন হাফসেঞ্চুরিতে ক্যারিবিয়ানরা অলআউট হওয়ার আগে করেছে ৪০৯ রান।

আস্থার জবাব দিয়ে তাইজুল বোলিং করেছেন ৪৬.২ ওভার। তার বলে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বিদায়ে অলআউট হয় ক্যারিবিয়ানরা। বাঁহাতি স্পিনার ১০৮ রান দিয়ে পেয়েছেন ৪ উইকেট। অন্যদিকে চট্টগ্রাম টেস্টে উপেক্ষিত থাকার জবাব রাহী দিয়েছেন ৪ উইকেট তুলে নিয়ে। ২৮ ওভারে তার খরচ ৯৮ রান। আর একটি করে উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও সৌম্য সরকার। নাঈম হাসান ২৪ ওভার বল করেও সাফল্য পাননি।

ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটাও ভালো যায়নি বাংলাদেশের। এরপর লাঞ্চ থেকে ঘুরে এসেও সুবিধা করতে পারেনি। তবে তাইজুল ও রাহী জ্বলে ওঠায় ২৫ রানে শেষ ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সফরকারীরা বড় সংগ্রহ দাঁড় করালেও আক্ষেপ আছে যথেষ্ট। তিন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও তিন অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। জোশুয়া দা সিলভা ৯২, এনক্রুমা বনার ৯০ ও আলজারি জোসেফ আউট হয়েছেন ৮২ রানে।

ঢাকার টেস্টের প্রথম দিন উইকেটের জন্য ২১ ওভার অপেক্ষা করতে হয়েছিল। দ্বিতীয় দিনের শুরুও ভালো আভাস দিচ্ছিল না। যদিও অপেক্ষা খুব একটা দীর্ঘ হয়নি। দিনের ১২তম ওভারেই সাফল্য আসে মিরাজের হাত ধরে। ডানহাতি স্পিনার আউট করেন বনারকে। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ৯০ রানে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান।

চট্টগ্রাম টেস্ট জয়ে ক্যারিবিয়ানদের নায়ক নিঃসন্দেহে কাইল মায়ার্স। তবে এই বনারের অবদানও কম ছিল না। অভিষেক টেস্টে ঠান্ডা মাথায় সময়োপযোগী ব্যাটিংয়ে খেলেছিলেন ৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরির আশা ভাঙার পর দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে আরও বেশি কষ্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। মিরাজ তাকে সেঞ্চুরি করতে দেননি। এই স্পিনারের বলে মোহাম্মদ মিঠুনকে ক্যাচ দিয়ে বনার প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন সেঞ্চুরি থেকে ১০ রান দূরে থাকতে। ২০৯ বলে খেলা ৯০ রানের ইনিংসটি ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান সাজান ৭ বাউন্ডারিতে। ফেরার আগে ষষ্ঠ উইকেটে জোশুয়া দা সিলভার সঙ্গে যোগ করেন ৮৮ রান।

বনারের হতাশার রেশ না কাটতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে যোগ হয় আরেকটি সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ। এবার ৯২ রান করে ফেরেন জোশুয়া। ক্যারিবিয়ান উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে সেঞ্চুরির স্বাদ পেতে দেননি তাইজুল ইসলাম।

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে সেঞ্চুরির পথে হাঁটছিলেন জোশুয়া। বনারের না পাওয়ার আক্ষেপ কিছুটা জুড়াতো হয়তো তার শতকে। কিন্তু ‘নার্ভাস নাইটি’র ঘরে গিয়ে খেই হারালেন ক্যারিবিয়ান উইকেটকিপারও। তাইজুলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন ৯২ রানে। ১৮৭ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ১০ বাউন্ডারিতে।

জোশুয়ার বিদায়ে ভাঙে আজারি জোসেফের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে গড়া ১১৮ রানের জুটি। তার আউটের পরপরই অবশ্য ফিরে গেছেন জোসেফ। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ১০৮ বলে তিনি খেলেছেন ৮২ রানের ইনিংস। রাহীর বলে আউট হওয়ার আগে ইনিংসটি সাজান ৮ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায়।

এই জুটি ভাঙার পর ভেঙে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লোয়ার অর্ডার। রাহীর শিকার হয়ে পরে ফিরেছেন ২ রান করা জোমেল ওয়ারিকান। আর তাইজুল গ্যাব্রিয়েলকে তুলে নিলে ৪০৯ রানে শেষ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস।