ফরম্যাট যদি হয় টি-টোয়েন্টি, তাহলে উপমহাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ জয়ের হার শতভাগ। তবে পাকিস্তান সফরে গিয়ে সেই রেকর্ড আর অক্ষত থাকলো না প্রোটিয়াদের। এশিয়া অঞ্চলে প্রথমবার কুড়ি ওভারের সিরিজ হারলো দক্ষিণ আফ্রিকা। ডেভিড মিলারের ঝড়ো ইনিংসের পরও ৪ উইকেটের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান।
লাহোরের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং ব্যর্থতার মাঝে একা হাতে লড়েছেন মিলান। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের হার না মানা ৮৫ রানের ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে করে ১৬৪ রান। কঠিন লক্ষ্য হলেও মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজমের ঝড়ে ৬ উইকেট হারিয়ে ৮ বল আগেই জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় স্বাগতিকরা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৫ রানে হারায় ৭ উইকেট। ওই জায়গা থেকে সফরকারীরা লড়াই করার মতো স্কোর পায় মিলারের তাণ্ডবে। পাকিস্তানের বোলারদের ওপর ঝড় বইয়ে অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছেন এই ব্যাটসম্যান। তাকে আউটই করতে পারেনি পাকিস্তান। দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে ৪৫ বলে মিলার অপরাজিত থাকেন ৮৫ রানে। তাণ্ডব ছড়ানো ইনিংসটি তিনি সাজান ৫ বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান করেছেন ওপেনার জানেমান মালান।
বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন মোহাম্মদ নওয়াজ। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা এই স্পিনার ১৩ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। তবে উইকেট সংখ্যায় সবেচেয়ে সফল জাহিদ মাহমুদ, ৪০ রানে তার শিকার ৩ উইকেট। হাসান আলীও পেয়েছেন ২ উইকেট।
১৬৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে হায়দার আলী ১৫ রানে আউট হলেও পাকিস্তানের জয়ের ভিত তৈরি করেন রিজওয়ান-বাবর। রিজওয়ান ৩০ বলে ৫ চার ২ ছক্কার করেন ৪২ রান। আর বাবরের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান। ৩০ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৫ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়। মাঝের ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলেও স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত করেন ১১ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৮ রানে অপরাজিত থাকা নওয়াজ এবং ৭ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় হার না মানা ২০ রান করা হাসান।
প্রোটিয়াদের সবচেয়ে সফর বোলার তাবরেজ শামসি। এই স্পিনার ২৫ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। আর একটি করে উইকেট পেয়েছেন বিয়র্ন ফরচুন ও ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৬৪/৮ (মিলার ৮৫*, মালান ২৭, ফন বিলিয়ন ১৬, ফরচুন ১০; জাহিদ ৩/৪০, নওয়াজ ২/১৩, হাসান ২/২৯)।
পাকিস্তান: ১৮.৪ ওভারে ১৬৯/৬ (বাবর ৪৪, রিজওয়ান ৪২, হাসান ২০* নওয়াজ ১৮*, হায়দার ১৫; শামসি ৪/২৫, ফরচুন ১/৩০, প্রিটোরিয়াস ১/৩৩)।
ফল: পাকিস্তান ৪ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজ পাকিস্তান ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: মোহাম্মদ নওয়াজ।
সিরিজসেরা: মোহাম্মদ রিজওয়ান।