নিউজিল্যান্ডে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ হয়ে গেছে তামিম-মুশফিকদের। আজ (বুধবার) থেকে তাই বিধিবদ্ধ জীবনের মধ্যে আর থাকতে হচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই এখন মুক্তির আনন্দ প্রত্যেক ক্রিকেটারের চোখে-মুখে। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ক্রাইস্টচার্চ ছেড়ে কুইন্সটাউনে এরই মধ্যে পৌঁছেও গেছেন ক্রিকেটাররা। ক্রাইস্টচার্চ ছাড়ার আগে সেই মুক্তির আনন্দ ফুটে উঠেছে তামিম ইকবালের কণ্ঠে!
আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড মিশন। কুইন্সটাউনে পাঁচদিনের ক্যাম্প করার পাশাপাশি একটি অনুশীলন ম্যাচও খেলবে তারা। অবশ্য এর আগে তাদের কোয়ারেন্টিতে থাকতে হয়েছে ১৪ দিন! ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশ ছেড়ে ৯ মার্চ পর্যন্ত বিধিবদ্ধ জীবন কাটাতে হয়েছে সেখানে। একভাবে বলতে গেলে নিঃসঙ্গ জীবন।
এমন পরিস্থিতিতে থাকাটা যে সহজ ছিল না, সেটাই জানালেন তামিম, 'অবশ্যই, অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয় এসব বিরতি। এবার আমাদের সময় প্রায় ৪৫ দিনের, সাধারণ পরিস্থিতিতে এই সফর হয়তো ২০ দিনেই শেষ করে আমরা বাড়ি ফিরতে পারতাম। এখন ১৪ দিন আইসোলেশনে (কোয়ারেন্টিন) থাকতে হলো। কিন্তু এখন সময়টাই এমন। সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়মকে শ্রদ্ধা করতেই হবে আমাদের। সামনে তাকাতে হবে।’
অবশ্য বিধিবদ্ধ জীবন শেষে এখন যে মুক্ত হওয়া গেছে। সেটাতেই খুব আনন্দিত তামিম, ‘ভালো ব্যাপার হলো, এখন আমরা মুক্ত, তাজা বাতাসে শ্বাস নিতে পারছি। আইসোলেশনের সময় কেবল নির্দিষ্ট একটু সময় এই সুযোগ ছিল। এখন সব ভালো।'
কোয়ারেন্টিনের কড়াকড়িতে হাঁপিয়ে ওঠা তামিম-মুশফিকদের ‘বন্ধ দ্বার’ আজ থেকে খুলে গেছে। তাই 'বন্দিত্ব' ঘুচে যাওয়ায় আনন্দে আত্মহারা তামিম সহ দলের সবাই, 'খুব ভালো লাগছে এখন। আমাদের জন্য এরকম অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম। সুরক্ষা বলয়ে আমরা আগেও ছিলাম, কিন্তু পুরোপুরি আইসোলেশনে আগে থাকিনি।'
অবশ্য এই সময়ে নিউজিল্যান্ডের সরকারের আন্তরিকতারও প্রশংসা করেছেন ওয়ানডে অধিনায়ক, 'সত্যি বলতে, তারা (নিউজিল্যান্ড সরকার) আমাদের দেখভাল খুব ভালোভাবে করেছে। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট যেভাবে সবকিছুর ব্যবস্থা করেছে, আমাদের দল থেকে আমরা কেবল ধন্যবাদই জানাতে পারি। এরকম অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাওয়া সহজ নয়। তবে তারা আমাদের যতটা সম্ভব স্বস্তিতে রাখার চেষ্টা করেছে।'