গত বছরের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ শেষ করেই বাংলাদেশ ছাড়েন ড্যানিয়েল ভেট্টরি। করোনাভাইরাসের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ থাকায় কিউই এই স্পিন বোলিং কোচকে পরে আর পায়নি বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ শুরু হলে নিউজিল্যান্ডে কোয়ারেন্টিন জটিলতায় বাংলাদেশে তার আসা হয়নি। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে অবশেষে নিজ দেশেই শিষ্যদের কোচিং করোনার সুযোগ এসেছে ভেট্টরির সামনে। বৃহস্পতিবার কুইন্সটাউনে মিরাজ-নাসুম-মেহেদীদের অনুশীলন করিয়ে একপ্রকার আবেগী হয়ে উঠেন বাংলাদেশের এই স্পিনিং কোচ।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় অনুশীলন শুরু করে সফরকারী দল। ৫ ঘণ্টা কুইন্সটাউনের সবুজ গালিচায় চলে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং অনুশীলন। এমন দিনে পুরনো শিষ্যদের কাছে পেয়ে আপ্লুত এই স্পিনিং কোচ বলেছেন, ‘ফিরতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। বিশেষ করে কুইন্সটাউনে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা হওয়াটা দারুণ ব্যাপার। পুরো এক বছর পর সবাইকে দেখতে পারাটা আমার জন্য বিশেষ অনুভূতি।’
অবশ্য লম্বা সময় পর ভেট্টরি নিজেও কোচিংয়ে যুক্ত হয়েছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে এতদিন ‘গৃহবন্দি’ হয়ে ছিলেন। তাইতো বৃহস্পতিবার মিরাজদের অনুশীলন করাতে পেরে ভালো লাগা ছুঁয়ে গেছে সাবেক এই ক্রিকেটারের, ‘নেটে স্পিনারদের সঙ্গে কাজ করে দারুণ লেগেছে। লম্বা সময় পর এমনটা হলো। তাই যেকোন ক্রিকেট, যেকোন আউটডোর অ্যাক্টিভিটিই আমার কাছে ভালো লাগছে।’
মার্চে শেষ হওয়া অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সেরা পাঁচ বোলারদের তিনজনই ছিলেন স্পিনার। এরমধ্যে কিউই লেগস্পিনার ইশ সোধি ৫ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে শীর্ষে আছেন। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার অ্যাস্টন অ্যাগার, নিউজিল্যান্ডে মিচেল স্যান্টনারও আছেন তালিকাতে। সবমিলিয়ে নিউজিল্যান্ডে পেস নির্ভর কন্ডিশনেও স্পিনাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারছেন। সর্বশেষ সিরিজই তার প্রমাণ। বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচও মনে করিয়ে দিলেন সেটা, ‘আমার মনে হয় স্পিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এখানে। মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি অস্ট্রেলিয়া সিরিজে সফল ছিল। এমনকি অ্যাস্টন অ্যাগার, অ্যাডাম জাম্পারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্পিন সাদা বলের ক্রিকেটের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
সে হিসেবে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সাফল্য পেয়েছিলেন মিরাজ। নিউজিল্যান্ডে মাটিতেও মিরাজের তেমন পারফরম্যান্স আশা করছেন ভেট্টরি, ‘নিজের অভিজ্ঞতা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্সের বিচারে মিরাজ দলকে অনেক কিছু দিতে পারবে। সঙ্গে মেহেদী এবং নাসুম আছে, তারাও দলে জায়গা করে নিতে পারলে দলের পারফরম্যান্সে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।’