সিরিজ আগেই হাতছাড়া হয়েছে। এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য শেষ ম্যাচটি জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর। সেই লক্ষ্যটা ভীষণ কঠিন বাংলাদেশের। বৃষ্টির কারণে কুড়ি ওভারের ম্যাচ ১০ ওভারে নেমে আসার পর ব্যাটিংয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে নিউজিল্যান্ডে। অকল্যান্ডে ১০ ওভারে স্বাগতিকরা করেছে ৪ উইকেটে ১৪১। জিততে হলে বাংলাদেশকে প্রতি ওভারে তুলতে হবে ১৪ রানের বেশি (১৪.২০)।
মাত্র ১০ ওভারের ম্যাচ। স্বাভাবিকভাবেই নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা প্রত্যেকটি বল সীমানা ছাড়া করতে চাইবেন। তারা সেটি করেছেনও। আর তাদের সেই চেষ্টায় বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ‘প্রচেষ্টা’ অব্যাহত! অকল্যান্ডেও ক্যাচ মিসের মহড়া চলেছে বাংলাদেশের। অন্যদিকে চার-ছক্কায় বৃষ্টিতে ভাসিয়েছেন কিউই ব্যাটসম্যানরা।
দুই হাতের ফাঁক গলে বল বেরিয়ে গেছে রুবেল হোসেনের কাছ থেকে। বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার হিসেবে পরিচিত মোসাদ্দেক হোসেনও নাম তুলেছেন ক্যাচ মিসের তালিকায়। আর সৌম্য সরকার দৌড়ে এসেও কেন বল তালুতে নিতে পারলেন না, সেটি সত্যিই যন্ত্রণাদায়ক।
কয়েক দফা বেঁচে গিয়ে ওপেনার ফিন অ্যালেন মাত্র ২৯ বলে করেছেন ৭১ রান। বিধ্বংসী ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ১০ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায়। শেষ ওভারে তিনি আউট হন তাসকিন আহমেদের বলে।
বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসে নতুন জীবন পেয়ে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন কিউই ব্যাটসম্যানরা। এমনিতেই শুরু থেকে তাণ্ডব চালিয়েছেন দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও ফিল অ্যালেন। অনেক চেষ্টার পর বিধ্বংসী গাপটিলকে ফেরাতে পেরেছে সফরকারীরা। মেহেদী হাসানের বলে আফিফ হোসেনের হাতে ধরা পড়ার আগে ১৯ বলে ৪৪ রান করেছেন তিনি। ঝড়ো ইনিংসটি কিউই ওপেনার সাজান ১ চার ও ৫ ছক্কায়।
ওয়ান ডাউনে নামা গ্লেন ফিলিপস অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি। শাপমোচন করেছেন সৌম্য। এই ব্যাটসম্যানের ক্যাচটি তালুবন্দী করেছেন তিনি। শরিফুল ইসলামের বলে আউট হওয়ার আগে ফিলিপস করেছেন ৬ বলে ২ ছক্কায় ১৪ রান। আর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রান আউট হয়েছেন ড্যারিল মিচেল (৬ বলে ১১)।
১০ ওভারের ম্যাচে বোলাররা তেমন কিছুই করতে পারেননি। সবাই রান খরচ করেছেন। তবে তাদের মধ্যে একটু মিতব্যয়ী ছিলেন শরিফুল, ২ ওভারে ২১ রান দিয়ে তার শিকার ১ উইকেট। সবচেয়ে বেশি খরচ মেহেদী হাসানের, ২ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ১ উইকেট। আর তাসকিন ২৪ রান দিয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট।
সপ্তম অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লিটন দাস। প্রথমবার টস করতে নেমেই জিতেছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। যেহেতু দীর্ঘ সময় বৃষ্টি হয়েছে, তাই কন্ডিশনের সুবিধা নিতে টস জিতে ফিল্ডিং নিতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি তিনি। অকল্যান্ডের শেষ টি-টোয়েন্টিতে চোটের কারণে নেই মাহমুদউল্লাহ, তিনি ছাড়াও আরও দুটি পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজায় বাংলাদেশ।
ঊরুর চোটে ম্যাচের আগে ছিটকে গেছেন মাহমুদউল্লাহ। নিয়মিত অধিনায়কের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। তার সঙ্গে শেষ টি-টোয়েন্টির একাদশে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও রুবেল হোসেন। তারা আসায় জায়গা হারিয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।