দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ জেতা সহজ ব্যাপার নয়। আর ফরম্যাট যদি হয় ওয়ানডে, তাহলে কাজটা আরও কঠিন। পরিসংখ্যান বলছে, এতদিন কেবল অস্ট্রেলিয়ারই প্রোটিয়াদের মাঠে দুইবার ওয়ানডে সিরিজ জেতার কীর্তি ছিল। এবার একই কাতারে পাকিস্তান। সেঞ্চুরিয়নের তৃতীয় ওয়ানডে জিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্বিতীয়বার দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জেতার কীর্তি গড়লো বাবর আজমরা।
তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুটি দুই দল জেতায় সেঞ্চুরিয়নের শেষ ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল ‘ফাইনালে’। সিরিজ নির্ধারণী সেই ম্যাচ ২৮ রানে জিতে ইতিহাস গড়েছে পাকিস্তান। ফখর জামানের সেঞ্চুরি (১০১) ও বাবরের সেঞ্চুরি ছুঁই ছুঁই (৯৪) ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩২০ রান করে পাকিস্তান। রান তাড়া করতে নেমে স্বাগতিকরা ৪৯.৩ ওভারে অলআউট হয় ২৯২ রানে। ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে পাকিস্তান।
২০১৩ সালে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বে প্রথমবার দক্ষিণ আফ্রিকা জয় করেছিল পাকিস্তান। আর এবার বাবরের নেতৃত্বে এলো দ্বিতীয় সিরিজ জয়। সত্যিকার অধিনায়কের মতো সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তাই ফখর টানা দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নিলেও সেঞ্চুরিয়নের ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠেছে বাবরের হাতে। তবে সিরিজসেরা হয়েছেন ফখরই।
আইপিএল খেলতে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা দলের নিয়মিত পাঁচ ক্রিকেটার- কুইন্টন ডি কক, ডেভিড মিলার, কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিদি ও আনরিখ নর্কিয়া। তাদের না থাকার সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে পাকিস্তান। প্রোটিয়াদের ‘অনভিজ্ঞ’ বোলিং লাইনআপের সুবিধা কাজে লাগিয়ে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান উদ্বোধনী জুটিতে পায় ১১২ রান। ইমাম-উল-হক (৫৭) হাফসেঞ্চুরি করে ফিরলেও টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন ফখর। এই ওপেনার ১০৪ বলে খেলা ১০১ রানের ইনিংসটি সাজান ৯ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায়।
তার চেয়ে ভয়ঙ্কর ছিলেন বাবর। পাকিস্তানি অধিনায়ক প্রোটিয়া বোলাদের শাসন করে সেঞ্চুরির দ্বোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু ৮২ বলে ৯৪ রানে থামতে হয় তাকে। আক্রমণাত্মক ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ৭ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায়।
প্রোটিয়াদের সবচেয়ে সফল বোলার কেশব মহারাজ। এই স্পিনার ১০ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। ২ উইকেট নিয়েছেন এইডেন মারক্রাম।
বোলিংয়ে আলো ছড়ালেও আসল কাজ ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ মারক্রাম। আউট হন মাত্র ১৮ রান করে। জেজে স্মাটস (১৭) দ্রুত ফেরার পর অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা (২০) আবারও ব্যর্থ। তবে আলো ছড়িয়েছেন ওপেনার জানেমান মালান (৭০)। এরপর কাইল ভেরেইন (৬২) ও আন্দিলে ফেলুকাওয়ের (৫৪) হাফসেঞ্চুরি জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। কিন্তু হয়নি। ২৮ রানে হারের সঙ্গে সিরিজও হাতছাড়া হয়েছে তাদের।
বোলিংয়ে আলো ছড়িয়েছেন মোহাম্মদ নওয়াজ। পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিনার ৭ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। তার মতো ৩ উইকেট পেতে শাহীন আফ্রিদির খরচ ৩ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩২০/৭ (ফখর ১০১, বাবর ৯৪, ইমাম ৫৭, হাসান ৩২*, সরফরাজ ১৩; মহারাজ ৩/৪৫, মারক্রাম ২/৪৮)।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৯.৩ ওভারে ২৯২ (মালান ৭০, ভেরেইন ৬২, ফেলুকাও ৫৪, বাভুমা ২০, মহারাজ ১৯; নওয়াজ ৩/৩৪, শাহীন ৩/৫৮)।
ফল: পাকিস্তান ২৮ রানে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজ পাকিস্তান ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: বাবর আজম।
সিরিজসেরা: ফখর জামান।