আবারও আলোচনায় সেই বাবর আজম

ওয়ানডেতে ব্যাটসম্যানদের সিংহাসনটা নিজের দখলে নিয়েছেন বাবর আজম। তিনি কেন সেরা, এর প্রমাণ দিলেন টি-টোয়েন্টিতেও। দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৯ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। তাতে ব্যাট হাতে মূল ভূমিকাই ছিল অধিনায়ক বাবরের। তাই ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।

এই জয়ে ৪ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে সফরকারীরা। ফলে শেষ ম্যাচটি হয়ে থাকলো সিরিজ নির্ধারণী।

২০৪ রান তাড়ার লক্ষ্যে খেলতে নেমে নিজেদের আগের সেরা রেকর্ডকেই পেছনে ফেলেছে পাকিস্তান। আগের সফল সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডটি ছিল ১৮৯ রানের। তাও আবার এই সিরিজেই!

এবার এই বড় লক্ষ্যে জয়ের জন্য মূল ভিতটা গড়ে দেন ওপেনার বাবর আজম। সঙ্গী ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। দু’জনে মিলে গড়েন ১৯৭ রানের উদ্বোধনী জুটি। রান তাড়ার হিসেবে এই জুটি আবার সর্বোচ্চ! তবে সার্বিকভাবে টি-টোয়েন্টির চতুর্থ সর্বোচ্চ ছিল এই জুটি।

লিজাড উইলিয়ামসের বলে বাবর যখন ফেরেন, তখন জয়ের দ্বারেই অবস্থান করছিল পাকিস্তান। বাবর ৫৯ বলে করেন ১২২ রান। যা তার ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি।

অবশ্য এর সঙ্গে পাকিস্তানের হয়ে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়েছেন বাবর। তার ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও ৪টি ছয়। অপর ওপেনার রিজওয়ান অবশ্য ৪৭ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও দুটি ছয়। পাকিস্তান ১ উইকেট হারিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ১৮ ওভারেই।  

সেঞ্চুরিয়নে টসে জিতে শুরুতে বোলিং নিয়েছিল পাকিস্তান। আগের ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ানো প্রোটিয়ারা এই ম্যাচেও ভালো সম্ভাবনা জাগায় ব্যাটিং বান্ধব উইকেটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে। ৫ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছিল ২০৩ রানের বড় সংগ্রহ।

দুই ওপেনার জানেমান মালান ও এইডেন মারক্রামের ঝড়ো ব্যাটিংয়েই বড় সংগ্রহের ভিত পায় প্রোটিয়ারা। মোহাম্মদ নওয়াজের বলে মারক্রাম ৩১ বলে ৬৩ রানে বোল্ড হলে ভাঙে ১০৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। এর পরের ব্যাটসম্যান জর্জ লিন্ডে অবশ্য ১১ বলে ২২ রানের মিনি ঝড় তুলেছিলেন। তাকে ফাহিম আশরাফ বোল্ড করে বিদায় দিলে ৪০ বলে ৫৫ রানে ফেরেন আরেক ওপেনার মালান।

বাকিরা অবশ্য সেভাবে বড় ইনিংস খেলতে পারেনি। তার পরেও রাসি ভ্যান ডার ডাসেনের ২০ বলে ৩৪ রানের সুবাদে ৫ উইকেটে ২০৩ রান করে স্বাগতিকরা।

পাকিস্তানের হয়ে ৩৮ রানে দুটি উইকেট নেন নওয়াজ। একটি করে নিয়েছেন শাহীন আফ্রিদি, ফাহিম আশরাফ ও হাসান আলী।