খুলনার পথে মাশরাফি বাহিনী

খুলনার পথে মাশরাফি বাহিনীজিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগামী ১৫ জানুয়ারি শুরু হবে টাইগারদের চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি মিশন। তার আগে প্রস্তুতির জন্য আজ শুক্রবারই মাশরাফি বাহিনী রওনা দিয়েছে খুলনার উদ্দেশে। দুপুর নাগাদ তারা খুলনায় নির্ধারিত হোটেলে পৌঁছে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দুটি দলের মধ্যে টি-টোয়েন্টির ৪টি ম্যাচের এই সিরিজের প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে ১৫ জানুয়ারি। একদিন পর পর ম্যাচ ৪টি হবে খুলনার শেখ আবু নাসের বিভাগীয় স্টেডিয়ামে। খেলা উপলক্ষে খুলনায় ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস।
অনেক নাটকীয়তার পর জিম্বাবুয়ে সিরিজের ভেন্যু হিসেবে খুলনা নির্ধারিত হওয়ার পর সেখানকার ক্রীড়াপ্রেমীরা আনন্দে উদ্বেলিত। এরই মধ্যে তারা খোঁজ নিতে শুরু করেছেন কবে থেকে খেলার টিকিট পাওয়া যাবে। স্টেডিয়াম পাড়ায় আগ্রহীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে নিরাপত্তা বলয়। শুক্রবার বিমানযোগে যশোর হয়ে খুলনায় আসবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। পুলিশের কঠোর পাহারার মধ্যে তাদের হোটেলে পৌঁছানো হবে। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকবে পুলিশের শক্ত অবস্থান। শনিবার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মাশরাফিরা। ক্যাম্পে থাকা ২৪ জন ক্রিকেটারকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে এ প্রস্তুতি ম্যাচ হবে। ক্যাম্পের ১৪ জন ক্রিকেটার বাদে বাকি ক্রিকেটাররা বিসিএল খেলতে রবিবার খুলনা ত্যাগ করবেন।
বিসিবির মিডিয়ার কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানান, বিসিবির ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১১ জানুয়ারি খুলনায় আসার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু ভেন্যুতে একটু বেশি সময় অনুশীলনের সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য বিসিবি আগেই টিমকে খুলনায় পাঠিয়ে দিচ্ছে। অনুশীলন ক্যাম্পে থাকছে ২৪ জন ক্রিকেটার। তবে শুক্রবার খুলনায় পৌঁছানোর পর মাঠে নামবে না টাইগাররা।

এদিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র বিশেষ শাখার এডিসি শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, জাতীয় দলের সদস্যরা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে দুপুরে যশোর বিমানবন্দরে নামবেন। সেখান থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি বাসে করে তাদের কঠোর নিরাপত্তায় খুলনার সিটি ইন হোটেলে পৌঁছে দেওয়া হবে। খেলোয়াড়রা খুলনায় থাকাকালে মহানগরী থাকবে নিরাপত্তা বলয়ে। হোটেল সিটি ইন থেকে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম পর্যন্ত খুলনা-যশোর মহাসড়কে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। সড়কে পোশাকধারীসহ সাদা পোশাকের পুলিশ থাকবে। গোয়েন্দা পুলিশ এবং বিশেষ শাখার সদস্যরাও সতর্ক নজরদারি রাখবেন। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে থাকবে পুলিশের বিশেষ টিম। বিভিন্ন উঁচু ভবনের ছাদ থেকে দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে পুলিশি নজরদারী থাকবে। এ ছাড়া হোটেল এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল থাকবে নিয়ন্ত্রিত।

খুলনার ভেন্যু ম্যানেজার আব্দুস সত্তার কচি বলেন, আপাতত মাঠ প্রস্তুতির কাজ জোরেশোরেই চলছে। কম সময়ের মধ্যে মাঠটি খেলার উপযোগী করাটা একটা চ্যালেঞ্জ। খুলনার সম্মানের স্বার্থে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। সাইড স্ক্রিন, ডিজিটাল স্ক্রিন বোর্ডসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করার জন্য সময়মত বিসিবির টেকনিশিয়ানরা হাজির হবেন।

১২ জানুয়ারি আসবে জিম্বাবুয়ে। ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে খেলা। একদিন বিরতিতে খেলা চলবে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। খেলা চলাকালে ক্রিকেটাররা হোটেল সিটি ইন-এ থাকবেন। খেলা শেষে ২৩ জানুয়ারী উভয় দল খুলনা ত্যাগ করবে।

খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামীম আহসান বলেন, এ অঞ্চলে দেশের সব থেকে বেশি খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও আমরা বড় ধরনের খেলা থেকে বঞ্চিত হই। দীর্ঘদিন পর খুলনা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচ খুলনাবাসীর জন্য সৌভাগ্যের।

ছবি: ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়ের ফেসবুক পেজ থেকে সংগ্রহিত
/এসএম/এফএ/