শ্রীলঙ্কা সিরিজ শুরু হওয়ার আগেই আইসিসির বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ নম্বরে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। লঙ্কানদের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে তিন ধাপ এগিয়ে দুই নম্বরে উঠে এসেছেন এই অফ স্পিনার। অর্থাৎ, শীর্ষস্থান থেকে একধাপ পেছনে। মিরাজের এই উন্নতির রহস্য কী?
সাদা বলের ক্রিকেটে দুর্দান্ত সময় কাটানো ডানহাতি স্পিনার উন্মোচন করলেন সেই রহস্য। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতাই মিরাজকে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। গত বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। বড় দলগুলোর বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানদের সামলাতে নিজেকে অন্যভাবে গড়েছেন এই স্পিনার।
মিরাজের অভিষেক হয়েছিল টেস্ট ফরম্যাট দিয়ে। বেশ কিছুদিন টেস্ট খেলার পর ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয়। টেস্টে ভালো করলেও ওয়ানডে ক্রিকেটে সেভাবে আলো ছড়াতে পারছিলেন না মিরাজ। বিশ্বকাপে বড় বড় দলের বিপেক্ষে খেলেই আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন তিনি।
বুধবার সংবাদমাধ্যমকে মিরাজ জানালেন তেমনটাই, ‘টেস্ট দিয়েই আমার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে ওয়ানডেতে তেমন সুযোগও পাইনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে খেলা শুরু হয়। ওখান থেকে ছোট ছোট পারফর্ম করতে করতে আজকে এই জায়গায়। ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের রানের জন্য অনেক তাড়া থাকে। আমার মনে হয়েছে, এই জায়গাতে ফোকাস রেখে বোলিং করতে পারলে আমার সুযোগ বেশি থাকবে। বিশ্বকাপ আমার জন্য অনেক বড় ইভেন্ট। ওখানে খেলেই আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। ওখানে বড় বড় ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিং করতে গিয়ে আমাকে নতুন নতুন অনেক কিছু ভাবতে হয়েছে।’
এর আগে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুইয়ে উঠেছিলেন দুই বাংলাদেশি। ২০০৯ সালে প্রথমবার সাকিব আল হাসান, আর ২০১০ সালে বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে মিরাজের নাম উঠলো। এমন অর্জনে দারুণ খুশি মিরাজ, ‘আলহামদুলিল্লাহ। র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে আসতে পেরে আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। আমি কখনও ভাবিনি ওয়ানডে ক্রিকেটের র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে আসবো।’
এই অর্জনের পেছনে সতীর্থ থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফদের ভূমিকার কথা স্মরণ করলেন মিরাজ, ‘সবাই অনেক সাপোর্ট করছে, টিমমেটরা সবাই আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। আমার নিজের কাছেও অনেক ভালো লাগছে যে, আমার টিমমেটরা সবাই আমাকে সাপোর্ট করছে। এটা আসলে আমার জন্য অনেক বড় একটা পাওয়া। আমি টিমমেট, টিম ম্যানেজমেন্টের সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’