বাংলাদেশ করলো ১২২

শেষ টি-টোয়েন্টিতেও ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারলো না বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ওপেনিংয়ে ভালো শুরু পায়। তবে সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ইনিংস বড় করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার চমৎকার বোলিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে করেছে ১২২ রান।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ব্যাটসম্যানরা করেছেন ক্যাচ প্র্যাকটিস। বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন সহজ ক্যাচ দিয়ে। তবে এজন্য অস্ট্রেলিয়ার বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং প্রশংসার দাবিদার। বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন ড্যান ক্রিস্টিয়ান-নাথান এলিসরা। সবচেয়ে সফল এলিস। টি-টোয়েন্টি অভিষেকে হ্যাটট্রিক করা এই পেসার ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। ক্রিস্টিয়ান ৪ ওভারে ১৭ রান খরচায় পেয়েছেন ২ উইকেট। আর একটি করে উইকেট নিয়েছেন অ্যাশটন টার্নার, অ্যাশটন অ্যগার ও অ্যাডাম জাম্পা।

তাদের চমৎকার বোলিংয়ের সামনে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেছেন নাঈম শেখ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান মাহমুদউল্লাহর। সুবিধা করতে পারেননি তৃতীয় টি-টোয়েন্টি জয়ের নায়ক আফিফ হোসেন (১০) ও নুরুল হাসান সোহান (৮)। প্রথমবার সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন ৮ বলে অপরাজিত ছিলেন ৪ রানে।

তারপরও ওপেনিংয়ে খারাপ করেননি মেহেদী

সৌম্য সরকার শেষ টি-টোয়েন্টির একাদশে থাকবে কিনা, এ নিয়ে সংশয় ছিল। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান জায়গা ধরে রাখলেও ওপেনিংয়ে তার ওপর আস্থা রাখেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। তার জায়গায় নাঈম শেখের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন শেখ মেহেদী হাসান। তার স্কোর হয়তো আহামরি কিছু নয়, তারপরও অন্তত ওপেনিংয়ে ভালো শুরু তো পেয়েছে বাংলাদেশ।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন মেহেদী। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে মেহেদী ১২ ‍বলে করেছেন ১৩ রান। মেরেছেন দুই বাউন্ডারি।

১৩ রান মোটেও ভালো পারফরম্যান্স নয়। তবে আগের চার টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিংয়ে যে খারাপ অবস্থা গেছে, সেই তুলনায় প্রশংসার দাবিদার শেষ টি-টোয়েন্টির পারফরম্যান্স। অ্যাশটন টার্নারের বলে অ্যাশটন অ্যাগারের হাতে সহজ ক্যাচ দেওয়ার আগে মেহেদী উদ্বোধনী জুটিতে নাঈমের সঙ্গে ৪.৩ ওভারে যোগ করে যান ৪৩ রান। যেখানে নাঈম-সৌম্য জুটি ছিলেন পুরোপুরি ব্যর্থ।

বাজে শটে নাঈমের বিদায়

ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন নাঈম শেখ। কিন্তু বাজে শটে আবারও উইকেট বিলিয়ে এলেন নাঈম শেখ। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও একই ভুল করেছিলেন নাঈম। রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ফিরেছিলেন। শেষ ম্যাচের ভুলটা আরও বড়। ড্যান ক্রিস্টিয়ানের লাফিয়ে ওঠা বল শুধু শুধু রিভার্স সুইপ করতে গেলেন। শট খেলার সময় হাত থেকে ব্যাট ফসকেও যায় এই ওপেনারের। পয়েন্টে দাঁড়ানো অ্যাশটন অ্যাগার ক্যাচ প্র্যাকটিস করেন।

ফেরার আগে নাঈম ২৩ বলে করে যান ২৩ রান। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক থাকা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মেরেছেন এক চারের সঙ্গে এক ছক্কা।

ফিরে গেলেন সাকিব

সাকিব আল হাসানের কাছে প্রত্যাশা সবসময় বেশিই থাকে। শেষ টি-টোয়েন্টিতেও ছিল। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের শুরুটাও ভালো হলো। কিন্তু টেনে নিতে পারলেন না ইনিংস। অ্যাডাম জাম্পার বলে আউট হয়ে গেছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের সব ম্যাচেই ভালো শুরু পেয়েছেন সাকিব। যদিও কোনোটি বড় করতে পারেননি। শেষ ম্যাচেও একই অবস্থা। সিঙ্গেলসের ওপর ভর দিয়ে ইনিংস গড়তে মনোযোগী ছিলেন তিনি। তাই তার ১১ রানের ইনিংসে নেই কোনও বাউন্ডারি। মুখোমুখি ২০তম বলে সাকিব সাজঘরে ফেরেন জাম্পার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে।

অ্যাগারকে ক্যাচ প্র্যাকটিস করালেন মাহমুদউল্লাহ

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ক্যাচ প্র্যাকটিস করাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডারদের! প্রথম ৪ উইকেটের তিনজনই ফেরেন সহজ ক্যাচ দিয়ে। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও সেই কাতারে। বোলার অ্যাশটন অ্যাগারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

বিশাল এক ছক্কা মারলেও মাহমুদউল্লাহ সিঙ্গেলসে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। সেটাই হয়তো কাল হলো! অ্যাগারের বল লেগ সাইডে ঠেলে নিতে চেয়েছিলেন রান। কিন্তু প্রত্যাশার বেশি বাউন্স পাওয়া বলটি তার ব্যাটের কানায় লেগে উঠে যায়। সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করতে কোনও অসুবিধাই হয়নি বোলার অ্যাগারের।

আউট হওয়ার আগে মাহমুদউল্লাহ ১৪ বলে করেন ১৯ রান। তার ইনিংসে আছে এক ছক্কার মার।

অন্তত দুই অঙ্কের ঘরে তো গেলেন সৌম্য!

২, ০, ২, ৮- এই হলো সৌম্য সরকারের আগের চার ম্যাচের স্কোর। ওপেনিংয়ে ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া এই ব্যাটসম্যান পজিশন বদলে নামলেন চার নম্বরে। তাতেও যে শেষ টি-টোয়েন্টিতে সাফল্যের মুখ দেখছেন, তা নয়। তবে অন্তত দুই অঙ্কের ঘরে তো যেতে পারলেন সৌম্য!

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে প্রথমবার দুই অঙ্কের ঘরে গিয়েছে সৌম্যর রান। ড্যান ক্রিস্টিয়ানের বলে আউট হওয়ার আগে করেন ১৬ রান। ১৮ বলের ইনিংসে মেরেছেন এক চারের সঙ্গে এক ছক্কা।

চার নম্বরে নেমে শুরুতে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে সৌম্যকে। তবে মানিয়ে নিতে সময় লাগেনি। মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পরের বলেই মারের বিশাল এক ছক্কা। এরপর চড়াও হতে চেয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানের ওপর। আগের বলে চার মেরে পরের বলেও হাঁকাতে চাইলেন বাউন্ডারি। কিন্তু হয়নি। লং অফে ধরা পড়েন অ্যাশটন টার্নারের হাতে।