পাকিস্তানের সামনে কোন কিছুই বাধা হতে পারলো না

প্রথম টেস্ট অল্পের জন্য পাকিস্তান জিততে পারেনি। সিরিজ সমতায় ফিরতে দ্বিতীয় টেস্টেও সব মঞ্চ প্রস্তুত করে ফেলেছিল। কিন্তু তাদের জয়ের সম্ভাবনায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল বৃষ্টি, ভেজা আউট ফিল্ড। শেষ পর্যন্ত সফরকারীদের ইতিবাচক ও মরিয়া মনোভাবের সামনে কোন কিছু আর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। দ্বিতীয় টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১০৯ রানে হারিয়ে সিরিজ ১-১ ড্র করেছে পাকিস্তান। এর ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০০১ সালের পর কোন টেস্ট সিরিজ না জেতার আক্ষেপটা আরও বাড়লো ক্যারিবীয়দের।

জ্যামাইকায় ৩২৯ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়ার পর দলকে জয়ের পথে নিয়ে যেতে বেশি কৃতিত্ব পেসার শাহীন আফ্রিদির। দুই ইনিংস মিলে ১০ উইকেট নিয়েছেন।

শেষ দিনে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৯ উইকেট। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৮০ রান। শুরুর দিকে মনে হচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুব আত্মবিশ্বাসী। বাউন্ডারি মেরে সফরকারী শিবিরে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছিলেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ও আলজারি জোসেফ। কিন্তু শাহীন জোসেফের প্রতিরোধ ভাঙলে ইনিংসের চেহারা পাল্টে যেতে সময় লাগেনি।

সিরিজে প্রভাব বিস্তার করতে না পারা হাসান আলী দ্রুত সময়ে সাজঘরে ফিরিয়েছেন এনক্রুমাহ বনার (২) ও রোস্টন চেজকে। এর পর ব্যাটসম্যানরা সাজঘরে ফিরতে থাকলে শেষ দিকে প্রতিরোধ গড়ে পাকিস্তানকে হতাশা উপহার দিচ্ছিলেন কাইল মেয়ার্স ও জেসন হোল্ডার। কিন্তু মেয়ার্সকে ৩২ রানে ফিরিয়ে জয়টা আরও তরান্বিত করেছেন শাহীন। হোল্ডার আরও কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়লেও তাকে ৪৭ রানে সাজঘরে ফিরিয়েছেন নুমান। তার বিদায়ের পর পরই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়ে গেছে ২১৯ রানে।

দ্বিতীয় ইনিংসে শাহীন ৪৩ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ার সেরা ৫১ রানে ৬ উইকেটসহ মোট ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি।১৮ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরাও তিনি।    

সংক্ষিপ্ত ফল:

পাকিস্তান: ৩০২/৯ ডি. (ফাওয়াদ ১২৪*, বাবর ৭৫; সিলস ৩/৩১, রোচ ৩/৬৮ ) ও ১৭৬/৬ ডি. (ইমরান ৩৭; জোসেফ ২/২৪, হোল্ডার ২/২৭)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৫০ (বনার ৩৭; শাহীন ৬/৫১) ও ২১৯ (ব্র্যাথওয়েট ৩৯, হোল্ডার ৪৭; শাহীন ৪/৪৩)

ফল: পাকিস্তান ১০৯ রানে জয়ী