প্রোটিয়া গতি ঝড়ে খেই হারিয়েছে বাংলাদেশ

আবুধাবিতে টস জিতে বোলিং নেওয়ার যথার্থতা প্রমাণ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররা। তাদের গতি ঝড়েই রীতিমত ধসে পড়েছে টপ অর্ডার। সুপার টুয়েলভে ৩৪ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। রিস্ট স্পিনার তাবরাইজ শামসিও উইকেট শিকারে যোগ দেওয়ায় ১৬ ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৭ উইকেটে ৭১ রান।    

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এলেই হতাশ করেছে বাংলাদেশ। ২০০৭ সালে শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া মূলপর্বে কখনো জয়ের দেখা পায়নি। এবারের আসরে ভাগ্য বদলের সুযোগ থাকলেও সফলতা আসেনি। তাতে সেমির স্বপ্ন কার্যত শেষ হয়ে গেছে। যাও টিকে আছে তা জটিল-হিসেব নিকেশের ফাঁদে বন্দি। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তাই জয়ের খোঁজে নামলেও সূচনাটা ছিল হতাশারই।

চতুর্থ ওভারে পঞ্চম বলে নাঈমকে হেন্ড্রিকসের ক্যাচ বানান রাবাদা। বামহাতি ওপেনার ফেরেন ৯ রান করে। পরের বলে নতুন নামা সৌম্যকেও সাজঘরে ফেরান প্রায় ইয়র্কার লেন্থের এক বলে। এর ফলে রাবাদার পরের ওভারে হ্যাটট্রিকেরও সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে দুই বল পর ঠিকই মুশফিকের উইকেটটি তুলে নেন প্রোটিয়া পেসার। বাড়তি বাউন্সের বলে পুরোপুরি পরাস্ত হন মুশফিক। গালিতে তার ব্যাটের কানায় লেগে ওঠা ক্যাচ নেন হ্যান্ড্রিকস। তাতে সৌম্যর পর মুশফিকও ফিরেছেন রানের খাতা না খুলে।

লিটন দাস অবশ্য দেখে শুনে খেলতে থাকেন। তার পরেও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি বাংলাদেশ। কারণ প্রোটিয়া গতি ঝড়ে বাকি ব্যাটাররা যে রীতিমত খেই হারিয়েছেন! অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ৩ রানের বেশি করতে পারেননি। আইনরিখ নর্কিয়ার শর্ট লেন্থের বলে পরাস্ত হয়েছেন। বল গ্লাভসে লেগে জমা পড়ে পয়েন্টে থাকা মার্করামের হাতে! আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েও রক্ষা পাননি। 

আফিফ তো নেমেই রাউন্ড দ্য উইকেটে এসে খেলার মাশুল দিয়েছেন। প্রিটোরিয়াসের সুইং করা বলে স্টাম্প উপড়ে যায় তার। আফিফ ফিরেছেন রানের খাতা না খুলেই। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে প্রভাবটা পরে স্কোরবোর্ডেও। ১১.৩ ওভারে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৫ রান। 

একপ্রান্ত আগলে থাকা লিটনও চাকা সচল করতে পারেননি। তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে বিদায় দেন শামসি। তাতে ৩৬ বলে ২৪ রানেই শেষ হয় লিটনের ইনিংস। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নিলেও সেটি ফলদায়ী হয়নি। তাতে ভেস্তে গেছে দুটি রিভিউ। 

সাকিব ছিটকে যাওয়ায় আজ সুযোগ হয় শামীম হোসেনের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে বড়দের মঞ্চে অভিষেক করা এই ব্যাটার প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি মোটেও। ২০ বলে ফিরেছেন ১১ রানে!  শামসির বল উঠিয়ে মারতে গিয়ে মহারাজের ক্যাচে পরিণত হযেছেন।