দুঃসময় যাচ্ছে রোমান সানার। টোকিও অলিম্পিকে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে পদক হারিয়েছেন। এবার ঘরের মাঠে হচ্ছে এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ। তাকে নিয়ে প্রত্যাশাটা আগের মতোই। কিন্তু পুরনো কাঁধের চোটটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠায় সব মিলে মানিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছে ২৬ বছর বয়সী আর্চারের।
এই বছরের শুরুতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে গিয়ে চোট পান রোমান সানা। পরিস্থিতি এমন যে অনুশীলনে বেশি তীর ছুড়লেই কাঁধের ব্যথাটা কষ্ট দেয়। মাঝে একটু কমলেও আবারও ব্যথাটা ফিরে এসেছে। এতকিছুর মধ্যেও আগামী ১৪ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য নিজেকে তৈরি করে নিচ্ছেন।
এই অবস্থায় এ প্রতিবেদকের কাছে কিছুটা পরিতাপের সুরে অনেক কথা ভাগাভাগি করেছেন। উদাহরণ টেনেছেন দেশসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানেরও। রোমানের কথায়, ‘দেখুন সাকিব ভাই চোটের কারণে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো খেলতে পারলেন না। বিশ্রামে আছেন। কিন্তু আমি তেমনটি পারছি কই? চোটের কারণে আমার অন্তত টানা এক বা দেড় মাস বিশ্রাম প্রয়োজন। তা হচ্ছে না। অনুশীলনে তীর বেশি মারলে ব্যথা বেশি করে। মাঝে চিকিৎসা নিয়ে একটু সুস্থ ছিলাম। এখন আবার বেড়েছে। আগে তো একা রাজত্ব করতাম। এখন তো অন্যরা উঠে আসছে। তাই বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে।’
রোমানের ভয়, কাঁধের ব্যথা থেকে যদি হাড্ডিতে চিড় ধরে তাহলে একদম খেলা থেকে দূরে থাকতে হবে। তাই হতাশ কণ্ঠে বলেছেন, ‘হাড়ে চিড় ধরলে বিপদে পড়ে যাবো। অথচ অনুশীলনে বেশি বেশি তীর না মারলে ভালো করা কঠিন। এই কষ্টের কথাটা আসলে সবাইকে বলতে পারছি না। আজ আমি শেষ হয়ে গেলে, কাল তো কেউ আমার খোঁজও নেবে না।’
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও শঙ্কার কথা জানালেন রোমান, ‘টানা খেলতে খেলতে কিছুটা ক্লান্ত আমি। আবার চোট থেকে সেভাবে সুস্থ হতে পারছি না। বিশ্রাম না নিলে তো ঠিক হবে না। এই বছর পুরোটাই খেলার ওপর ছিলাম। ভবিষ্যৎ নিয়ে আসলেই আমি চিন্তিত। যদি আবার কাঁধের ব্যথাটা মারাত্মক আকার ধারণ করে, ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যেতে পারে। আসলে এখন আমার জন্য চাপ নেওয়া কঠিন হয়ে গেছে।’
এত কিছুর পরও ঢাকার মাঠে ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখানোর লক্ষ্য তার। চার বছর আগে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ কোনও পদকই অর্জন করতে পারেনি। এবার কিছু একটা অর্জনের সুযোগ দেখছেন রোমান, ‘চোট সত্ত্বেও চেষ্টা করবো ভালো কিছু করতে। সবার প্রস্তুতি ভালো চলছে। আগের চেয়ে দলের অবস্থা ভালো। জুনিয়ররা ভালো করছে। রিকার্ভ বা কম্পাউন্ড ইভেন্টে পদক আসতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও কাজাখস্তান আমাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।’