‘ভালো করতে কোয়ালিটি ফুটবলার দরকার’

অস্কার ব্রুজনের পর মারিও লেমস। দুজনেই জাতীয় দল নিয়ে কাজ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য। কিন্তু কাউকে দিয়েই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য বাংলাদেশ পায়নি। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ফাইনালের টিকিট পেতে ব্যর্থ হতে হয়েছে। মালের সাফের পর কলম্বোতে চার জাতি প্রতিযোগিতাতেও রচিত হয়েছে দুঃখগাথা। 

এখন প্রশ্ন উঠেছে আদৌ কি এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে জামাল ভূঁইয়ারা? আর বেরিয়ে আসতে হলে পরিত্রাণের উপায়টা কী? পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস তার স্বল্প সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে।

বাংলা ট্রিবিউন: বারবারই আমরা শেষ মুহূর্তে এসে গোল হজম করে বিদায় নিচ্ছি। এর কারণটা আবারও একটু বলবেন।

মারিও লেমস: সমস্যা হলো আমরা আধিপত্য দেখিয়েও ম্যাচ জিততে পারিনি মনোযোগের অভাবে। শেষ মিনিট পর্যন্ত যদি তা ধরে রাখা যেত, তাহলে এই হার হতো না।

বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়রা তো অভিজ্ঞ। বারবার একই ভুল কেন?

মারিও লেমস: আসলে কার কি, কখন দায়িত্ব- এটা সম্পর্কে সবসময় সচেতন থাকতে হবে। ম্যাচের গতি-প্রকৃতি বোঝার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে খেলায় মনোযোগ রাখতে হবে। কিন্তু আমরা তো শেষ মিনিট পর্যন্ত তো তা পারছি না।

বাংলা ট্রিবিউন: ১০ জনের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুযোগ পেয়েও জিততে না পারাটা দুঃখজনক। উল্টো হারতে হয়েছে। বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

মারিও লেমস: কোনোভাবেই কাম্য নয়। একটা ম্যাচে যদি ৬ থেকে ৭ গোলের সুযোগ আসে, আর আপনি যদি গোল করতে না পারেন, তাহলে ম্যাচ জিতবেন কীভাবে? আমাদেরও তা-ই হয়েছে। অনেক সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। এভাবে হলে কোনও সময় ভালো করা যায় না।

বাংলা ট্রিবিউন: শ্রীলঙ্কা তো আহামরি দলও নয় যে তাদের হারানো যাবে না।

মারিও লেমস: শ্রীলঙ্কা তাদের মাঠে খেলবে, কঠিন ম্যাচ হবে, তা আগেই বুঝতে পারছিলাম। কিন্তু আমরা সেভাবে খেলতে পারলাম কোথায়? ম্যাচ হেরে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ হারাতে হয়েছে। একটির বেশি গোল হলো না।

বাংলা ট্রিবিউন: ফরোয়ার্ডদের এমন ব্যর্থতায় কী বলবেন? ফিনিশিং সমস্যা কবে কাটবে?

মারিও লেমস: আসলে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে ফরোয়ার্ড জোনে বেশিরভাগই বিদেশিদের আধিপত্য। এখানে স্থানীয়দের বেশি বেশি সুযোগ দিতে হবে। তাদের গোল পেতে হবে। তখন আত্মবিশ্বাস বাড়বে, জাতীয় দলে এই ছোঁয়া থাকবে। এছাড়া ভালো করতে হলে কোয়ালিটি ফুটবলার দরকার। তাদের ঠিকমতো দীর্ঘমেয়াদে প্রশিক্ষণও দরকার।

বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে সাফল্য কি সহসাই আসবে না?

মারিও লেমস: কোয়ালিটি ফুটবলার পেতে হলে বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে শুরু করতে হবে। একাডেমি থাকতে হবে। ঠিকমতো পরিচর্যা করলে তখন কোয়ালিটি ফুটবলার এমনিতেই বের হয়ে আসবে। তবে এখন যারা আছে, তাদেরও সচেতন হতে হবে। দায়িত্বপূর্ণ হতে হবে। হয়তো তখন ভবিষ্যতে সাফল্য আসতেও পারে। আসলে যতদিন এই সমস্যা থাকবে, ততদিন সাফল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সাফল্য পাওয়ার জন্য কোনও সংক্ষিপ্ত পথ নেই।

আমি মনে করি, এই জায়গা থেকে উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে বাংলাদেশের ফুটবল একসময় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।