টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর প্রথম ম্যাচ। ‘বদলের ডাক’ শুনিয়ে নতুন শুরুর প্রত্যাশায় ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। কিন্তু ব্যাটিংয়ে সেই বাংলাদেশের ছবিটাই তো ফুটে উঠলো! কুড়ি ওভারের বিশ্ব আসরের পর টপ অর্ডারের ব্যর্থতার গল্পই নতুন করে সামনে এলো। তারপরও মিডল ও লোয়ার অর্ডারের পারফরম্যান্সে লড়াই করার মতো পুঁজি পেয়েছে মাহমুদউল্লাহরা।
আজ (শুক্রবার) পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিকরা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৭ রান করেছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আহামরি সংগ্রহ না হলেও মিরপুরের এই স্কোরই আশাজাগানিয়া। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ দুই সিরিজই তার প্রমাণ!
তবে এবারের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। স্পিন ও স্লো উইকেটে যাদের খেলা নিয়মিত। সেই দিক থেকে চিন্তা করলে বোলারদের জন্য পর্যাপ্ত রানের ব্যবস্থা করতে পারলেন কই বাংলাদেশের ব্যাটাররা। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে ব্যাটারদের ব্যর্থতা ঢাকা পড়েছিল বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও ব্যর্থ টপ অর্ডার।
লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিমকে বাদ দিয়ে যাদের নেওয়া হয়েছে, তাদের কেউই কিছু করতে পারেননি। অভিষিক্ত সাইফ হাসান ১, নাঈম শেখ ১ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ৭- এই হলো টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারের পারফরম্যান্স। হতাশ করেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও (৬)। তারপরও রান ১২৭ পর্যন্ত গিয়েছে আফিফ হোসেন (৩৬), শেখ মেহেদী হাসান (৩০*) ও নুরুল হাসান সোহানের (২৮) কার্যকরী তিন ইনিংসে।
পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল বোলার হাসান আলী। এই পেসার ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ৪ ওভারে ২৪ রান খরচায় ২ উইকেট পেয়েছেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। আর একটি করে উইকেট নিয়েছেন শাদাব খান ও মোহাম্মদ নওয়াজ।
নাঈমের বিদায়
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খারাপের ‘ভালো’ ছিলেন নাঈম শেখ। দুটো হাফসেঞ্চুরি আছে তার। যদিও সুপার টুয়েলভে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের পর ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খেয়েছেন। সেই বৃত্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও ভাঙতে পারলেন না। বাজে শট খেলে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন বাঁহাতি ওপেনার।
বিশ্বকাপে ব্যাটিং, বিশেষ করে টপ অর্ডারে ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ওপেনিংয়ে ভালো শুরু পাওয়া যায়নি। পাকিস্তান সিরিজে সঙ্গী লিটন দাস বাদ পড়লেও টিকে গেছেন নাঈম। যদিও প্রথম টি-টোয়েন্টিতে কিছুই করতে পারলেন না। হাসান আলীর অনেক বাইরের বল খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভসে। ফেরার আগে ৩ বলে করেন মাত্র ১ রান।
অভিষেকে সাইফের ১ রান
টেস্টে অভিষেক হয়েছে আগেই। তবে টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথমবার সুযোগ মিলেছে সাইফ হাসানের। অভিষেকও হয়ে গেছে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে। যদিও কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে পথচলার শুরুটা মনে রাখার মতো হলো না। মাত্র ১ রান করে বিদায় নিয়েছেন ডানহাতি ওপেনার।
লিটন দাস ও সৌম্য সরকার বাদ পড়েছেন। তামিম ইকবাল ইনজুরিতে। ওপেনিংয়ে ফাঁকা হওয়া জায়গা পূরণ করলেন সাইফ। এই ম্যাচ দিয়ে আবার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটো তার যাত্রা। কিন্তু হেলায় সুযোগটা নষ্ট করলেন সাইফ। মোহাম্মদ ওয়াসিমের হালকা আউট সুইঙ্গারে ঘায়েল এই ওপেনার। বল তার ব্যাটে লেগে জমা পড়ে স্লিপে দাঁড়ানো ফখর জামানের হাতে। ফলে ৮ বলে মাত্র ১ রানে শেষ তার প্রথম ইনিংস।
উইকেট বিলিয়ে এলেন শান্ত
অনেক দিন পর দলে ফিরে একাদশে জায়গা পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে তার কাছে প্রত্যাশা ছিল অনেক। যদিও আবারও হতাশ করলেন বাঁহাতি ব্যাটার। অহেতুক শট খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে এসেছেন তিনি।
মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে বাউন্স ছিল। বলের উচ্চতা ঠিকঠাক না বুঝে শট খেলতে গেলেন শান্ত। বল ব্যাটের সাইডে লেগে উঠে যায়। সহজ ক্যাচটি বোলার ওয়াসিম নিজেই তালুবন্দি করেন। ফলে বাজে শট খেলে ১৪ বলে মাত্র ৭ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান বাঁহাতি এই ব্যাটার।
মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে বিপদ বাড়লো
শুরুতেই এলোমেলো বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। চাপ কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন নিয়ে ক্রিজে আসেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু বাংলাদেশ অধিনায়ক ব্যর্থ। বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে দলকে আরও বিপদে ছেড়ে গেছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর বাংলাদেশের পারফরম্যান্স কাঠগড়ায় তোলার সঙ্গে আঙুল উঠেছে মাহমুদউল্লাহর অধিনায়কত্বের দিকেও। তাছাড়া ব্যাট হাতেও সাফল্য পাননি তিনি। কুড়ি ওভারের ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব হারানোর গুঞ্জন উঠলেও পাকিস্তান সিরিজে টিকে গেছেন। যদিও ব্যাট হাতে দলের প্রয়োজনে আবারও মুখ লুকালেন মাহমুদউল্লাহ। মোহাম্মদ নওয়াজের বলে বোল্ড হয়ে গেছেন তিনি। তার বিদায়ে ৪০ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
দুর্ভাগ্যই বলতে হবে মাহমুদউল্লাহর। নওয়াজের লাইনে থাকা বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি। বল স্টাম্পের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় হালকা ছোঁয়া দিয়ে যায় বেলে। সামান্য ছোঁয়াতেই বেল পড়ে যায়। এরপর থার্ড আম্পায়ারের কাছে সিদ্ধান্ত গেলে আসে আউটের সংকেত। আর এরই সঙ্গে শেষ হয় মাহমুদউল্লাহর ১১ বলে ৬ রানের ইনিংস।
পাকিস্তানকে উইকেট ‘উপহার’ দিলেন আফিফ
সতীর্থ ব্যাটাররা যেখানে রীতিমতো কঠিন পরীক্ষা বসেছেন, সেখানে সাবলীল ব্যাটিংয়ে সম্ভাবনাময় এক ইনিংস গড়ে যাচ্ছিলেন আফিফ হোসেন। দারুণ সব শটে আশার আলো ছড়াচ্ছিলেন। কিন্তু সেই সুন্দর ইনিংসটার ‘মৃত্যু’ ঘটলো বাজে এক শটে। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে পাকিস্তানকে একরকম উইকেট ‘উপহার’ দিয়ে এসেছেন বাঁহাতি ব্যাটার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচে রানের খাতা না খুলেই আউট হয়েছিলেন আফিফ। টানা দুই শূন্যের পর হেসে উঠেছিল তার ব্যাট। প্রয়োজনের সময় একপ্রান্ত আগলে রেখে চমৎকার সব শটে নিজের সঙ্গে দলের রান বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু শাদাব খানের বল উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে খেলতে গিয়ে করলেন সর্বনাশ। ব্যাটে বল না লাগায় উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের স্টাম্পিং করতে কোনও অসুবিধাই হয়নি।
স্টাম্পড হয়ে ফেরার সময় তার নামের পাশে ছিল ৩৪ বলে ৩৬ রান। ইনিংসটি সাজান ২ চার ও ২ ছক্কায়।
সোহানকে থামালেন হাসান
জ্বলে উঠেছিল নুরুল হাসান সোহানের ব্যাট। সতীর্থরা পাকিস্তানের বোলারদের সামনে আত্মসমর্পণ করলেও তিনি খেলেছেন বুক ফুলিয়ে। চড়াও হয়েছিলেন প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর। অবশেষে এই উইকেটকিপার ব্যাটারকে থামিয়েছেন হাসান আলী।
সিঙ্গেলসের সঙ্গে দুটো বড় ছক্কা হাঁকিয়েছেন সোহান। কিন্তু হাসান আলীর ওয়াইড লেন্থের বলে খেই হারালেন। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে গেলে গ্লাভসবন্দি করতে ভুল করেননি মোহাম্মদ রিজওয়ান। ফেরার আগে সোহান ২২ বলে ২ ছক্কায় খেলেন ২৮ রানের ইনিংস।