বিজয় দিবস প্রীতি ক্রিকেট

আতহারের হাফসেঞ্চুরির পর পাইলট ঝড়, জিতেছে শহীদ মুশতাক একাদশ

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ২৫ মার্চ কালরাতে নির্মমভাবে নিহত হন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মুশতাক। আর আক্রমণাত্মক ওপেনার ও ক্র্যাক প্লাটুনের নির্ভীক সদস্য জুয়েল মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি ধরা পড়েন পাক বাহিনীর হাতে। ঢাকায় বেশ কয়েকটি গেরিলা অপারেশনে অংশ নেওয়া জুয়েলের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের স্মরণে বিজয় দিবসে আয়োজন করা হয় প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ। আজ (বৃহস্পতিবার) সেই ম্যাচে সাবেক ক্রিকেটাররা দেখালেন বয়স বাড়লেও ক্রিকেট সামর্থ্যে ঘুণ ধরেনি এতটুকু, ক্রিকেট মিশে আছে তাদের রক্তকণিকায়।

আজ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বসেছিল তারার হাট। প্রতি বছরের মতো এবারও ব্যাট-বল নিয়ে নেমে পড়েছিলেন নান্নু-পাইলট-আতহার-আকরামরা। তাদের ব্যাট-বলের লড়াই দেখতে গ্যালারিতে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। বেশিরভাগ সাবেক ক্রিকেটারই তাদের পরিবার নিয়ে মাঠে এসেছিলেন। দুই দলের এই প্রীতি ম্যাচে জয়ী শহীদ মুশতাক একাদশ। আতহার আলীর হাফসেঞ্চুরি ও খালেদ মাসুদ পাইলটের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শহীদ জুয়েল একাদশকে ৪২ রানে হারিয়েছে মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর নেতৃত্বাধীন শহীদ মুশতাক একাদশ।

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ১১টায় মাঠে নামে দুই দল। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে শহীদ মুশতাক একাদশ। দুই ওপেনার শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ও আতহার এনে দেন ৫২ রান। ২৪ বলে ২৬ রান করে বিদায় নেন বিদ্যুৎ। এরপর হাফসেঞ্চুরির দেখা পান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদশের প্রথম ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা আতহার। ৫৫ বলে ৭ চার ও এক ছক্কার আতহার ৬০ রানের ইনিংস খেলেন।

শেষ দিকে নেমে ঝড়ো ব্যাটিং করেন পাইলট। ১৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় খেলেন ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস। অধিনায়ক নান্নু অবশ্য সুবিধা করতে পারেননি, ৩ রানে আউট হয়েছেন। বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিকের ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান। সব মিলিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫০ রান করে মুশতাক একাদশ।

শহীদ জুয়েল একাদশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নিয়েছেন মাহমুদুল হাসান রানা।

ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীতে অংশ নেন শহীদ মুশতাক-শহীদ জুয়েল একাদশের খেলোয়াড়রা১৫১ রানের লক্ষ্যে খেলতে গিয়ে ১০৮ রানে অলআউট শহীদ জুয়েল একাদশ। মেহরাব হোসেন অপি, সাজ্জাদুল আলম শিপন, এনামুল হক মনি, মঞ্জুরুল ইসলাম- কেউই সুবিধা করতে পারেননি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রানের ইনিংস খেলেন হাবিবুল বাশার সুমন। এছাড়া ২৭ রান আসে মুশফিকুর রহমান বাবুর ব্যাট থেকে।

মুশতাক একাদশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন পেসার তারেক আজিজ।

এদিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিজয় দিবসে ‌শহীদের রক্ত বৃথা যেতে না দিতে সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে তিনি এই শপথ পাঠ করান। ভার্চুয়ালি এই শপথে যুক্ত ছিলেন বিসিবি পরিচালক, সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের ক্রিকেটাররা। বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে কেবল মাহমুদউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ জুয়েল একাদশ: মেহরাব হোসেন অপি, রকিবুল হাসান, সজল চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন, সাজ্জাদুল আলম শিপন, আব্দুল হান্নান সরকার, মাহমুদুল হাসান রানা, হাবিবুল বাশার, নাসির আহমেদ নাসু, এনামুল হক মনি, সাইফউদ্দিন আহমেদ বাবু, মুশফিকুর রহমান বাবু, মোর্শেদ আলী খান, মঞ্জুরুল ইসলাম, ওয়াহিদুল গনি।

শহীদ মুশতাক একাদশ: জাভেদ ওমর বেলিম, শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আকরাম খান, খালেদ মাসুদ পাইলট, মোহাম্মদ রফিক, এহসানুল হক সিজান, হাসিবুল হোসেন শান্ত, আতহার আলী খান, তারেক আজিজ খান, তালহা জুবায়ের, মোহাম্মদ আলী, সানোয়ার হোসেন, আজহার হোসেন শান্ত, ফাহিম মুনতাসির সুমিত।