লোয়ার অর্ডারে তুমুল প্রতিরোধ গড়েছিলেন জস বাটলার। অজিদের সামনে ২০৭ বল খেলে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ড্র করতে শেষ সেশনে টিকে থাকলেই হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হিট উইকেটে আউট হওয়ার পর দিবারাত্রির টেস্টে ২৭৫ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে অস্ট্রেলিয়া। অ্যাশেজে টানা দুই টেস্ট জেতায় ৫ ম্যাচের সিরিজে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে গেলো ২-০ তে।
অ্যাডিলেডে ৪৬৮ রানের অসম্ভব লক্ষ্যে খেলতে নেমে ইংল্যান্ড গতকালকেই হার দেখছিল। পঞ্চম দিন দেখার ছিল প্রতিরোধ তারা কতক্ষণ টিকিয়ে রাখতে পারে। প্রথম ঘণ্টায় অস্ট্রেলিয়া দু’বার আঘাত হানলে সফরকারীদের প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টিকবে না বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু জশ বাটলার চোয়ালবদ্ধ মানসিকতায় এমনই প্রতিরোধ গড়েন, যা কেউ প্রত্যাশাও করেনি। ২০৭ বল খেলে মাত্র ২৬ রান করা এই ব্যাটারের কল্যাণে ক্ষীণ হলেও ইংল্যান্ড ম্যাচ বাঁচানোর স্বপ্ন দেখছিল। তার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নও চূর্ণ হয়ে গেছে।
অথচ এই ব্যাটারই ফিরতে পারতেন ডাকে! বেঁচে গিয়ে সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগান। ক্রিস ওকসকে সঙ্গে নিয়ে পার করে দেন ৩১.২ ওভার! বাটলার একপ্রান্ত আগলে লড়াই করলেও ক্রিস ওকস ছিলেন মারকুটে। ৪৪ রান করেছেন। ওকস ফেরার পর বাটলার প্রতিরোধ গড়েন ওলি রবিসনের সঙ্গেও। পার করে দেন ১৪.২ ওভার। রবিনসনকে ফেরানো গেলেও বাটলারের প্রতিরোধটা অজিদের জন্য হুমকি হয়েই দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অসাধারণ প্রতিরোধ গড়া বাটলার ফিরে যান দুর্ভাগ্যজনক হিট উইকেটে। তার বিদায়ের পর ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়ে যায় ১৯২ রানে।
অজিদের হয়ে ম্যাচ জয়ী বোলিং করেন পেসার ঝাই রিচার্ডসন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২ রানের বিনিময়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট শিকার করেছেন। বাটলারের উইকেটটিও তার নেওয়া। দুটি করে নেন মিচেল স্টার্ক ও নাথান লায়ন। ম্যাচসেরা হয়েছেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মার্নাস লাবুশেন।