বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) সফলভাবে শেষ করতে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির খরচ হয় কয়েক কোটি টাকা। অথচ চ্যাম্পিয়ন দলেরই প্রাইজমানি ধরা হয়েছে মাত্র ১ কোটি টাকা! আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন দলকে দেওয়া হবে এই অর্থ।
২০১২ সালে বিপিএল মাঠে গড়ানোর পর ব্যাপক আলোড়ন হয়েছিল। দলের নিলাম, খেলোয়াড় নিলাম থেকে শুরু করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাক লাগিয়ে দেয় বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিপিএল যেন বর্ণহীন হয়ে পড়ে!
২০১২ সালের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন দলকে ২ কোটি টাকা প্রাইজমানি দেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় একটি গাড়ি। বিপিএলের প্রথম দুই আসরে এমন চিত্র দেখা গেলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রাইজমানিও কমেছে। সবশেষ ২০১৬ সালে দুই কোটি টাকা প্রাইজমানি পেয়েছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে রাজশাহী চ্যাম্পিয়ন হলেও কোনও প্রাইজমানি পায়নি। এক বছর বিরতি দিয়ে ফের আয়োজন হচ্ছে বঙ্গবন্ধু বিপিএল। এবারের আসরের জন্য আয়োজকরা যে প্রাইজমানি ঘোষণা করেছেন, তা অনেক কম! ১ কোটি টাকা চ্যাম্পিয়ন দলকে এবং ৫০ লাখ টাকা রানার্সআপকে দেওয়ার ঘোষণা করেছে বিসিবি।
কিন্তু অন্যান্য লিগের সঙ্গেও তুলনা করলে দেখা যাবে, সবচেয়ে কম অর্থ দেওয়া হচ্ছে দ্বিতীয় জনপ্রিয় এই লিগে! চলতি মৌসুমেই ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন দলের প্রাইজমানি ছিল বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৮ কোটি। পাকিস্তান সুপার লিগেও এই অর্থটা (পিএসএলে) প্রায় ৪ কোটি, বিগ ব্যাশেও তেমন- প্রায় ৪ কোটি। সবচেয়ে জনপ্রিয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও (আইপিএল) দেওয়া হয়ে থাকে প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি।
তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এত বড় একটি টুর্নামেন্টে এই প্রাইজমানি কি যথেষ্ট? বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘আপনারা জানেন এটা এক বছরের একটি টুর্নামেন্ট। শুরুতে এভাবেই এটা পরিকল্পনা করা। অনেক বিষয় আছে, যেগুলো আমাদের ইতোপূর্বে যে পরিকল্পনা ছিল সেভাবেই করা হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিকের বক্তব্য, ‘ক্রিকেটের প্রতি যাদের আগ্রহ বেশি, যারা ক্রিকেটকে ভালোবাসবে, তারাই বিপিএলে আসছে। এখানে কোনও ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি নেই। ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করতে যারা ইচ্ছুক, তাদের বেছে নেওয়া হবে।’
তবে ভবিষ্যতে বড় হবে প্রাইজমানির অঙ্ক, এমন আশার কথা শুনিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী, ‘বিপিএলের যে মডেল ছিল, সেটা দীর্ঘমেয়াদি। আগামীতে আমরা ভালোভাবে শুরু করবো। তখন এই বিষয়গুলো আরও বড় আকারে দেখা যেতে পারে।’