টেলরের বিদায়বেলায় যা বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক

বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট খেলে সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রস টেলর। টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে এই কিউই কিংবদন্তি ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটাই হতে যাচ্ছে তার শেষ সিরিজ। ফলে আজ (মঙ্গলবার) শেষবারের মতো ক্রাইস্টচার্চের সবুজ গালিচায় দাপিয়ে বেড়ালেন তিনি। টেস্টে আর কখনোই ২২ গজে দেখা যাবে না দেড় দশকের বেশি সময় ধরে খেলা এই ক্রিকেটারকে। তার বিদায়ে সমর্থক, সতীর্থ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও আপ্লুত।

আজ নিজের শেষ টেস্টে দারুণ এক জয় পেয়েছেন তিনি। বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ইনিংস ও ১১৭ রানের ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিকরা। যদিও একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে সুযোগ পেয়ে সুবিধা করতে পারেননি। ৩৯ বলে ২৮ রান করে আউট হয়েছিলেন এই ব্যাটার। তবে শেষ টেস্টে চমক দেখিয়েছেন বোলিং করে। এর আগে পুরো ক্যারিয়ারে ৯৯ বল করেছেন তিনি, নিয়েছিলেন ২ উইকেট। আজ ৩ বল করেই তুলে নেন এবাদত হোসেনের উইকেট।

দেশের হয়ে ৪৪৭ ম্যাচ খেলা টেলরের বিদায়ে মুমিনুলরা আবেগাক্রান্ত। সংবাদ সম্মেলনে টেলরের সুন্দর ক্যারিয়ারের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুমিনুল, ‘আমি যখন বড় হয়ে উঠেছি, তখন থেকেই তার খেলা দেখি। তিনি নিউজিল্যান্ডের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন। আমার মনে হয়, তিনি নিউজিল্যান্ডের একজন কিংবদন্তি। তিনি নিউজিল্যান্ডের অসাধারণ এক খেলোয়াড়। যেখান থেকে ক্যারিয়ার শেষ হলো, এটা ছিল দুর্দান্ত। আমার মনে হয়, তাকে আমরা সবাই মিস করবো, বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। ধন্যবাদ রস, সুন্দর ক্যারিয়ারের জন্য। জীবনের বাকি সময়ের জন্য শুভকামনা।’

সোমবার ব্যাটিংয়ে নামার সময় নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারকে ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে যথার্থ সম্মান জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে কেন টেলরকে গার্ড অব অনার, এমন প্রশ্নে মুমিনুল বলেছেন, ‘আমরা জানতাম, শেষ দুই দিন বৃষ্টি হবে। আমরা জানতাম এটাই টেলরের শেষ টেস্ট। তাই তার ক্যারিয়ারের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য প্রথম ইনিংসে গার্ড অব অনার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের একজন কিংবদন্তিকে এভাবে সম্মান জানাতে পেরে দলের সবাই খুশি।’

দ্বিতীয় দিন সকালে ডেভন কনওয়েকে রানআউট করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তারপরই মাঠে নামেন টেলর। তাকে দেখে হ্যাগলি ওভালে চারদিক থেকে শুরু হয় করতালি। একে একে সব দর্শক দাঁড়িয়েও যান তখন। মাঠে প্রবেশের সময় দুই সারিতে মুমিনুল-তাসকিনরা দাঁড়িয়ে পড়েন ক্রিজের পাশে এবং হাততালি দিয়ে টেলরকে স্বাগত জানান। ওই মুহূর্তে কিউই ব্যাটারের সঙ্গে হ্যান্ডশেকও করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এমন সম্মানে অভিভূত হয়েছেন কিউই তারকা। টেলর সামাজিক মাধ্যমে লিখেন, ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ। ক্রিজে যাওয়ার সময় সত্যিকার অর্থে সম্মানজনক মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য। এটা এমন কিছু, যা কখনোই ভুলবো না।’