টানা জয়ের পর চট্টগ্রামে শেষ ম্যাচে ঢাকার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ঢাকায় ফিরেই স্বরূপে ফিরেছে দলটি। বৃহস্পতিবার বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে চট্টগ্রামকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে কুমিল্লা।
ডি/এল পদ্ধতিতে ১৪৪ রানের লক্ষ্য পেয়েছিল কুমিল্লা। জবাবে খেলতে নেমে লিটন দাস ও ইমরুল কায়েসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১ উইকেট হারিয়েই তারা ম্যাচ জিতেছে। চট্টগ্রামের বিপক্ষে এর আগে প্রথম ম্যাচেও ৫২ রানে জিতেছিল ইমরুলের দল।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এমন সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে কুমিল্লার বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেছেন ইমরুল ও লিটন। দুজন মিলে ১৩৮ রানের জুটি গড়েন। জয় থেকে ১০ রান দূরে থাকতে আউট হন লিটন। মৃত্যুঞ্জয়ের বলে উইকেটকিপার আকবরের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে খেলেন ৫৩ রানের ইনিংস। ৩৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার।
এরপর বাকি পথটুকু সহজেই পেরিয়ে যান ইমরুল-ফাফ দু প্লেসি। ফাফ দু প্লেসির তো কোনও বলই খেলতে হয়নি। লিটনের আউটের পর পর দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে ৯ বল আগে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন ইমরুল। ৬২ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় অপরাজিত ৮১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন এই ব্যাটার।
চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে কেউই কুমিল্লার ব্যাটারদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি। ১.৩ ওভার বোলিং করে ১৪ রান দিয়ে মৃত্যুঞ্জয় একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করেছে চট্টগ্রাম। প্রথম ওভারে চ্যাডউইক ওয়ালটন বিদায় নিলে উইল জ্যাকস ও আফিফ হোসেন মিলে ঝড় তোলেন মিরপুরে। দু’জন মিলে গড়েন ৬১ রানের জুটি। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের প্রথম ওভারের শেষ দুই বলে চার ও ছক্কায় ইনিংসটাকে বড় করার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন জ্যাকস। আফিফও বড় কিছু করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু মোস্তাফিজের ওভারে ঝড় তোলার পরের ওভারেই তানভীরের ঘূর্ণিতে সাজঘরে ফেরেন আফিফ। ২১ বলে ২৭ রান করে আফিফ আউট হলেও জ্যাকসের ঝড় অব্যাহত থাকে। এরপর শামীম ও জ্যাকস মিলেই দলকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ১৩তম ওভারে মিরপুরে আসা হঠাৎ বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে পাক্কা ৬৪ মিনিট। নতুন করে ম্যাচ শুরুর পর দুই ওভার কমিয়ে ম্যাচ নির্ধারিত হয় ১৮ ওভারের। কিন্তু বৃষ্টি-বিরতিতে ছন্দপতন ঘটে চট্টগ্রামের। মোস্তাফিজের বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে ব্যাটাররা। বৃষ্টির পর খেলা শুরু হতেই শামীম ফিরে যান ২৬ রানে। তার পর জ্যাকসের ৫৭ রানে ভর করে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রান সংগ্রহ করতে পারে চট্টগ্রাম। জ্যাকস ৩৭ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন।
কুড়ি ওভারের ক্যারিয়ারে এর আগে আরও দুইবার ৫ উইকেট নেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও বিপিএলে এবারই প্রথম ৫ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। ৪ ওভার বোলিং করে ২৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে চট্টগ্রামের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কারটিও জিতেছেন তিনি। এছাড়া নাহিদুল ও তানভীর একটি করে উইকেট নিয়েছেন।