মিরাজের শেষ ওভারের জাদুতে শিরোপা স্বপ্ন বেঁচে থাকলো চট্টগ্রামের

আগের ম্যাচে দারুণ এক সেঞ্চরি করে খুলনাকে প্লে-অফে তুলেছেন আন্দ্রে ফ্লেচার। সোমবারের এলিমিনেটর ম্যাচেও নায়ক হতে পারতেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য ৭৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেও ম্যাচ জেতাতে পারলেন না ক্যারিবীয় ব্যাটার। মিরাজের শেষ বলে থিসারা পেরেরা যখন টপএজ হলেন, উইকেটের এক কোনায় দাঁড়িয়ে হতাশা লুকানোর চেষ্টা করলেন তিনি। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে খেলা ক্যারিবীয় দুই ক্রিকেটার কেনার লুইস ও চ্যাডউইক ওয়ালটন বেশকিছুক্ষণ ধরে স্বদেশিকে সান্ত্বনা দেওয়ারও চেষ্টা করলেন। সবাই যখন হাত মিলিয়ে বিদায় নিলেন, তখন বিষন্ন মনে উইকেট ছেড়ে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফর্ম করা ফ্লেচারের। 

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে তার পারফরম্যান্স ম্লান করে দিয়ে চট্টগ্রামের জয়ের নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৬ রানের। কিন্তু আন্দ্রে ফ্লেচার ও থিসারা পেরেরা মিলে নিতে পারলেন মোটে ৮ রান। তাতেই ৭ রানের জয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে নানা ঘটনার জন্ম দেওয়া চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়া দলটির বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে তারা।

১৯০ রানের কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা আগের ম্যাচের মতো করতে পারেননি খুলনা।  গত ম্যাচে ৭৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা মেহেদী ফিরে গেছেন মাত্র ২ রানে। এরপর পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ভাবে ব্যর্থ হওয়া সৌম্য সরকারও ফিরে যান ১ রান করে। এর পরেও মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে ফ্লেচারের দারুণ জুটিতে ম্যাচে ফেরে খুলনা। ৪৯ বলে ৬৪ রানের জুটি ভাঙে মুশফিকের চিরচেনা ব্যাটিংয়ে! হুট করেই স্বভাবসুলভ লেট কাট করতে গিয়ে ৪৩ রানে মিরাজের শিকারে পরিণত হয়েছেন। ২৯ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় মুশফিক নিজের ইনিংসটি সাজান। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের বিদায়েও খুব বেশি সমস্যা হয়নি খুলনার। ইয়াসির আলির ঝড়ো ইনিংসে জয়ের পথেই থাকে। কিন্তু ১৯তম ওভারে বাউন্ডারি মারতে গিয়ে ডিপ পয়েন্টে শরিফুলের শিকার হন ইয়াসির। ২৪ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ইয়াসির খেলেন ৪৫ রানের ইনিংস। 

শেষ ৯ বলে খুলনার জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ১৮ রানের। কিন্তু শরিফুলের বাকি তিন বলে দুই রান নিতে পারেন ফ্লেচার-পেরেরা জুটি। ফলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ১৪ রানের। কিন্তু মিরাজের টাইট বোলিংয়ে ফ্লেচার-পেরেরা নিতে পারেন মাত্র ৮। 

চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে শুরুতে কিছুটা খরুচে বোলিং করলেও ম্যাচ জয়ের নায়ক মূলত মিরাজই। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মুশফিক ও ইয়াসিরকে তুলে নেন ডানহাতি এই স্পিনার। সবমিলিয়ে ৪০ রান খরচায় তার শিকার দুই উইকেট। এছাড়া নাসুম, শরিফুল, মৃত্যুঞ্জয় নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করা চট্টগ্রামের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথমেই ফিরে যান ওপেনার জাকির হাসান। এমনিতে অসুস্থতার কারণে দলের নিয়মিত পারফরমার উইল জ্যাকস ম্যাচ খেলতে পারেননি। তারপরও ক্যারিবীয় দুই ক্রিকেটার কেনার লুইস ও চ্যাডউইক ওয়ালটনে ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রানের সংগ্রহ পায় চট্টগ্রাম। লুইস ৩২ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৯ রানের ইনিংস খেলেছেন। ওয়ালটন ৪৪ বলে ৭ চার ও ৭ ছক্কায় ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের ৩০ বলে ৩৬ রানের ইনিংসও অবদান রেখেছে চট্টগ্রামের স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করতে।

খুলনা টাইগার্সের বোলারদের মধ্যে খালেদ আহমেদ ৪০ রানে দুটি উইকেট নেন। এছাড়া নাবিল আহমেদ, রুয়েল মিয়া ও মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট নেন।