নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের নায়ক এবাদত হোসেন। মাউন্ট মঙ্গানুইতে প্রথম ইনিংসে ১ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৬ উইকেট। ঐতিহাসিক এই জয়ে আইসিসির মাসসেরার লড়াইয়ে থাকলেও জিততে পারেননি। আজ (সোমবার) আইসিসির এমন ঘোষণার দিনে মিশ্র অনুভূতি হয়েছে এবাদতের। পুরস্কার বঞ্চিত হওয়ার দিনেই যে প্রথমবার ডাক পেয়েছেন ওয়ানডে দলে। সাদা জার্সিতে আলো ছড়িয়ে এবার রঙিন জার্সি গায়ে তোলার অপেক্ষায় এই পেসার।
এবাদত বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছেন ১২ টেস্ট। নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে নিষ্প্রভ থাকলেও কিউইদের মাটিতে গিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটিয়েছেন ডানহাতি পেসার। আর ওই পারফরম্যান্সই খুলে দিয়েছে তার ওয়ানডে দলের দরজা।
যদিও নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার আগে ভীষণ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এবাদত। ডানহাতি এই পেসারের বোলিং গড় ছিল হতাশাজনক। কিউইদের ডেরাতে যাওয়ার আগে ১০ টেস্টে ছিল ১০ উইকেট। সর্বশেষ সফরে দুই টেস্ট শেষে তার সংগ্রহ এখন ১২ টেস্টে ২০ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে নিয়মিত টেস্ট খেলা এবাদত খুব বেশি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। ১১ ম্যাচে তার শিকার ১০ উইকেট।
এবাদতকে ওয়ানডে দলে ডাকা প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘এবাদত আমাদের টেস্ট বোলার, ওকে আমরা ওয়ানডে ফরম্যাটের জন্য চিন্তা-ভাবনা করেছি। সার্বিকভাবে ও (এবাদত) যেভাবে কাজ করছে আমাদের পেস বোলিং ইউনিটের সঙ্গে, ওরা যথেষ্ট ইমপ্রেসড, আমরাও ওর ওপর যথেষ্ট খুশি। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে আমরা দেখেছি, ওর নিয়ন্ত্রণ সাদা বলের ক্রিকেটে যথেষ্ট ভালো। এজন্য ওকে বিবেচনা করা হয়েছে।’
এদিকে নিউজিল্যান্ডে সাদা পোশাকে অভিষেক হওয়া মাহমুদুল হাসান জয়ও সুযোগ পেয়েছেন ওয়ানডে দলে। যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের এই ব্যাটারের সাম্প্রতিক ফর্মও দুর্দান্ত। বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের জার্সিতে ২২৭ রান করেছেন। ১৩ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। ৪২.৫০ গড়ে রান ৫১০। তরুণ এই ক্রিকেটার ব্যাটিং স্টাইল ও আত্মবিশ্বাসের কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দলে জায়গা পেয়েছেন।
জয়কে দলে নেওয়া প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যা, ‘ও (জয়) যে স্টাইলে ব্যাটিং করে... আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। আমাদের মিডল অর্ডারে, যখন যেখানে টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করবে তাকে ব্যবহার করতে পারবে। আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। ও যে স্টাইলে ব্যাটিং করে, অনেক কনফিডেন্টলি ব্যাটিং করে। জয় নিউজিল্যান্ড সিরিজে দারুণ একটা ইনিংস খেলেছে। আমরা ৫০ ওভারের ফরম্যাটেও ওর কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করি। আগামী দিনে ওর থেকে আরও ভালো সার্ভিস পাবো।’
নিউজিল্যান্ড সিরিজে ওয়ানডে দলে থাকলেও এই ফরম্যাটে খেলা হয়নি নাসুম আহমেদের। টেস্ট ও ওয়ানডেতে সুযোগ না পেলেও এখন পর্যন্ত ১৮ টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। মূলত নাসুম টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স দিয়ে নির্বাচকদের আকৃষ্ট করেছেন। নান্নু বলেছেন, ‘নাসুম কিন্তু ধারাবাহিকভাবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যথেষ্ট ভালো করছে। ওই ধারাবাহিকতায় তাকে ওয়ানডে দলে অন্তর্ভুক্ত করা। আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী, ও ভালো করবে।’