বাছাই পর্ব উতরে প্রথমবারের মতো ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ খেলতে নিউজিল্যান্ডে গেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আগামী ৪ মার্চ বিশ্বকাপ শুরু হলেও বাংলাদেশের মাঠের লড়াই শুরু হবে পরদিন, প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। তাই প্রথমবার বড় মঞ্চে খেলার সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাইছে লাল-সবুজ দল। সবাই নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিতে মুখিয়ে রয়েছেন। আইসিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা।
৫ মার্চ ডানেডিনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলবে প্রথম ম্যাচ। তারপর খেলবে নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলাকে নিজেদের স্বপ্নপূরণ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেছেন, ‘আইসিসি নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলা আমাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্নপূরণ। তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেললেও কখনও ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলিনি। তাই আমরা খুব শিহরিত। এই বিশাল মঞ্চে পারফর্ম করতে অধীর হয়ে আছি। আমরা এই সুযোগের সর্বোচ্চটা ব্যবহার করতে চাই।’
ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েরা কখনোই খেলার সুযোগ পায়নি। ফলে অনভিজ্ঞ বাংলাদেশ দল ইন্টারনেট ও পুরনো ম্যাচ ঘেঁটে প্রতিপক্ষের ধারণা নিচ্ছে, ‘ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা কখনও ওয়ানডে খেলিনি। তাই এটা হতে যাচ্ছে নতুন এক অভিজ্ঞতা। টিভি ও ইন্টারনেটে তাদের অনুসরণ করেছি। জানতাম, কোনও একদিন তাদের বিপক্ষে আমাদের খেলতে হতে পারে। আমাদের অ্যানালিস্টরা প্রস্তুতিতে সহায়তা করছেন। তাদের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে আমরা জানার চেষ্টা করেছি।’
দলের সবার মতো নিগারও এই টুর্নামেন্টকে নিজের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন, ‘এই প্রতিযোগিতা একটি বিশাল সুযোগ। কারণ, আমরা দেখাতে পারবো আমাদের সম্ভাবনা রয়েছে এবং একটি দল হিসেবে উন্নতি করছি।’
তামিম-সাকিবরা কখনও এশিয়া কাপ জিততে পারেনি। সেই আক্ষেপ দূর করেছেন মেয়েরা। ২০১৮ সালে ভারতকে হারিয়ে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। নিগারের মতে, এশিয়া কাপ জয়ই বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেটকে আলোতে এনে দিয়েছে, ‘২০১৮ সালে এশিয়া কাপে আমাদের জয়ের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটের চেহারা পাল্টে গেছে। আগে তো কিছু লোক জানতোই না বাংলাদেশে নারী দল বলে কিছু আছে। এখন মানুষের আগ্রহ বাড়ছে এবং তারা জানতে চায় কোথায়, কীভাবে আমরা খেলতে যাচ্ছি।’
নিজের দল নিয়ে তৃপ্তির কথা জানিয়ে নিগার আরও বলেছেন, ‘আমাদের বর্তমান দলের দুই ওপেনার মুর্শিদা খাতুন ও শারমিন আক্তার সুপ্তা কোয়ালিফায়ারে ভালো খেলেছিল এবং খুব ভালো অবস্থানে আছে। রুমানা আহমেদ দলের প্রয়োজনে সবসময় এগিয়ে আসে এবং সালমা খাতুন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। বোলিং আক্রমণে আমরা একজন তরুণ ফাস্টবোলার সুরাইয়া আজমিনকে যুক্ত করেছি। ফারিহা তৃষ্ণা বাঁহাতি বোলিংয়ে আছে। আমাদের দলে তিন জন সাবেক অধিনায়ক সালমা, রুমানা ও জাহানারা আলমকে পেয়েছি, যারা আমাকে অনেক সহায়তা করছেন।’
বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক মঞ্চে প্রথমবার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা হচ্ছে নিগার সুলতানারও। যাকে অনেক বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন নিগার, ‘আমাদের প্রথম বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারা আমার জন্য বিশাল সুযোগ। যদি সেখানে ভালো করতে পারি, আমাদের সবার জন্য একটি দারুণ ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে।’