বিপিএল ফাইনাল

কারও টিকিটের আনন্দ, কেউ খুঁজছেন হন্যে হয়ে

ফরচুন বরিশাল ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ম্যাচ দিয়ে পর্দা নামছে ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল)। ফাইনাল ঘিরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বাইরে উৎসবের আমেজ। অনেকেই একটি টিকিটের আশায় হন্যে হয়ে স্টেডিয়ামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু কোথাও নেই টিকিট। কেউ কেউ আবার টিকিট হাতে ম্যাচ শুরুর তিন ঘণ্টা আগে গেটের সামনে হাজির!

দীর্ঘদিন পর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে দর্শক ফিরেছিল মাঠে। বিপিএলও দর্শকভরা গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দর্শক ছাড়াই মাঠে গড়ায় টুর্নামেন্ট। তবে রাউন্ড রবিন লিগের শেষ দিকে এসে আবারও দর্শক ফেরায় বিসিবি। যদিও সেখানে অনুমতি নেই সাধারণ দর্শকদের! আগের ম্যাচগুলোতে ৪ হাজার টিকিট ছাড়লেও ফাইনালে ১০ হাজার টিকিট ছেড়েছে আয়োজকরা। সব টিকিটই যাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিসহ বিপিএল সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের হাতে। অর্থাৎ দর্শক প্রবেশের বিষয়টি পুরোপুরিই আয়োজকদের নিয়ন্ত্রণাধীন।

যদিও বেশ কিছু দর্শকের অভিযোগ, বিভিন্ন গেটের সামনে চড়া দামে টিকিট বিক্রয় হচ্ছে। খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা গেছে, স্টেডিয়ামের চার নম্বর গেটের এক কোনায় কিছু ব্যক্তি ব্ল্যাকে টিকিট বিক্রয় করছে। সাধারণ গ্যালারির ২০০ টাকার টিকিট তারা বিক্রি করছে এক হাজার টাকায়। তবে এমন ঘটনা খুব বেশি দেখা যায়নি।

স্টেডিয়ামে উপস্থিত বেশিরভাগ দর্শকই ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছ থেকে টিকিট পেয়ে খেলা দেখতে এসেছেন। ফাইনালে বরিশাল জিতবে, এমন প্রত্যাশা বেশিরভাগ সমর্থকের। তাদেরই একজন সজিব। যাত্রাবাড়ি থেকে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখতে আসা এই তরুণ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আশা করি, বরিশাল জিততে। সাকিব আজও অলরাউন্ডস পারফরম্যান্স করে আমাদের জেতাবে।’

টিকিট কোথা থেকে পেয়েছেন জানতে চাইলে সজিব বলেছেন, ‘আমাদের টিকিট ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে পেয়েছি। আমাদের এক বড় ভাই আছেন, উনি ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’

বরিশালের সমর্থক বেশি হলেও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সমর্থকও কম নয়। স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেটে ঢোকার অপেক্ষায় থাকা জুনায়েদ নামের এই সমর্থক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘উইন অর উইন। জয় আমাদের হবেই। আমাদের দলের সবাই ফর্মে আছে। কেউ আমাদের আটকে রাখতে পারবে না। আজকে কুমিল্লা তৃতীয় শিরোপা ঘরে তুলবে।’

এদিকে হতাশ হয়ে অনেক ক্রিকেটপ্রেমীকে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রত্যেকেই অপেক্ষায় আছেন যদি সোনার হরিণ একটি টিকিটের সন্ধান পাওয়া যায়। শরিফুল-রনি নামের দুই বন্ধু কুমিল্লা থেকে এসেছেন প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে। কিন্তু হাতে টিকিট নেই। অপেক্ষায় আছেন কোনোভাবে যদি টিকিট পাওয়া যায়!

স্টেডিয়াম এলাকায় কুমিল্লা-বরিশালের জার্সি ও পতাকা বিক্রি হচ্ছে। খাইরুল নামের এক পতাকা বিক্রেতা জানালেন, বেশ ভালোই বিক্রি হচ্ছে, ‘আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে। বরিশালের ক্যাপ আর পতাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। মাঠে দর্শক থাকলে আমাদের জন্য খুব ভালো হয়। আমরা কিছু বেচাবিক্রি করতে পারি।’

এদিকে যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ-আনসার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছেন। এ ব্যাপারে লিয়াকত নামের এক কনস্টেবল বলেছেন, ‘দুপুর থেকেই এখানে ভিড়। এখনও কোনও সমস্যা হয়নি। আমরা সতর্ক আছি।’