তামিমের কাছে ফারুকি যেন দুঃস্বপ্নের নাম

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটা চরম হতাশায় কাটলো অধিনায়ক তামিম ইকবালের। তিন ম্যাচেই দেশসেরা ওপেনারের কাছে দুঃস্বপ্নের নাম ছিলেন আফগান পেসার ফজল হক ফারুকি। তিন ওয়ানডেতে একই রকম বল, একই শটে সাজঘরে ফিরেছেন। প্রথম দুই ম্যাচে এলবিডাব্লিউ হলেও শেষ ম্যাচে হয়েছেন বোল্ড। তিন ম্যাচেই আউটের ধরণ, আউটের বল এবং তামিমের ভুলগুলো যেন ছিল স্রেফ কার্বন কপি! ফলে একই বোলারের বিপক্ষে বার বার আউট হয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হলেন তামিম।

দুঃস্বপ্নের শুরু সেই প্রথম ওয়ানডেতে। ফজলের একটি গুড লেংন্থের ডেলিভারিতে পরাস্ত হন তামিম। রক্ষণাত্মকভাবে খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। লাইনে পিচ করা ডেলিভারিটির ইম্প্যাক্ট ছিল স্টাম্প বরাবর। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে উইকেটটি পেয়ে যায় আফগানিস্তান।  দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ছিল একই পরিণতি। ফজলের ভেতরের দিকে ঢোকা ডেলিভারিটি চেষ্টা করেও খেলতে পারেননি দেশসেরা ওপেনার। বল গিয়ে আঘাত হানে তার প্যাডে; আবারও এলবিডাব্লিউ। সোমবার একই ডেলিভারিতে ফজলের বলের লাইনই বুঝতে পারেননি তামিম। সামনে পা বাড়িয়ে ব্যাট চালালেও উপড়ে যায় স্টাম্প। তাতে ৮, ১২-র পর আজ করলেন মাত্র ১১ রান। 

২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করা তামিমের দ্বিপক্ষীয় সিরিজে নির্দিষ্ট বোলারের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে আউটের রেকর্ড ছিল না। এবার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাই হলো।তিন ম্যাচের দ্বিপক্ষীয় সিরিজে দুইবার একই বোলারের বিপক্ষে আউটের রেকর্ড অবশ্য অহরহই আছে। ২০০৮ সালে আয়ারল্যান্ডের ডেভিড ল্যাংফোর্ড স্মিথ মিরপুরে তামিমকে দুইবার আউট করেছিলেন। একই বছরের মার্চে কাইল মিলস দুইবার নেন তামিমের উইকেট। ওই বছর আরও একবার মিলস তাকে দুইবার আউট করেছেন। এছাড়া কেমার রোচ, স্টুয়ার্ট ব্রড, আজমল শেহজাদ, এমপোফু, মিচেল জনসন, মোহাম্মদ হাফিজ, টেন্ডাই চাতারা, ধাওয়ান কুলকারনি, কাগিসো রাবাদা, মিরওয়াইজ আশরাফ, জিমি নিশাম, ডেভন বিশু, দুশমন্ত চামিরা তিন ম্যাচ সিরিজে দুইবার করে আউট করেছেন।

মূলত বাজে ফুটয়ার্কের মাশুল দিচ্ছেন তামিম। যেই সমস্যাটা খুব পুরনো। বাংলাদেশের হয়ে ২২০ ওয়ানডেতে (চলতি ম্যাচসহ) ব্যাটিং করে ২১১ বার আউট হয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক। এর মধ্যে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন ২০ বার, বোল্ড হয়েছেন ৩২ বার।

অবশ্য তামিমের ফুটওয়ার্ক নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। কয়েক দিন আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ‘তামিম চায় তার সামনের পা একটু সোজাসুজি রাখতে। এটা খুব দ্রুত হবে না। আমরা বলছি দীর্ঘমেয়াদী ভাবনার কথা। আরও তিন-চার বছর খেলতে হলে, ওর সামনের পা আরেকটু সোজা করতে হবে। আরও অনেক সাফল্য সে পাবে। যদি এলবিডব্লিউ না হয়, ওকে আউট করা খুব কঠিন হয়ে যাবে। অনেক রান করবে ও।’