তৃতীয় ওয়ানডে ১৯৩ রানের মামুলি লক্ষ্য পেয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছে আফগানিস্তান। হোয়াইটওয়াশ এড়াতে ওপেনিং জুটিতেই তুলেছে ৭৯ রান। সাকিব এসে আঘাত হানলেও জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে তাদের স্কোরবোর্ড। সফরকারীদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ২৮ ওভারে ১৫২ রান।
দুই ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও রিয়াজ হাসান শুরুতে হাত খুলে খেলছিলেন। অবশ্য শরিফুলের সপ্তম ওভারে এজ হয়ে ক্যাচও উঠেছিল রহমানুল্লাহর। কিন্তু কিপার ও স্লিপের ফাঁক গলে চার হয়ে যায় তা। একই ওভারে মেরেছেন ছয়ও। ১৬তম ওভারে সাকিবের বলেই আসে সাফল্য। তার বলে পরাস্ত হওয়া রিয়াজ হাসান ক্রিজের সামান্যতম বাইরে ছিলেন। প্রথম দফায় বেলস ফেলতে পারেননি মুশফিক। কিন্তু ততক্ষণেও রিয়াজ ভেতরে ঢুকতে পারেননি। বাইরেই ছিল পা। মুশফিক দ্বিতীয় চেষ্টায় ঠিকই স্টাম্পড করেছেন রিয়াজ হাসানকে। তাতে ভাঙে ৭৯ রানের ওপেনিং জুটি। রিয়াজ ৪৯ বলে ৩৫ রান করে ফিরেছেন।
তবে অপরপ্রান্ত আগলে খেলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নিয়েছেন রহমানুল্লাহ। ব্যাট করছেন ৮২। এই সময় ক্যাচও তুলেছিলেন তিনি। শরিফুলের ২৫তম ওভারে পুল করেছিলেন। কিন্তু লং লেগে দাঁড়ানো মাহমুদউল্লাহ সহজ ক্যাচটি হাতে জমাতে পারেননি! আফগান ওপেনারকে সঙ্গ দিচ্ছেন রহমত শাহ। তিনি ক্রিজে আছেন ৩৫ রানে।
আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার মিশনে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাট করতে নামলেও বেশি পুঁজি পায়নি। শেষ ওয়ানডেতে ৪৬.৫ ওভারে অলআউট হয়েছে ১৯২ রানে!
চট্টগ্রামে আজ ৫০তম ওয়ানডে খেলতে নেমেছিলেন লিটন। মাইলফলকের ম্যাচটা হাফসেঞ্চুরিতেও রাঙিয়েছিলেন। শুরুর জড়তা কাটিয়ে এমন ছন্দ তুলেছিলেন, মনে হচ্ছিল সেঞ্চুরিটাও বুঝি পেয়ে যাবেন। কিন্তু ৮৬ রানে ব্যাট করতে থাকা ব্যাটার ফেরার পরেই এলোমেলো হয়ে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। বাকিরা কোনও ভূমিকাই রাখতে পারেননি! লিটনের ১১৩ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার।
তামিমের বিদায়ের পর মূলত লিটনের ব্যাটেই জড়তা কাটিয়ে উঠা বাংলাদেশের। এই সময় তাকে সঙ্গ দেন সাকিবও। কিন্তু সফট ডিসমিসালে ইনিংস লম্বা হয়নি তার। অথচ এক পর্যায়ে লিটনের যোগ্য সঙ্গী-ই হয়ে উঠেছিলেন। ৪৩ রানে প্রথম উইকেট পড়ার পর ৬১ রান যোগ করে এই জুটি। শত রানও ছাড়ায় তাদের কল্যাণে। পোক্ত হয়ে ওঠার পথেই সাকিব বোল্ড হন ওমারজাইয়ের বলে। তার ৩৬ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার।
এমন পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ গড়ার কথা থাকলেও মুশফিক চাপ বাড়িয়ে দেন আরও। রশিদ খানের বলে ২৭তম ওভারে গ্লাভসবন্দি হয়েছেন। প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি এই সিরিজে অভিষেক করা ইয়াসিরও। রশিদের পরের ওভারেই গুলবাদিনের ক্যাচে পরিণত হয়েছেন। মুশফিক করেছেন ৭ রান আর ইয়াসির মাত্র ১।
তখন শুধু একপ্রান্ত আগলে থাকা লিটনের ব্যাটেই এগিয়ে চলতে থাকে বাংলাদেশ। দারুণ ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির বার্তা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ ৮৬ রানে নবীকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ হয়েছেন গুলবাদিন নাইবের। তার বিদায়ের পরেই দিশা হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। যখন নাকি রান উঠানোর দিকেই মনোযোগ থাকার কথা, তখন ব্যাটাররা শুধু আসা-যাওয়ার খেলায় মেতে উঠেন। প্রথম ম্যাচ জয়ের নায়ক আফিফ দলীয় ১৬০ রানে নবীর বলে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন। করেছেন মাত্র ৫। তার মতো ব্যর্থ ছিলেন মিরাজও। রান আউটে অফস্পিনিং অলরাউন্ডার ফিরেছেন ৬ রানে।
রশিদের বলে তাসকিন লেগ বিফোরে ফিরলে পতন হয় অষ্টম উইকেটের। অথচ তখনও একপ্রান্ত আগলে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু বাকি দুই ব্যাটার শরিফুল ও মোস্তাফিজুর দ্রুত ফিরে গেলে দুইশোর আগেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষের দুই ব্যাটারই ফিরেছেন রানআউটে! নাহলে ইনিংসট আরও বড় হওয়ার সুযোগ ছিল। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত থাকেন ২৯ রানে।
আফগানদের দুই স্পিনারই ইনিংসের দৃশ্য বদলে দিয়েছেন। রশিদ খান ৩৭ রানে নেন ৩ উইকেট। ২৯ রানে দুটি নেন মোহাম্মদ নবী।একটি করে নিয়েছেন ফজল হক ফারুকি ও আজমতউল্লাহ ওমারজাই।