হারের বৃত্ত ভাঙতে আফগান-পরীক্ষায় বসছে বাংলাদেশ

ওয়ানডে সিরিজে পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট তুলে নেওয়ার স্বপ্ন দেখলেও তামিম ইকবালদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেটি হয়নি। তবে ২-১ ব্যবধানে ৫০ ওভারের সিরিজ জিতেছে  বাংলাদেশ। এবার শুরু হচ্ছে কুড়ি ওভারের লড়াই। টি-টোয়েন্টির পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকা আফগানিস্তানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় বসছে মাহমুদউল্লাহরা। টানা ৮ ম্যাচ হারের হতাশা দূরে ঠেলে জয়ের খোঁজে বাংলাদেশ।

হারের বৃত্ত ভাঙার লক্ষ্যে আজ (বৃহস্পতিবার) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিকাল ৩টায় আফগানিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিকরা। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টেলিভিশন ও টি স্পোর্টস।

ওয়ানডে ক্রিকেটের সব যেন বাংলাদেশের আত্মস্থ! ওয়ানডে বিশ্বকাপের সুপার লিগের পয়েন্ট তালিকা সেটাই প্রমাণ করে। ১০০ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এখন সবার শীর্ষে। কিন্তু রঙিন পোশাকে সবচেয়ে ছোট সংস্করণ এলেই যেন ‘জ্বর’ উঠে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিতে, র‌্যাঙ্কিংয়ে ও পারফরম্যান্সে এগিয়ে আফগানরা। র‌্যাঙ্কিংয়ের মতো মুখোমুখি লড়াইয়েও এগিয়ে সফরকারীরা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দুই দল এখন পর্যন্ত ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে আফগানদের ৪ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় দুটিতে। দুই দল ২০০৯ সালে একবারই দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে। সেখানে বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল আফগানিস্তান। এবার ঘরের মাটিতে প্রতিশোধ নেওয়ার পালা বাংলাদেশ দলের।

কিন্তু কাজটা মোটেও সহজ নয় মাহমুদউল্লাহর দলের। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স মোটেও সুখকর নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে। আইসিসির সহযোগী সদস্য স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেরেছে। কোনোরকমে সুপার টুয়েলভে উঠলেও ম্যাচ জিততে পারেনি। দেশে ফিরে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাজে পারফরম্যান্স অব্যাহত ছিল মাহমুদউল্লাদের। সব মিলিয়ে টানা ৮ হারে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ জয়ে ফেরার জন্য মুখিয়ে।

ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ অবশ্য আশার কথাই শুনিয়ে গেছেন, ‘আশা তো অবশ্যই জেতার। আমি সবসময় বলি, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট এমন একটা ফরম্যাট যেকোনও দিন যেকোনও দল জিততে পারে। আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমরা কালকের (বৃহস্পতিবার) ম্যাচটা ফোকাস করছি। আমাদের শুরুটা নিয়ে আমরা ফোকাস করছি।’

তবে ব্যাটিংয়ে মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসানের সাম্প্রতিক ফর্মটাও বেশ চিন্তার জোগান দিচ্ছে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভাগ্য ফেরাতে হলে তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক কিছু পেতে হবে দলকে। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ জনিয়েছেন তারা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলবেন, ‘প্রথম বল থেকেই আক্রমণে যেতে হবে। অ্যাটাক মানে ইনটেন্ট নিয়ে ব্যাটিং করা। অনেক সময় হয়তো কন্ডিশন বিবেচনা করতে হবে বা পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আপনি যদি ইনটেন্ট নিয়ে ব্যাটিং না করেন তাহলে আপনি নিজেই শেলের মধ্যে থাকবেন। একবার শেলের মধ্যে ঢুকে গেলে বের হওয়া অনেক কঠিন। যেখানেই ব্যাটিং করুক, ইনটেন্ট নিয়ে ব্যাটিং করা, স্ট্রেন্থ অনুযায়ী ব্যাটিং করা গুরুত্বপূর্ণ।’

সাগরিকায় ব্যাটিং বান্ধব উইকেটে খেললেও মিরপুরের উইকেট ঐতিহ্যগতভাবেই কিছুটা ধীরগতির এবং স্পিন বান্ধব হয়ে থাকে। চট্টগ্রামে আফগান তিন স্পিনার সেভাবে প্রভাব ফেলতে না পারলেও ঢাকাতে তারা থ্রেট হয়ে উঠতে পারেন। ঢাকার উইকেটে রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, কাইস আহমেদ ও মুজিব উর রহমানকে নিয়ে গড়া স্পিন বিভাগ বাংলাদেশের চেয়ে বেশ কিছুটা এগিয়েই থাকবে। এখানে ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরীক্ষায় বসতে হবে। বিশেষ করে লেগ স্পিনার রশিদকে নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে ব্যাটারদের। শুধু আফগান স্পিনই নয়, পাওয়ার হিটিংয়েও এগিয়ে তাদের ব্যাটাররা।

মাহমুদউল্লাহ অবশ্য আশা করছেন স্পোটিং উইকেটেই ম্যাচ হবে, ‘আশা করি ভালো উইকেট, স্পোর্টিং উইকেট হবে। বোলারদের পাশাপাশি ব্যাটাররাও সুবিধা পাবে। একটু সময় কাটানো গেলে ব্যাটাররা ভালো সময় কাটাতে পারবে। ’

এই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হতে পারে তরুণ ওপেনার মুনিম শাহরিয়ারের। বিগত ম্যাচগুলোতে নিয়মিত একাদশে থাকা নাঈম শেখ জায়গা হারাতে পারেন। এছাড়া মিডল অর্ডারে অভিষেক হতে পারে ইয়াসির আলীর। চলতি সিরিজে ওয়ানডে অভিষেক হলেও তেমন কিছু করতে পারেননি চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা এই ক্রিকেটার।

এদিকে অনুশীলনে চোটাক্রান্ত মুশফিকুর রহিমের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে টিম ম্যানেজমেন্ট। শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারলে তার বদলে সুযোগ হতে পারে শেষ মুহূর্তে দলে জায়গা পাওয়া নুরুল হাসান সোহানের। ওয়ানডে সিরিজে তিন পেসার নিয়ে খেললেও আজ তিন স্পিনার নিয়ে মাঠে নামতে পারবে বাংলাদেশ দল। বাঁহাতি স্পিনার সাকিবের সঙ্গে স্পিন বিভাগ সামলানোর দায়িত্বে দেখা যেতে পারে নাসুম আহমেদ ও শেখ মেহেদী হাসানকে।