দিনের খেলা শেষ হতে বাকি ছিল ২ বল। হাতছানি ছিল সেঞ্চুরির। ড্যান লরেন্সের দুর্ভাগ্য। ৯১ রানে আউট হলে গেলেন তিনি। তার ভাগ্য খারাপের দিনে সৌভাগ্যের পরশে জো রুট তুলে নিলেন সেঞ্চুরি। তিনবার ‘জীবন’ পেয়ে ইংলিশ অধিনায়ক পেলেন শতকের দেখা। বার্বাডোজ টেস্টের প্রথম দিনটা হয়ে রইলো ইংল্যান্ডের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৪৪ রান।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ইংলিশদের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান ওপেনার জ্যাক ক্রলি। দলীয় স্কোর তখন মোটে ৪। ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে তারা অ্যালেক্স লিস ও রুটের ব্যাটে। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে ক্রিজে পড়ে থাকার চেষ্টা করেছেন লিস। তবে এই ওপেনারের প্রতিরোধ ভাঙেন ভিরাস্বামী পেরমল। তার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ১৩৮ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৩০ রান করে ফিরে যান লিস।
পরের সময়টা শুধু রুট ও লরেন্সের। ইংলিশ অধিনায়ক তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৫তম সেঞ্চুরি। যদিও তাতে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের রিভিউ না নেওয়া ও ফিল্ডারদের সহায়তা আছে। তিনবার জীবন পেয়ে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছেন রুট।
ব্যক্তিগত ২৩ রানেই আউট হয়ে যেতে পারতেন রুট। পেরমলের একটি বল তার ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটকিপার জোশুয়া দা সিলভার গ্লাভসবন্দি হয়েছিল। কিন্তু আম্পায়ার আউট দেননি। ক্যারিবিয়ানরাও রিভিউ নেয়নি। ৩৪ রানে আরেকবার ‘জীবন’ পান ডানহাতি ব্যাটার। এবার তার ক্যাচ ফেলে দেন দা সিলভা। পরে ৮৭ রানে আরেকবার বেঁচে যান রুট। এবার ইংলিশ অধিনায়ককে সহজ রান আউট করার সুযোগ নষ্ট করেন জন ক্যাম্পবেল।
বারবার ‘জীবন’ পাওয়া রুট সেঞ্চুরি পূরণ করে দিনশেষে অপরাজিত ১১৯ রানে। ২৪৬ বলের হার না মানা ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ১২ বাউন্ডারিতে।
লরেন্স যে সৌভাগ্যের ছোঁয়া পাননি, তা নয়। ৭২ রানেই ফিরে যেতে পারতেন তিনি যদি স্লিপে ক্যাচটি নিতে পারতেন জেডেন সিলস। ওই সময় আউট হলেই হয়তো কষ্টটা কম পেতেন ইংলিশ ব্যাটার। এমন সময় এবং এমন পরিস্থিতিতে বিদায় নিলেন যে, নিজে তো হতাশায় ডুবলেনই, সঙ্গে দলের দিনটা পুরোপুরি সুখকর হতে দিলেন না। দিনের খেলা শেষ হওয়ার মাত্র ১ বল আগে আউট হয়ে যান লরেন্স। অন্যদিকে মাত্র ৯ রানের জন্য মিস করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ১৫০ বল খেলে ১৩ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৯১ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান জেসন হোল্ডারের শিকার হয়ে। লরন্সের বিদায়ের পরই শেষ হয় দিনের খেলা।
হোল্ডারের সঙ্গে সিলস ও পেরমল প্রত্যেকে পেয়েছেন একটি করে উইকেট।