আল আমিনের ঘূর্ণিতে শিরোপা স্বপ্ন শেষ আবাহনীর

প্রিমিয়ার লিগে হ্যাটট্রিক শিরোপাধারী আবাহনী। ঐতিহ্যবাহীরা শিরোপার আশায় ছিল এবারও। কিন্তু গাজী গ্রুপের কাছে হেরে যাওয়ায় আবাহনীর শিরোপা স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলো আগেই।

আগে ব্যাট করে মাহমুদুল হাসানের ৮৮ রানের সুবাদে গাজী গ্রুপ আবাহনীকে ২৭৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল। ৩৬ ওভারে সেই কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নামলে গাজী গ্রুপের স্পিনার আল আমিন জুনিয়রের ঘূর্ণি তাদের দিশেহারা করে ছাড়ে। আবাহনী অলআউট হয়ে যায় ২৪৯ রানে। ফলে ২৭ রানের দারুণ এক জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ।

এই হারে শিরোপার পথ থেকে ছিটকে গেছে ঐতিহ্যবাহী আবাহনী। ১২ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে শেখ জামাল। অন্যদিকে ১২ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে থাকলেও শিরোপা জেতার কোনও সুযোগ নেই আবাহনীর। আগামী তিন ম্যাচ জিতলেও শেখ জামালকে কোনওভাবেই পেছনে ফেলতে পারবে না তারা।

বৃষ্টির কারণে বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৩৬ ওভারে। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের শুরুটাও ছিল ভালো। ওপেনিং জুটিতে যোগ হয় ৬২ রান। মেহেদী মারুফ ৩৫ রানে ফিরলে ভেঙে যায় জুটি। তার পর দ্বিতীয় উইকেটে মাহমুদুল হাসান ও ফরহাদ হোসেন মিলে ১১৯ রানের জুটি গড়েছেন। ১২ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন মাহমুদুল। ৬৭ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৮ রানের ইনিংসটি সাজান এই ব্যাটার। মাহমুদুলের আউটের পর স্কোরবোর্ডে আরও ৭ রান তুলতে ফরহাদও বিদায় নেন। ৪৮ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫৫ রানে আউট হন তিনি।

এরপর মিডল অর্ডারে খেলা ধ্রুব শোরের ৪৩ বলে ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেট হারিয়ে গাজী গ্রুপের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৬ রান।

আবাহনীর বোলারদের মধ্যে তানভীর ইসলাম সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। কামরুল ইসলাম রাব্বি দুটি এবং নাজমুল ইসলাম শান্ত নেন একটি উইকেট।

২৭৭ রানের জবাবে খেলতে নেমে আবাহনীর শুরুটা ছিল প্রত্যাশা মতো। দুই ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুনিম শাহরিয়ার ১১০ রানের জুটি গড়েন। মুনিম ৩৯ বলে ১১ চারে ৬১ রানের ঝড় তুলে আউট হতেই ছন্দপতন ঘটে দলটির ব্যাটিংয়ে। মাহমুদুল হাসান জয় (৫), লিটন দাস (৭), আফিফ হোসেন (৪), শামীম পাটোয়ারি (১১)- কেউই প্রত্যাশিত অবদান রাখতে পারেননি। ফলে আবাহনীর অধিনায়ক মোসাদ্দেকের একার লড়াইও জয় ছিনিতে নিতে যথেষ্ট ছিল না। মোসাদ্দেক ৫০ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৩ রানের ইনিংস খেলেছেন। সবমিলিয়ে ৩৪.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রানে থামে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।

গাজী গ্রুপের বোলারদের মধ্যে আবাহনীকে একাই ভুগিয়েছেন আল আমিন জুনিয়র। এই অফস্পিনার মাত্র ৪.৩ ওভার বোলিং করে ২২ রান দিয়ে তুলে নেন ছয়টি উইকেট। এমন পারফরম্যান্সের পর ম্যাচ সেরার পুরস্কারটিও জেতেন তিনি। এছাড়া সাঈদ সরকার ও ধ্রুব শোরে দুটি করে উইকেট নেন।