এসএ গেমসের ফাইনালে চোখ বাংলাদেশের মেয়েদের

আসন্ন এসএ গেমসে মহিলা ফুটবলের ফাইনালে খেলতে দৃঢ় প্রত্যয়ী প্রথমবারের মতো অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়া ফরোয়ার্ড সাবিনা খাতুন। আগামীকাল বুধবার দেশ ছাড়ার আগে প্রত্যাশা ও প্রস্তুতি নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের শীর্ষ এই মহিলা ফুটবলার।কোচ গোলাম রব্বানীর সঙ্গে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন
এসএ গেমসে নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে সাবিনা বলেন, 'আমরা তিন মাস ধরে এসএ গেমসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। সময়টা যদিও বেশি না, তবে দলের পারফরম্যান্সে অনেক উন্নতি এসেছে। খেলোয়াড়রা অনেক বেশি উজ্জীবিত ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রস্তুত।'

তার মতে বাংলাদেশ দলের আসল প্রতিপক্ষ নেপাল। এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি মনে করি নেপালকে হারাতে পারলেই বাংলাদেশ এসএ গেমস মহিলা ফুটবলের ফাইনালে খেলবে। দলে খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছে নবীন ও প্রবীণদের যথাযথ সংমিশ্রণ। দলে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ শিরোপা জয়ী মেয়েরাও রয়েছে। আর আমরা যারা গত ৪-৫ বছর ধরে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে খেলছি, তারাও অন্যান্যবারের চেয়ে বেশি প্রস্তুত। তাই আমাদের প্রত্যাশা ও লক্ষ্য গতবারের তুলনায় ভালো করা।'

নিজের অভিজ্ঞতা এসএস গেমসে অনেক কাজ লাগবে উল্লেখ্য করে তিনি সাবিনা বলেন, '২০১০ সাল থেকে জাতীয় দলে খেলছি। দেশে ও দেশের বাইরে খেলেছি। মালদ্বীপে ক্লাব ফুটবল খেলেছি। এরপর আমি প্রথম অধিনায়কত্বের গুরু দায়িত্ব পেলাম। দেশকে ভালো কিছু উপহার দিতে চাই। দলকে পরিপূর্ণভাবে সাফল্যে উজ্জীবিত করতে চাই।' 

বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে পারতো না বলেই ব্যর্থতার মুখ দেখতো বলে জানান তিনি। সাবিনা বলেন, 'আমার মনে হয় আমাদের এবারের দল এসব টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল ব্যাপারে অনেক কিছু জেনেছে ও শিখেছে। একজন খেলোয়াড়ের বিভিন্ন পজিশনে যে দায়িত্ব রয়েছে সেটি খেলোয়াড়রা অনেক বেশি রপ্ত করেছেন। তাই এসএ গেমস ফুটবলে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল ফাইনালে খেলবে এটি আমার একমাত্র প্রত্যাশা। ভারত আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে কারণ তাদের রয়েছে ৩০-৪০ বছরের মহিলা ফুটবলের ঐতিহ্য। আমরা এক্ষেত্রে নতুন। তাই ভারতকে এগিয়ে রাখছি আমি।'

মহিলা ফুটবল দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, '২০০৯ সালের পরিপ্রেক্ষিতটা ছিল সাবিনা সাতক্ষীরা থেকে এসে জাতীয় দলের হয়ে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-নেপালের। অধিকাংশ খেলোয়াড়রাই এই বিভাগের অন্তর্ভূক্ত। তাদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিজ্ঞতা ও টেম্পারমেন্ট কোনওটাই ছিল না। এবার আমরা যাচ্ছি কিছু অভিজ্ঞ ফুটবলার নিয়ে। যারা গত তিন চার বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলেছে। আর রয়েছে এএফসি অনূর্ধ্ব ১৪ মহিলা ফুটবলের শিরোপাজয়ী এক ঝাঁক নবীন খেলোয়াড়। তাই আমার মনে হয় আগে যেভাবে প্রতিপক্ষকে ভয় পেয়ে বা বাড়তি সম্মান দিয়ে খেলতে নামতাম সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'এখন বাংলাদেশকেই প্রতিপক্ষ দল সমীহ করে। দলে রয়েছে সাবিনা-স্বপ্না-মিরনার মতো অভিজ্ঞ আর সানজিদা-মার্জিয়ার মতো প্রতিভাবান নবীন খেলোয়াড়। আমি এই দলকে নিয়ে ফাইনালে খেলার আশা করতেই পারি।'

তবে প্রস্তুতি যে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন তা জানিয়ে গোলাম রব্বানি বলেন, একটি ঘাটতি রয়েই গেলো। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারিনি। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারলে খেলোয়াড়রা আরও বেশি আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারতো।

বাংলাদেশের খেলার সূচি

৫ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশ-নেপাল

৭ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশ-ভারত

৯ ফেব্রুয়ারি-বাংলাদেশ-মালদ্বীপ

১৩ ফেব্রুয়ারি-বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা।

/আরএম/এমআর/