মিরাজের ঘূর্ণিতে ২৬৫ রানে শেষ ক্যারিবীয়দের ইনিংস

দ্বিতীয় সেশনে ৩ উইকেট তুলেই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় বাংলাদেশ। তৃতীয় সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরও চেপে ধরায় বেশি দূর যেতে পারেনি স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস। বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম টেস্টে তারা ১১২.৫ ওভারে গুটিয়ে গেছে ২৬৫ রানে। তবে ক্যারিবীয়রা লিড পেয়ে গেছে ১৬২ রানের।

অ্যান্টিগায় দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ছিল মাত্র একটি উইকেট। তাতে প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আধিপত্যই প্রকট হয়ে উঠে। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে দারুণ বোলিংয়ে ৩ উইকেট তুলেই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় সফরকারী দল। চায়ের বিরতিতে যাওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ২৩১ রান। বিরতির পর ফিরে তারা ৩৪ রান যোগ করেই অলআউট হয়ে গেছে।

প্রথম দিন টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ ৩২.৫ ওভারে গুটিয়ে যায় ১০৩ রানে। ব্যতিক্রম ছিলেন শুধু সাকিব। ৬৭ বলে খেলেছেন ৫১ রানের ইনিংস। তাতে ভাগ্যের ছোঁয়াও ছিল অবশ্য।

জবাবে ২ উইকেটে ৯৫ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভাগ্যকে সঙ্গী করেই দ্বিতীয় দিন শুরু করে। প্রথম দিন মুমিনুলের ক্যাচ মিসের পর এদিন ৬৮তম ওভারে মিরাজের বলে আবারও ব্র্যাথওয়েটের ক্যাচ উঠেছিল। কিন্তু ব্যাকওয়ার্ড শর্টলেগে থাকা ফিল্ডার তা হাতে জমাতে পারেননি!

তবে দ্বিতীয় দিনে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ক্যারিবীয়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলেছেন এবাদত, খালেদ, মোস্তাফিজরা। এবাদতের ৫৩ ওভারের শেষ বলটি এজ হয়ে গ্লাভসে জমা পড়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ জোরালো আবেদনই করেনি। রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা গেছে, বল বনারের ব্যাটের কানায় লেগেছিল। বাংলাদেশ রিভিউ নিলেই সাফল্য পেতে পারতো।

সুযোগ আসে খালেদের ৫৮তম ওভারেও। বল বনারের ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে গেলেও ফিল্ডাররা অলস ভঙ্গিতে দাঁড়িয়েছিলেন। তাতে সুযোগ হাতছাড়ার নজির অব্যাহত থাকে এদিনও। যে কারণে, এই সেশনের প্রায় ঘণ্টাখানেক সাফল্যহীন থাকে সফরকারীরা।

শেষ পর্যন্ত সাকিবের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে প্রথম সেশনে পড়ে বনারের উইকেট। দুবার জীবন পাওয়া এই ব্যাটার ৯৬ বল খেলে ফেরেন ৩৩ রানে। তার বিদায়ে ভাঙে ব্র্যাথওয়েট-বনারের ৬২ রানের জুটিও। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনের সাফল্য বলতেও ছিল ওই একটি উইকেট। বিনিময়ে যোগ হয় ৬৪ রান।

তার পরেও ক্যারিবীয় অধিনায়কের দায়িত্বশীল ব্যাটিং স্বাগতিকদের এগিয়ে নিতে থাকে। ব্ল্যাকউডকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে খেলেছেন লাঞ্চ বিরতির পর। টেস্ট মেজাজে খেলে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী করেছেন। ব্ল্যাকউডও যোগ্য সঙ্গ দেন তাকে। ২৬৮ বল খেলে ব্র্যাথওয়েট ৯৪ রানে ফিরলে ভাঙে দুজনের ৬৩ রানের জুটি। তাকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছেন পেসার খালেদ।

ক্যারিবীয় অধিনায়কের বিদায়ে দুর্বল হয়ে পড়ে স্বাগতিকদের প্রতিরোধও। তার পর শুরু হয় মিরাজের ঘূর্ণিজাদু। 

অবশ্য দ্বিতীয় সেশনেও রিভিউ না নিয়ে বোকামি করে বাংলাদেশ। মিরাজের ৯৬.৩ ওভারে এলবিডাব্লিউ ছিলেন ব্ল্যাকউড। রিপ্লেতেও ধরা পড়ে তা। কিন্তু সাকিবরা রিভিউ না নেওয়ায় বেঁচে যান ক্যারিবীয় ব্যাটার।

এর কয়েক ওভার পর অবশ্য একই ‘ভুল’ আর করেনি তারা। মিরাজের বলে এলবিডাব্লিউ হন কাইল মেয়ার্স। শুরুতে আম্পায়ার নট আউট সিদ্ধান্ত দিলেও সাকিব রিভিউ নেন। তাতেই আসে সাফল্য। ২৪ বল খেলা মেয়ার্স ফেরেন ৭ রানে। নতুন নামা জশুয়া ডা সিলভাকেও টিকতে দেননি মিরাজ। তার ঘূর্ণিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১ রানে। তাতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েই সফরকারী দল চায়ের বিরতিতে যায়।

তৃতীয় সেশনের শুরুতে সেই লক্ষ্যে মিরাজই আঘাত হানেন আবার। লেংথ ডেলিভারিতে আলজারি জোসেফকে সোহানের ক্যাচ বানিয়েছেন। তাতে ক্যারিবীয় ব্যাটারের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে শূন্য রানে। মিরাজের উইকেট উৎসবে এটাও নিশ্চিত হয় যে তৃতীয় সেশনে বেশি দূর যাচ্ছে না ক্যারিবীয়দের ইনিংস।

তা প্রমাণও করেন এবাদত হোসেন। দ্রুত কেমার রোচকে তালুবন্দি করান স্লিপে।তবে এই সময়ে অভিষেক হওয়া গুডাকেশ মোটি ও ব্ল্যাকউড মিলে দ্রুত রানও জমা করেন স্কোরবোর্ডে। আগ্রাসী হতে যাওয়া এই জুটি ভাঙেন খালেদ। ১৩৯ বলে ৬৩ রান করা ব্ল্যাকউডকে মিরাজের তালুবন্দি করিয়েছেন।     

এর পর মিরাজ জেইডেন সিলসকে নিজের চতুর্থ শিকার বানালে প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। মোটি ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

সবচেয়ে সফল মিরাজ ৫৯ রানে নেন ৪টি উইকেট। ৫৯ রানে দুটি নেন খালেদ আহমেদ। ৬৫ রানে এবাদত হোসেনও নেন দুটি। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ, সাকিব।