আফিফ ‘জীবন’ পেলেও লিটনের এক রানের আক্ষেপ

প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে টস হারলেও শেষ ম্যাচে টস জিতেছে বাংলাদেশ। গায়ানায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুরুতে ব্যাটিং নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। যদিও তৃতীয় টি-টোয়েন্টির শুরুটা আহামরি ছিল না। পাওয়ার প্লেতে পড়েছে ২ উইকেট। রান উঠে ৪৪। পরে আফিফ-লিটন জুটিতে অবস্থানটা হয়ে দাঁড়ায় সম্ভাবনাময়। লিটনের ফেরায় ভেঙেছে ৫৭ রানের এই জুটি।   

১৪ ওভারে ৩ উইকেটে সফরকারীদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১০৩  রান। ক্রিজে আছেন মাহমুদউল্লাহ (২) ও আফিফ হোসেন (২৭)।   

প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় দেখে শুনে ব্যাটিং করতে থাকেন এনামুল হক-লিটন দাস। তাতে ২.৪ ওভার পর্যন্ত ছিল না কোনও বাউন্ডারি! পরে আস্তে আস্তে হাত খুলতে থাকেন দুজন। তবে পঞ্চম ওভারে বেশি আগ্রাসী হতে যাওয়ার মাশুল দেন এনামুল। মিড উইকেটের ওপর দিয়ে মারতে গেলে ওডিন স্মিথের গতিতে পরাস্ত হন তিনি। বল ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়েন আকিল হোসেনের হাতে। দীর্ঘদিন পর ফেরা এনামুল এই ম্যাচেও করতে পারলেন ১০। খেলেছেন ১১ বল।

সাকিব তার পর নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু গত ম্যাচের ছন্দ এই ম্যাচে টেনে আনতে পারলেন না। রোমারিও শেফার্ডের শর্টার লেংথের বল উঠিয়ে মারতে গিয়েছিলেন। এনামুলের মতো সাকিবও সফট ডিসমিসালে তালুবন্দি হন মাত্র ৫ রানে। ৩ বলের ইনিংসে বাউন্ডারি ছিল একটি।  

তার পর ধীরে চলো গতিতে রান তুলেছেন লিটন-আফিফ। এই জুটিতে ১০ ওভারে ২ উইকেটে স্কোর ছিল ৭২। তার পর কিছু বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারিতে স্কোরবোর্ড হতে থাকে সমৃদ্ধ।

এমন সময়ে হেইডেন ওয়ালশ জুনিয়রের বলে স্লগ করতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দিয়েছিলেন আফিফ। ভাগ্য ভালো উইন্ডিজ ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় জীবন পেয়ে যান তিনি। নাহলে ১৫ রানে ফিরতে হতো এই ব্যাটারকে।

লিটন বেশ দূর এগিয়ে নিলেও হাফসেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে থাকতে কপাল পুড়ে তার। হেইডেনের ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে এজ হয়ে জমা পড়েন আকিল হোসেনের হাতে। তাতে ৪১ বলে ৪৯ রানে ফিরেছেন এই ওপেনার। তার দায়িত্বশীল ইনিংসটিতে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছয়। তাতে ভেঙে যায় ৪৪ বলে আফিফ-লিটনের করা ৫৭ রানের জুটিও। তবে লিটনের বিদায়ের মুহূর্তেই ১২.৫ ওভারে স্কোর হয়ে যায় ৯৯।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টির মতো তৃতীয় ও শেষ ম্যাচেও বৃষ্টি চোখ রাঙাচ্ছিল। আবহাওয়া প্রতিকূল মনে হচ্ছিল সকালের দিকেও। কিন্তু সময় গড়াতেই স্থানীয় সময় বেলা ১২টার দিকে আলো ঝলমলে আকাশ দেখা গেলো গায়ানায়। তবে মাঠ ভেজা থাকায় খেলা শুরু হয়েছে নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা পর। কোনও ওভার কাটা যায়নি।