তাসকিন আহমেদের জায়গায় সুযোগ হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেনের। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়ে অবদান রাখতে পারবেন, এই আস্থাতেই একাদশে জায়গা হয়েছে এই অলরাউন্ডারের। বোলিংয়ে অবদান তিনি শুরুতেই রাখলেন। এই অফ স্পিনারের হাত ধরেই প্রথম উইকেটে এসেছে বাংলাদেশের। এরপর নাসুম আহমেদের ভেল্কিতে দুর্দান্ত শুরু পেয়েছে তামিম ইকবালরা।
বুধবার গায়ানায় দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। স্কোর ১৮ ওভারে ৪ উইকেটে ৪৫ রান।
বাংলাদেশকে শুরুতেই সাফল্য এনে দেন মোসাদ্দেক। উইকেট না হারালেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ছিল মন্থর। বেশ সংগ্রাম করতে হচ্ছিল দুই ওপেনার শাই হোপ ও কাইল মায়ার্সকে। রান খুব বেশি তুলতে না পারলেও উইকেট আগলে রাখছিলেন তারা। অবশেষে তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন মোসাদ্দেক। মায়ার্সকে সরাসরি বোল্ড করে এনে দেন প্রথম উইকেট।
অফ স্টাম্প বরাবর মোসাদ্দেকের গুড লেংথ বল মায়ার্স ফ্রন্ট ফুটে ডিফেন্ড করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি, বল আঘাত করে স্টাম্পে। প্রথম ওয়ানডেতেও এই ব্যাটার একইভাবে আউট হয়েছিলেন। সেবার বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ থাকলেও এবার মোসাদ্দেক। মায়ার্সের ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান।
মোসাদ্দেকের এনে দেওয়া উইকেট উৎসব টেনে নেন নাসুম আহমেদ। এই বাঁহাতি স্পিনার একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ভেঙে দেন ক্যারিবিয়াদের টপ অর্ডার। শামারাহ ব্রুকসকে দিয়ে তার উইকেট আনন্দ শুরু। ওয়ান ডাউনে নামা এই ব্যাটারকে ক্লিন বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরান। যাওয়ার আগে ১৩ বলে করেন মাত্র ৫ রান। এরপর ছেঁটে ফেলেন শাই হোপকে। স্বাগতিক ওপেনার একপ্রান্ত আগলে রেখে আশা জাগালেও সেটা বেশিক্ষণ টিকেনি। নাসুমের ভেল্কিতে তিনি কুপোকাত। এই উইকেটকিপার ব্যাটার মোসাদ্দেককে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৮ রানে। ৪৫ বলের ইনিংসে মেরেছেন মাত্র একটি বাউন্ডারি।
জয় দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে সফরকারীরা। গায়ানার ম্যাচে টস হেরে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও বাংলাদেশের উইনিং কম্বিনেশন ভেঙেছে। পেসার তাসকিন আহমেদকে বসিয়ে নেওয়া হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেনকে। বাড়তি ব্যাটারের সঙ্গে বোলিংয়ের সুবিধা পেতে এই অলরাউন্ডারকে যোগ করেছে বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশে পরিবর্তন দুটি। আলজারি জোসেফ ও কিমো পল এসেছেন জেডেন সিলস ও অ্যান্ডারসন ফিলিপের জায়গায়।
বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন, নাসুম আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: নিকোলাস পুরান (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), শাই হোপ, রোভম্যান পাওয়েল, শামারাহ ব্রুকস, ব্রেন্ডন কিং, কাইল মায়ার্স, রোমারিও শেফার্ড, কিমো পল, গুদাকেশ মোতি, আলজারি জোসেফ, আকিল হোসেন।