‘পরের ধাপে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব’

দীর্ঘদিন পর পঞ্চপাণ্ডব (সাকিব, মুশফিক, তামিম, মাহমুদউল্লাহ ও মাশরাফি) ছাড়া মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ২০১৭ সালেই কুড়ি ওভারের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ শেষ করে তামিম ইকবালও জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর টি-টোয়েন্টি খেলছেন না।

সাকিব আল হাসান জিম্বাবুয়ে সফরের আগেই ছুটি নেওয়ায় বাকি ছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম। কিন্তু তাদের জিম্বাবুয়ে সফর টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিবেচনা করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। অভিজ্ঞদের বিশ্রাম দিয়ে তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়েই দল ঘোষণা করেছে। নতুন এই দলের অধিনায়ক হয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। সফরে যাওয়ার আগে রবিবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন নিজের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা।

প্রশ্ন: অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়ে কেমন লাগছে?

সোহান: এটা অবশ্যই গর্বের ব্যাপার। সামনে যে চ্যালেঞ্জটা আছে, সেটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি। খুব বেশি রোমাঞ্চ বা এসবের কোনও সুযোগ নেই। নেতৃত্ব পাওয়া নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করার কিছু নেই। আমি স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছি। অবশ‍্যই এটা গর্বের ব‍্যাপার। আমার জন‍্য বড় চ‍্যালেঞ্জও।

প্রশ্ন: অধিনায়ক হিসেবে কোথায় কাজ করতে চান?

সোহান: ঘরোয়া ক্রিকেটে যখনই অধিনায়কত্ব করেছি সবসময় মাথায় একটাই চিন্তা থাকে, যেন দল হিসেবে খেলতে পারি। চাই জিম্বাবুয়েতেও দল হিসেবে খেলতে। মূল ব‍্যাপার হলো, দলের পরিবেশ যেন ভালো থাকে। সবাই তো প্রতিদিন পারফর্ম করবে না। আমরা দলের সদস‍্য যারা থাকবো, একজনের সাফল‍্য যেন আরেকজন উপভোগ করতে পারি। আমার কাছে মনে হয় এই সংস্কৃতিটা ও দল হিসেবে খেলাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রশ্ন: টি-টোয়েন্টিতে আমাদের পাওয়ার প্লেতে সমস্যা আছে, নতুন অধিনায়ক হিসেবে এই জায়গাতে আপনার ভাবনা কী?

সোহান: একটা প্রক্রিয়ার ভেতরে অবশ্যই থাকবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে মাত্রই এসেছি, সবার সঙ্গে সামনের সিরিজ নিয়ে কথা হয়নি। জিম্বাবুয়ে গেলে নিশ্চয়ই এটা নিয়ে আলোচনা হবে। টি-টোয়েন্টিতে অবশ‍্যই পাওয়ার প্লের অনেক বড় গুরুত্ব থাকে। আমরা এই জায়গায় উন্নতির চেষ্টা করছি। আশা করছি ভালো করতে পারবো।

প্রশ্ন: মাহমুদউল্লাহর অধিনায়কত্ব থেকে কী নেওয়ার আছে, আর কী বাদ দিতে চান?

সোহান: আমার প্রথম শ্রেণির ক‍্যারিয়ার যখন শুরু হয়, তখন রিয়াদ ভাই (মাহমুদউল্লাহ) ছিল আমার অধিনায়ক। তখন থেকে তার কাছে অনেক কিছু শিখেছি। যে পাঁচ জন সিনিয়র ক্রিকেটার আছেন, মাশরাফি ভাই হয়তো এখন দলে নেই; তাদের সবার কাছ থেকেই শেখার অনেক কিছু আছে। একটা ব‍্যাপার কী, একেকজন একেক রকম। অবশ‍্যই তাদের কাছ থেকে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, আশা করি সম্মিলিতভাবে এর ফল দেখাতে পারবো। বাংলাদেশের ক্রিকেটে সিনিয়রদের অবদান এক-দুই কথায় বলে শেষ করা যাবে না। আমাদের জন‍্য এটা একটা সুযোগ। কারণ, তারা ক্রিকেটকে একটা জায়গায় নিয়ে এসেছেন। আমরা যারা জুনিয়র আছি বা এখন খেলছি তাদের জন‍্য দলকে একধাপ এগিয়ে নেওয়ার এটা একটা সুযোগ।

প্রশ্ন: সিনিয়ররা কী ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন?

সোহান: রিয়াদ ভাই, সাকিব ভাই, মুশফিক ভাই, তামিম ভাই, মাশরাফি ভাই সবার সঙ্গেই কথা হয়েছে। স্বাভাবিক কথাবার্তাই হয়েছে, বিশেষ কিছু না।

প্রশ্ন: অধিনায়ক হিসেবে নতুন কিছু চেষ্টা করতে চান কিনা?

সোহান: কথা তো অনেক কিছুই হয়। এর প্রভাব যেন আমাদের খেলোয়াড়দের ওপর না পড়ে। আপনি যখন ভয়ডরহীন থাকবেন, তখন অনেক অপশন বেরিয়ে আসবে। যখন মনের ভেতর কিছু নিয়ে ভয় কাজ করবে তখন অনেক কিছু নেগেটিভ দিকে যায়। ভীতিহীন ক্রিকেট খেলা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দল হিসেবে এটা যেন খেলতে পারি সেটা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রশ্ন: অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব, নিজের ছাপ কতটা রাখতে পারবেন?

সোহান: একটা প্রক্রিয়ার ভেতর আছি। আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে এসেছি, নির্বাচকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমাকে যখন জানানো হলো তখনও কথা হয়েছে। আমাদের এখানে খুব বেশি অপশন ছিল তা কিন্তু না। যারা কয়েক বছর ধরে খেলছে তারাই খেলছেন। এসব নিয়ে আলোচনা করার যে অনেক সময় ছিল তাও নয়। যে দল পেয়েছি তাতে আমি হ্যাপি।

প্রশ্ন: আপনার ব্যাটিং গড় নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে, এটা কী ভাবছেন?

সোহান: টি-টোয়েন্টিতে আমি যেখানে ব‍্যাটিং করি সেখান থেকে পঞ্চাশ বা একশ’ করার সুযোগ খুব কম থাকে। টিমে চাহিদা অনুযায়ী যতটুকু থাকবে সেই ইম্প‍্যাক্ট ফেলার চেষ্টা করবো। ১৫-২০ রান দেখতে অনেক ছোট লাগতে পারে। তবে এই রান খেলায় কতটা প্রভাব রাখতে পারছে সেখানটাতেই আমার চিন্তা থাকবে। যখন সাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে খেলি, তখন লক্ষ‍্য থাকে দল কী চাচ্ছে সেটা মেটানো।