বাংলাদেশের স্পিনে ধুঁকছে জিম্বাবুয়ে

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাদ পড়েছিলেন নাসুম আহমেদ। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ফিরেই জাদু দেখালেন বাঁহাতি স্পিনার। তিনিই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন প্রথম উইকেট। এরপর উইকেট উদযাপনে যোগ দেন শেখ মেহেদী হাসান। ডানহাতি এই স্পিনারের জোড়া আঘাতে বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে। পরবর্তীতে তার উৎসবের সঙ্গী হন মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ। অর্থাৎ, বাংলাদেশের স্পিনারদের সামনে ভেঙে পড়েছে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইন আপ। 

আজ (মঙ্গলবার) হারারে স্পোর্টস ক্লাবে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। প্রথম দুই ম্যাচ দুই দল জেতায় এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ফাইনাল। সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়ের ১৫ ওভারে স্কোর ৬ উইকেটে ১১০ রান।

জিম্বাবুয়ের শুরুটা হয়েছিল দারুণ। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রেগিস চাকাভা। কিন্তু সেই ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। নাসুমের স্পিনে শেষ হয় তার ইনিংস। এক ম্যাচ বিরতি দিয়ে ফেরা এই স্পিনারের বলে আফিফ হোসেনের হাতে ধরা পড়েন চাকাভা। ফেরার আগে ১০ বলে ২ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ১৭ রান করেন তিনি।

এরপরই মেহেদীর জোড়া আঘাত। প্রথম ম্যাচের দুই নায়ক ওয়েসলি মাদেভেরে ও সিকান্দার রাজাকে ফেরান তিন। মাদেভেরেকে ৫ রানে বোল্ড করে রাজাকে দাঁড়াতেই দেননি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা জিম্বাবুয়েইন ব্যাটারকে প্রথম বলেই দেখান প্যাভিলিয়নের পথ। এই আউটই বাংলাদেশকে এনে দেয় সবচেয়ে বড় স্বস্তি। কারণ প্রথম ম্যাচে রাজাই বলতে গেলে হারিয়ে দিয়েছিল সফরকারীদের। দ্বিতীয় ম্যাচেও চাপের মধ্যে দারুণ ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের উইকেট উৎসব থামেনি। খানিক পরই আবার আঘাত। এবার অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেনের ছোবল। নুরুল হাসান সোহানের চোটে নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া এই অলরাউন্ডার বল হাতে তুলেই পেয়েছেন সাফল্য। শন উইলিয়ামসের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি নিয়েছেন তিনি। তার বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়ার আগে মাত্র ২ রান করেন উইলিয়ামস।

এই সিরিজের আগে টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত অধিনায়ক ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। জিম্বাবুয়ে সফরে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। তবে সোহানের চোটে তিনি ফিরেছেন একাদশে, যদিও শুধুমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে। সে যাইহোক, বল হাতে তুলে নিয়েই পেয়ে গেছেন সাফল্য। নিজের প্রথম বলেই এই স্পিনার আউট করেছেন ক্রেগ আরভিনকে। সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। তবে ২৭ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৪ রানে ফিরতে হয় তাকেও।